Dhaka ০৪:২৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ :
ডিসেম্বরের মধ্যে নতুন মজুরি কাঠামো চূড়ান্ত, শ্রমিকদের বেতন জানুয়ারি থেকে কার্যকর বড়দিন উদযাপনে খ্রিষ্টান কল্যাণ ট্রাস্টকে ৩ কোটি টাকা অনুদান দিলেন প্রধানমন্ত্রী কারখানা বন্ধের চক্রান্ত ও উসকানিকারীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে: সালাহউদ্দিন আহমদ পোশাকশিল্পে টানা অস্থিতিশীলতায় চরম উদ্বিগ্ন উদ্যোক্তারা দেশে কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর ৮৪ শতাংশ অনানুষ্ঠানিক খাতে নিয়োজিত: বিশ্বব্যাংক ভ্যাটসহ প্রতি ভরি ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম দাঁড়াল ২ লাখ ২০ হাজার ৮৫৮ টাকা ডলারের বিনিময় হারে ঊর্ধ্বগতি, ব্যাংকের এমডিদের সতর্ক করলেন গভর্নর উদ্যোক্তাদের অনীহায় বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি কমে ৪.১৭ শতাংশে চার মাসে রেমিট্যান্স প্রবাহে ১৪.৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি নবায়নযোগ্য জ্বালানি এখন আর শুধু সম্ভাবনা নয়, অনিবার্য বাস্তবতা: প্রধানমন্ত্রী

সরকারি গুদামে সার মজুত, তারপরও চরে কৃষকদের হাহাকার

  • সর্বশেষ হালনাগাদ : ০৭:৩১:৩৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬
  • ১৭ বার দেখা হয়েছে

গাইবান্ধার চরাঞ্চলে ভুট্টা চাষের মৌসুম শুরু হলেও সার নিয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন কৃষকরা। সরকারি গুদামে সারের পর্যাপ্ত মজুত থাকার কথা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানালেও, মাঠ পর্যায়ে কৃষকরা সার পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ উঠেছে। কেউ দিনের পর দিন ঘুরে এক বস্তা সার জোগাড় করছেন, আবার কেউ সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে কিনতে বাধ্য হচ্ছেন। অনেকে সার না পেয়ে জমির একাংশে আবাদ শুরু করতে পারেননি।

ফুলছড়ি উপজেলার চর গুপ্তমনিতে ভুট্টা চাষের জন্য সার কিনতে গিয়ে এমন অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন কৃষক আল আমিন। তিনি অভিযোগ করেন, একেক দোকানে একেক দাম চাওয়া হচ্ছে; কোথাও এক বস্তা সারের দাম ১ হাজার ৬০০ টাকা, কোথাও ১ হাজার ৪০০, আবার কোথাও ১ হাজার ৮০০ টাকা। অবশেষে সারাদিন ঘুরে তিনি এক বস্তা সার কিনতে সক্ষম হন।

মঙ্গলবার ভুট্টা চাষের মৌসুমে সারের পরিস্থিতি দেখতে গাইবান্ধার চরে গিয়ে আল আমিনসহ একাধিক কৃষকের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তারা প্রত্যেকেই সার পেতে ভোগান্তি ও অতিরিক্ত দাম নেওয়ার অভিযোগ করেছেন। ফুলছড়ি উপজেলার ফজলুপুর ইউনিয়নের উজলডাঙা গ্রামে ঘোড়ার গাড়িতে করে এক বস্তা সার নিয়ে বাড়ি ফেরার পথে আল আমিন নিজেই সারের সংকটের কথা জানান। তিনি অতিরিক্ত দামের কারণে ইউরিয়া সার না কিনে ডিএপি (ডাই-অ্যামোনিয়াম ফসফেট) সার কিনেছেন। তার দাবি, সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে ৩০০ টাকা বেশি দিয়ে এক বস্তা সার কিনতে হয়েছে তাকে।

চর গুপ্তমনিতে আল আমিনের ১৫ বিঘা জমি রয়েছে। এর মধ্যে এ বছর পাঁচ বিঘায় আমন ধান চাষ করেছেন তিনি। বাকি ১০ বিঘায় ভুট্টা চাষের পরিকল্পনা থাকলেও মৌসুমের শুরুতেই সার সংগ্রহ নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন।

একই চরের কৃষক মোহাম্মদ লিটনের পাঁচ বিঘা জমি রয়েছে। তাকে জমিতে ভুট্টার বীজ বুনতে দেখা গেলেও, এখন পর্যন্ত মাত্র দেড় বিঘার মতো জমিতে সার দিয়ে আবাদ শুরু করতে পেরেছেন। বাকি জমিতে সার না পাওয়ায় তিনি চাষ শুরু করতে পারেননি। লিটন বলেন, সার পেলে আরও জমিতে ভুট্টা লাগাবেন, না পেলে পারবেন না। তার অভিযোগ, কৃষকদের একসঙ্গে বেশি সার দেওয়া হচ্ছে না; ২০ থেকে ৩০ কেজির বেশি মিলছে না।

