Dhaka ১০:৩৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ :
ডিসেম্বরের মধ্যে নতুন মজুরি কাঠামো চূড়ান্ত, শ্রমিকদের বেতন জানুয়ারি থেকে কার্যকর বড়দিন উদযাপনে খ্রিষ্টান কল্যাণ ট্রাস্টকে ৩ কোটি টাকা অনুদান দিলেন প্রধানমন্ত্রী কারখানা বন্ধের চক্রান্ত ও উসকানিকারীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে: সালাহউদ্দিন আহমদ পোশাকশিল্পে টানা অস্থিতিশীলতায় চরম উদ্বিগ্ন উদ্যোক্তারা দেশে কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর ৮৪ শতাংশ অনানুষ্ঠানিক খাতে নিয়োজিত: বিশ্বব্যাংক ভ্যাটসহ প্রতি ভরি ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম দাঁড়াল ২ লাখ ২০ হাজার ৮৫৮ টাকা ডলারের বিনিময় হারে ঊর্ধ্বগতি, ব্যাংকের এমডিদের সতর্ক করলেন গভর্নর উদ্যোক্তাদের অনীহায় বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি কমে ৪.১৭ শতাংশে চার মাসে রেমিট্যান্স প্রবাহে ১৪.৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি নবায়নযোগ্য জ্বালানি এখন আর শুধু সম্ভাবনা নয়, অনিবার্য বাস্তবতা: প্রধানমন্ত্রী

উন্নয়নকাজে কমিশন বাণিজ্যের সুযোগ দেওয়া হবে না: আইনমন্ত্রী

  • সর্বশেষ হালনাগাদ : ১০:১৮:১৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬
  • ৮ বার দেখা হয়েছে

সরকারি উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে কোনো ধরনের অনিয়ম, দুর্নীতি ও কমিশন বাণিজ্যের সুযোগ দেওয়া হবে না বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। তিনি মনে করিয়ে দেন যে, সরকারের প্রতিটি রূপরেখা ও আর্থিক বরাদ্দ সাধারণ মানুষের কষ্টার্জিত করের অর্থ। তাই উন্নয়ন প্রকল্পের সঠিক বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে স্থানীয় নাগরিকদের সক্রিয় পর্যবেক্ষণ জোরদার করার তাগিদ দেন তিনি। কোথাও কোনো অনিয়ম পরিলক্ষিত হলে দেরি না করে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক মহলে অভিযোগ দায়ের করার আহ্বান জানান তিনি।

গত শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) সন্ধ্যায় রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ (আইইবি), রমনায় আয়োজিত ‘ঢাকাস্থ শৈলকূপা উপজেলার ৩ নং দিগনগর ইউনিয়ন কল্যাণ সংস্থা’-র বার্ষিক সাধারণ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা তুলে ধরেন।

আইনমন্ত্রী বলেন, একজন জনপ্রতিনিধির একার পক্ষে পুরো এলাকার সমস্ত জটিলতা দূর করা কোনোভাবেই সম্ভব নয়। এজন্য বিভিন্ন অরাজনৈতিক সামাজিক সংগঠন এবং সচেতন নাগরিকদের স্বেচ্ছায় এগিয়ে আসা জরুরি। সাধারণ মানুষের গঠনমূলক পরামর্শ, স্বাধীন মতামত এবং বাস্তবভিত্তিক সমালোচনা একজন প্রতিনিধিকে সঠিক পথে পরিচালিত করতে সাহায্য করে। নাগরিকরা যদি জনপ্রতিনিধিদের ভুলত্রুটি ধরে না দেন, তবে তাদের ভুল পথে পরিচালিত হওয়ার আশঙ্কা সৃষ্টি হয়। ফলশ্রুতিতে অবকাঠামোগত উন্নয়নের পাশাপাশি রাষ্ট্রের সামগ্রিক কার্যক্রমে জনগণের সরাসরি অংশগ্রহণ থাকা অপরিহার্য।

জনগণের তহবিলের সঠিক ব্যবহারের ওপর জোরালো তাগিদ দিয়ে তিনি উল্লেখ করেন, এলাকাভিত্তিক যেকোনো সড়ক বা অবকাঠামো নির্মাণে যদি নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের প্রমাণ পাওয়া যায়, তবে দায়িত্বপ্রাপ্ত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এবং সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক নালিশ জানাতে হবে। রাষ্ট্রের অর্থে গৃহীত সব ধরনের প্রকল্পের কাজের গুণগত মান রক্ষা করা সমাজের সকলের যৌথ দায়িত্ব।

প্রশাসনিক কার্যক্রমে গতিশীলতা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিতের প্রসঙ্গে মন্ত্রী জানান, দুর্নীতির সুযোগ বন্ধ করতে সরকারের পক্ষ থেকে বেশ কিছু বৈপ্লবিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এরই অংশ হিসেবে সম্প্রতি ঢাকা শহরের সাব-রেজিস্ট্রার বদলি প্রক্রিয়ায় লটারি প্রথা চালু করা হয়েছে। বদলির ক্ষেত্রে যেকোনো ধরণের প্রভাব বিস্তার রোধ, স্বচ্ছতা আনয়ন এবং এই সংক্রান্ত দীর্ঘদিনের নেতিবাচক ধারণা মুছে ফেলার লক্ষ্যেই এমন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

