রাজধানীর ঢাকা-৬ সংসদীয় আসনকে পুরোপুরি মাদকমুক্ত করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ও স্থানীয় সংসদ সদস্য ইশরাক হোসেন। মাদক কারবারে জড়িতদের কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, অপরাধী যে দলেরই হোক না কেন, কাউকে বিন্দুমাত্র ছাড় দেওয়া হবে না। এমনকি নিজ দলের কেউ জড়িত থাকলেও তাদের বিরুদ্ধে নেওয়া হবে আরও কঠোর পদক্ষেপ।
মঙ্গলবার ঢাকা-৬ আসনের অন্তর্গত গেন্ডারিয়া থানার ৪৫ নম্বর ওয়ার্ডের রেললাইন-সংলগ্ন একটি বস্তিতে মাদকবিরোধী আকস্মিক অভিযান পরিচালনা করেন প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন। অভিযান চলাকালে মাদক কারবারে জড়িত থাকার সন্দেহে ছয়জনকে হাতেনাতে আটক করা হয়।
অভিযান চলাকালে স্থানীয়দের উদ্দেশে প্রতিমন্ত্রী বলেন, এলাকায় যারা মাদকের কারবার করে, তাদের স্থান ঢাকা-৬ আসনে হবে না। বিগত স্বৈরাচার সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র আন্দোলন গড়ে তুলে তাদের পতন ঘটানো হয়েছে, সেই তুলনায় মাদক কারবারিদের দমন করা অসম্ভব কিছু নয়। মাদকের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তি যত প্রভাবশালীই হোক এবং যে রাজনৈতিক পরিচয়েরই হোক না কেন, কোনো রেহাই মিলবে না; নিজ দলের হলে শাস্তি আরও কঠোর হবে।
মাদকের কুফল তুলে ধরে তিনি আরও জানান, মাদকের ছোবলে তরুণ সমাজ ধ্বংসের মুখে পড়ছে। এজন্য গত ছয় মাস ধরে প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। যারা বাইরে থেকে এসে এলাকায় মাদক সরবরাহ করছে, তাদের ধরিয়ে দিতে স্থানীয়দের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি। এই আসন থেকে শুরু হওয়া এ অভিযান দেশজুড়ে ছড়িয়ে দেওয়া হবে এবং দেশের মাটিতে মাদকের কোনো স্থান থাকবে না বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
অভিযানের সময় আটক ব্যক্তিরা রেহাই পাওয়ার আকুতি জানালে প্রতিমন্ত্রী তাদের আশ্বস্ত করে বলেন, তাদের গায়ে কেউ হাত তুলবে না। দেশে আইনের শাসন কায়েম রয়েছে এবং আইনি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়েই পুলিশ ব্যবস্থা নিয়ে তাদের বিচারের আওতায় আনবে।
এর আগেও ঢাকা-৬ আসনের বিভিন্ন স্থানে মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনা করেছিলেন প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন। এলাকাকে মাদকমুক্ত করতে তিনি সাধারণ মানুষের সার্বিক সহায়তা কামনা করেছেন।
ঘটনার বিষয়ে গেন্ডারিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুজ্জামান মনির জানান, প্রতিমন্ত্রী ছয়জনকে আটকের পর খবর দিলে তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশ সদস্যরা গিয়ে তাদের নিজেদের হেফাজতে নেন এবং পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়া শুরু করেন।






















