মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত, সৌদি আরবে আক্রমণ বৃদ্ধি এবং রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়ায় দেশে জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিকল্প উৎসের ওপর গুরুত্ব জোরদার করছে সরকার। তেল আমদানি অব্যাহত রাখার পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি সুরক্ষার জন্য নতুন উৎস থেকে এলএনজি কেনার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। বিশ্ববাজারে জ্বালানি ও সারের দাম বাড়ায় সরকারের অতিরিক্ত আর্থিক চাপ সামলাতে আন্তর্জাতিক অংশীদারদের কাছে ঋণ ও বাড়তি সহায়তার আহ্বান জানানো হচ্ছে।
এরই মধ্যে সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি ট্রাফিগুরা পিটিই লিমিটেড থেকে ৯ কার্গো এলএনজি আমদানির প্রস্তাব অনুমোদন করেছে, যার সভায় সভাপতিত্ব করেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) দেওয়া তথ্যমতে, ডিসেম্বর পর্যন্ত তেলের সরবরাহ নিশ্চিতে টেন্ডার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। তবে নরওয়ে, নাইজেরিয়া, মালয়েশিয়া ও আলজেরিয়ার মতো দেশ থেকেও অপরিশোধিত তেল আমদানির পথগুলো যাচাই করা হচ্ছে।
জ্বালানি সংকট ও মূল্যস্ফীতির ধাক্কা মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক ইসলামিক ট্রেড ফাইন্যান্স করপোরেশন (আইটিএফসি) এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের যৌথ সহ-অর্থায়নে ৩১০ কোটি ডলারের ঋণ মঞ্জুর করেছে অর্থ মন্ত্রণালয়। আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংকের বার্ষিক বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর অতিরিক্ত ব্যয়ের চিত্র তুলে ধরে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও সহায়তা সম্প্রসারণের কথা পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে উপস্থাপন করেন। বিশ্বব্যাংক ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর জন্য সংকটকালীন জরুরি তহবিলের কথা ভাবছে, যেখান থেকে বাংলাদেশও বাড়তি সহায়তার জন্য আলোচনা চালাচ্ছে।
এদিকে বিদ্যুতের দ্রুত অবকাঠামোগত মানোন্নয়নে চায়না এক্সিম ব্যাংকের প্রেসিডেন্ট ওয়াং চুনইংয়ের সঙ্গে বৈঠকে মিলিত হন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ। বৈঠকে পায়রা বিদ্যুৎকেন্দ্র সম্প্রসারণ, পাওয়ার গ্রিড নেটওয়ার্ক শক্তিশালীকরণ এবং সঞ্চালন খাত উন্নত করতে দ্রুত ঋণ ছাড়ের অনুরোধ জানানো হয়। সংঘাতময় পরিস্থিতিতে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে আন্তর্জাতিক বিনিয়োগের সমন্বয়ে দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক স্থায়িত্ব বজায় রাখাই এখন সরকারের মূল অগ্রাধিকার।


