মাদকবিরোধী জিরো টলারেন্স নীতি ঘোষণা করে তিনি বলেন, শৈলকূপা এলাকায় মাদকের বিস্তার রোধে কঠোর অবস্থান গ্রহণ করা হয়েছে। অপরাধ সংঘটিত হলে দলীয় পরিচয় কিংবা সামাজিকভাবে প্রভাবশালী কি না, তা বিচার না করে সরাসরি আইনের প্রয়োগ ঘটাতে হবে। মাদক সংক্রান্ত অপরাধ বা যেকোনো আইনি অপরাধে জড়িয়ে পড়া ব্যক্তির পক্ষে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে সুপারিশ বা তদবির করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। একই সাথে মামলার সঠিক তদন্ত ও আইনি বিচার প্রক্রিয়ায় অন্যায় প্রভাব ফেলার যেকোনো অপচেষ্টা শক্ত হাতে প্রতিহত করা হবে।

তিনি আরও জোর দিয়ে বলেন, রাজনৈতিক প্রতিহিংসা, ঘরবাড়িতে অতর্কিত হামলা, ভাঙচুর, মালামাল লুটপাট এবং দলবদ্ধভাবে সাধারণ মানুষকে হেনস্তা করার মতো অপসংস্কৃতির বিরুদ্ধে আমাদের অবস্থান স্পষ্ট। অন্যায় ও দুর্নীতির পক্ষে কোনো সাফাই না গেয়ে সমাজ থেকে অবিচার দূর করতে নিরপেক্ষতা বজায় রাখা অপরিহার্য।

শৈলকূপা অঞ্চলের ভৌগোলিক উন্নয়নের বিষয়ে তথ্য প্রদান করে আইনমন্ত্রী জানান, উপজেলাজুড়ে বর্তমানে অসংখ্য রাস্তাঘাট সম্প্রসারণের প্রকল্প প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। সম্প্রতি শৈলকূপার আরও প্রায় ৩৯৫টি কাঁচা ও আধাপাকা সড়ক স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে এই উপজেলার সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থার ব্যাপক আমূল পরিবর্তনের আশা ব্যক্ত করেন তিনি।

এলাকার উন্নয়নে সব শ্রেণি-পেশার মানুষকে অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা তুলে ধরে তিনি বলেন, শিক্ষাব্যবস্থা, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও অবকাঠামো উন্নয়নে পৃথক সাব-কমিটি গঠন করা হয়েছে, যেন রাজনীতিমুক্ত থেকে এলাকার গুণীজন ও পেশাজীবীরা একযোগে কাজ করার সুযোগ পান।

পরিশেষে আইনমন্ত্রী স্মরণ করিয়ে দেন, দেশের টেকসই উন্নয়ন ও সুশাসন নিশ্চিত করতে সরকার ও সাধারণ মানুষকে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করতে হবে। দায়িত্বশীল নাগরিক অংশগ্রহণ, গঠনমূলক সমালোচনা এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার মাধ্যমেই একটি সাম্য ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজ বিনির্মাণ সম্ভব।

জনপ্রিয়

মোংলা বন্দরে দুটি আধুনিক কন্টেইনার জেটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন প্রধানমন্ত্রী

উন্নয়নকাজে কমিশন বাণিজ্যের সুযোগ দেওয়া হবে না: আইনমন্ত্রী

সর্বশেষ হালনাগাদ : ১০:১৮:১৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬

সরকারি উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে কোনো ধরনের অনিয়ম, দুর্নীতি ও কমিশন বাণিজ্যের সুযোগ দেওয়া হবে না বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। তিনি মনে করিয়ে দেন যে, সরকারের প্রতিটি রূপরেখা ও আর্থিক বরাদ্দ সাধারণ মানুষের কষ্টার্জিত করের অর্থ। তাই উন্নয়ন প্রকল্পের সঠিক বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে স্থানীয় নাগরিকদের সক্রিয় পর্যবেক্ষণ জোরদার করার তাগিদ দেন তিনি। কোথাও কোনো অনিয়ম পরিলক্ষিত হলে দেরি না করে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক মহলে অভিযোগ দায়ের করার আহ্বান জানান তিনি।

গত শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) সন্ধ্যায় রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ (আইইবি), রমনায় আয়োজিত ‘ঢাকাস্থ শৈলকূপা উপজেলার ৩ নং দিগনগর ইউনিয়ন কল্যাণ সংস্থা’-র বার্ষিক সাধারণ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা তুলে ধরেন।