চরের প্রবীণ কৃষক আতাবর হোসেনও সারের সংকটের কথা জানিয়েছেন। তার ভাষায়, ডিলার ছাড়া সার পাওয়া যায় না, আবার পরিচয়পত্র ছাড়া সার দেওয়া হয় না। সার পাওয়াই এখন কঠিন হয়ে পড়েছে। ষাটোর্ধ্ব আতাবর হোসেন বলেন, ছয় বিঘা জমিতে আমন ধান চাষের সময়ও তিনি সার পাননি। পরে ঘোড়াঘাট থেকে সার সংগ্রহ করতে বাধ্য হন।

জনপ্রিয়

মোংলা বন্দরে দুটি আধুনিক কন্টেইনার জেটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন প্রধানমন্ত্রী

সরকারি গুদামে সার মজুত, তারপরও চরে কৃষকদের হাহাকার

সর্বশেষ হালনাগাদ : ০৭:৩১:৩৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬

গাইবান্ধার চরাঞ্চলে ভুট্টা চাষের মৌসুম শুরু হলেও সার নিয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন কৃষকরা। সরকারি গুদামে সারের পর্যাপ্ত মজুত থাকার কথা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানালেও, মাঠ পর্যায়ে কৃষকরা সার পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ উঠেছে। কেউ দিনের পর দিন ঘুরে এক বস্তা সার জোগাড় করছেন, আবার কেউ সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে কিনতে বাধ্য হচ্ছেন। অনেকে সার না পেয়ে জমির একাংশে আবাদ শুরু করতে পারেননি।

ফুলছড়ি উপজেলার চর গুপ্তমনিতে ভুট্টা চাষের জন্য সার কিনতে গিয়ে এমন অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন কৃষক আল আমিন। তিনি অভিযোগ করেন, একেক দোকানে একেক দাম চাওয়া হচ্ছে; কোথাও এক বস্তা সারের দাম ১ হাজার ৬০০ টাকা, কোথাও ১ হাজার ৪০০, আবার কোথাও ১ হাজার ৮০০ টাকা। অবশেষে সারাদিন ঘুরে তিনি এক বস্তা সার কিনতে সক্ষম হন।

মঙ্গলবার ভুট্টা চাষের মৌসুমে সারের পরিস্থিতি দেখতে গাইবান্ধার চরে গিয়ে আল আমিনসহ একাধিক কৃষকের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তারা প্রত্যেকেই সার পেতে ভোগান্তি ও অতিরিক্ত দাম নেওয়ার অভিযোগ করেছেন। ফুলছড়ি উপজেলার ফজলুপুর ইউনিয়নের উজলডাঙা গ্রামে ঘোড়ার গাড়িতে করে এক বস্তা সার নিয়ে বাড়ি ফেরার পথে আল আমিন নিজেই সারের সংকটের কথা জানান। তিনি অতিরিক্ত দামের কারণে ইউরিয়া সার না কিনে ডিএপি (ডাই-অ্যামোনিয়াম ফসফেট) সার কিনেছেন। তার দাবি, সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে ৩০০ টাকা বেশি দিয়ে এক বস্তা সার কিনতে হয়েছে তাকে।

চর গুপ্তমনিতে আল আমিনের ১৫ বিঘা জমি রয়েছে। এর মধ্যে এ বছর পাঁচ বিঘায় আমন ধান চাষ করেছেন তিনি। বাকি ১০ বিঘায় ভুট্টা চাষের পরিকল্পনা থাকলেও মৌসুমের শুরুতেই সার সংগ্রহ নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন।

একই চরের কৃষক মোহাম্মদ লিটনের পাঁচ বিঘা জমি রয়েছে। তাকে জমিতে ভুট্টার বীজ বুনতে দেখা গেলেও, এখন পর্যন্ত মাত্র দেড় বিঘার মতো জমিতে সার দিয়ে আবাদ শুরু করতে পেরেছেন। বাকি জমিতে সার না পাওয়ায় তিনি চাষ শুরু করতে পারেননি। লিটন বলেন, সার পেলে আরও জমিতে ভুট্টা লাগাবেন, না পেলে পারবেন না। তার অভিযোগ, কৃষকদের একসঙ্গে বেশি সার দেওয়া হচ্ছে না; ২০ থেকে ৩০ কেজির বেশি মিলছে না।

চরের প্রবীণ কৃষক আতাবর হোসেনও সারের সংকটের কথা জানিয়েছেন। তার ভাষায়, ডিলার ছাড়া সার পাওয়া যায় না, আবার পরিচয়পত্র ছাড়া সার দেওয়া হয় না। সার পাওয়াই এখন কঠিন হয়ে পড়েছে। ষাটোর্ধ্ব আতাবর হোসেন বলেন, ছয় বিঘা জমিতে আমন ধান চাষের সময়ও তিনি সার পাননি। পরে ঘোড়াঘাট থেকে সার সংগ্রহ করতে বাধ্য হন।