আইনমন্ত্রী বলেন, একজন জনপ্রতিনিধির একার পক্ষে পুরো এলাকার সমস্ত জটিলতা দূর করা কোনোভাবেই সম্ভব নয়। এজন্য বিভিন্ন অরাজনৈতিক সামাজিক সংগঠন এবং সচেতন নাগরিকদের স্বেচ্ছায় এগিয়ে আসা জরুরি। সাধারণ মানুষের গঠনমূলক পরামর্শ, স্বাধীন মতামত এবং বাস্তবভিত্তিক সমালোচনা একজন প্রতিনিধিকে সঠিক পথে পরিচালিত করতে সাহায্য করে। নাগরিকরা যদি জনপ্রতিনিধিদের ভুলত্রুটি ধরে না দেন, তবে তাদের ভুল পথে পরিচালিত হওয়ার আশঙ্কা সৃষ্টি হয়। ফলশ্রুতিতে অবকাঠামোগত উন্নয়নের পাশাপাশি রাষ্ট্রের সামগ্রিক কার্যক্রমে জনগণের সরাসরি অংশগ্রহণ থাকা অপরিহার্য।

জনগণের তহবিলের সঠিক ব্যবহারের ওপর জোরালো তাগিদ দিয়ে তিনি উল্লেখ করেন, এলাকাভিত্তিক যেকোনো সড়ক বা অবকাঠামো নির্মাণে যদি নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের প্রমাণ পাওয়া যায়, তবে দায়িত্বপ্রাপ্ত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এবং সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক নালিশ জানাতে হবে। রাষ্ট্রের অর্থে গৃহীত সব ধরনের প্রকল্পের কাজের গুণগত মান রক্ষা করা সমাজের সকলের যৌথ দায়িত্ব।

প্রশাসনিক কার্যক্রমে গতিশীলতা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিতের প্রসঙ্গে মন্ত্রী জানান, দুর্নীতির সুযোগ বন্ধ করতে সরকারের পক্ষ থেকে বেশ কিছু বৈপ্লবিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এরই অংশ হিসেবে সম্প্রতি ঢাকা শহরের সাব-রেজিস্ট্রার বদলি প্রক্রিয়ায় লটারি প্রথা চালু করা হয়েছে। বদলির ক্ষেত্রে যেকোনো ধরণের প্রভাব বিস্তার রোধ, স্বচ্ছতা আনয়ন এবং এই সংক্রান্ত দীর্ঘদিনের নেতিবাচক ধারণা মুছে ফেলার লক্ষ্যেই এমন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

মাদকবিরোধী জিরো টলারেন্স নীতি ঘোষণা করে তিনি বলেন, শৈলকূপা এলাকায় মাদকের বিস্তার রোধে কঠোর অবস্থান গ্রহণ করা হয়েছে। অপরাধ সংঘটিত হলে দলীয় পরিচয় কিংবা সামাজিকভাবে প্রভাবশালী কি না, তা বিচার না করে সরাসরি আইনের প্রয়োগ ঘটাতে হবে। মাদক সংক্রান্ত অপরাধ বা যেকোনো আইনি অপরাধে জড়িয়ে পড়া ব্যক্তির পক্ষে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে সুপারিশ বা তদবির করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। একই সাথে মামলার সঠিক তদন্ত ও আইনি বিচার প্রক্রিয়ায় অন্যায় প্রভাব ফেলার যেকোনো অপচেষ্টা শক্ত হাতে প্রতিহত করা হবে।

তিনি আরও জোর দিয়ে বলেন, রাজনৈতিক প্রতিহিংসা, ঘরবাড়িতে অতর্কিত হামলা, ভাঙচুর, মালামাল লুটপাট এবং দলবদ্ধভাবে সাধারণ মানুষকে হেনস্তা করার মতো অপসংস্কৃতির বিরুদ্ধে আমাদের অবস্থান স্পষ্ট। অন্যায় ও দুর্নীতির পক্ষে কোনো সাফাই না গেয়ে সমাজ থেকে অবিচার দূর করতে নিরপেক্ষতা বজায় রাখা অপরিহার্য।

শৈলকূপা অঞ্চলের ভৌগোলিক উন্নয়নের বিষয়ে তথ্য প্রদান করে আইনমন্ত্রী জানান, উপজেলাজুড়ে বর্তমানে অসংখ্য রাস্তাঘাট সম্প্রসারণের প্রকল্প প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। সম্প্রতি শৈলকূপার আরও প্রায় ৩৯৫টি কাঁচা ও আধাপাকা সড়ক স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে এই উপজেলার সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থার ব্যাপক আমূল পরিবর্তনের আশা ব্যক্ত করেন তিনি।

এলাকার উন্নয়নে সব শ্রেণি-পেশার মানুষকে অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা তুলে ধরে তিনি বলেন, শিক্ষাব্যবস্থা, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও অবকাঠামো উন্নয়নে পৃথক সাব-কমিটি গঠন করা হয়েছে, যেন রাজনীতিমুক্ত থেকে এলাকার গুণীজন ও পেশাজীবীরা একযোগে কাজ করার সুযোগ পান।

পরিশেষে আইনমন্ত্রী স্মরণ করিয়ে দেন, দেশের টেকসই উন্নয়ন ও সুশাসন নিশ্চিত করতে সরকার ও সাধারণ মানুষকে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করতে হবে। দায়িত্বশীল নাগরিক অংশগ্রহণ, গঠনমূলক সমালোচনা এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার মাধ্যমেই একটি সাম্য ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজ বিনির্মাণ সম্ভব।