Dhaka ০৫:০৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ :
ডিসেম্বরের মধ্যে নতুন মজুরি কাঠামো চূড়ান্ত, শ্রমিকদের বেতন জানুয়ারি থেকে কার্যকর বড়দিন উদযাপনে খ্রিষ্টান কল্যাণ ট্রাস্টকে ৩ কোটি টাকা অনুদান দিলেন প্রধানমন্ত্রী কারখানা বন্ধের চক্রান্ত ও উসকানিকারীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে: সালাহউদ্দিন আহমদ পোশাকশিল্পে টানা অস্থিতিশীলতায় চরম উদ্বিগ্ন উদ্যোক্তারা দেশে কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর ৮৪ শতাংশ অনানুষ্ঠানিক খাতে নিয়োজিত: বিশ্বব্যাংক ভ্যাটসহ প্রতি ভরি ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম দাঁড়াল ২ লাখ ২০ হাজার ৮৫৮ টাকা ডলারের বিনিময় হারে ঊর্ধ্বগতি, ব্যাংকের এমডিদের সতর্ক করলেন গভর্নর উদ্যোক্তাদের অনীহায় বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি কমে ৪.১৭ শতাংশে চার মাসে রেমিট্যান্স প্রবাহে ১৪.৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি নবায়নযোগ্য জ্বালানি এখন আর শুধু সম্ভাবনা নয়, অনিবার্য বাস্তবতা: প্রধানমন্ত্রী

ঋণ পাওয়ার ক্ষেত্রে শর্তপূরণের তাগিদ দিল আন্তর্জাতিক সংস্থা আইএমএফ

  • সর্বশেষ হালনাগাদ : ০৪:০৩:১১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬
  • ১৮ বার দেখা হয়েছে

আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)-এর আর্থিক সহায়তা পেতে হলে সংস্থাটির আরোপিত বেশ কিছু শর্ত বাস্তবায়ন করতে হবে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

তিনি স্পষ্ট করেন, আইএমএফের সাথে সরকারের নতুন অর্থনৈতিক প্যাকেজ বা কর্মসূচি নিয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা সম্পন্ন হয়েছে। তাদের ঋণ সুবিধার বিপরীতে নির্দিষ্ট কিছু শর্তাবলী থাকবে এবং সেগুলো অক্ষমে না গিয়ে পূরণও করা হবে। তবে কিছু সংবেদনশীল বিষয়ে পারস্পরিক আলোচনার মাধ্যমে মাঝামাঝি একটি সমঝোতায় পৌঁছাবে উভয় পক্ষ।

গত বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককের কিউএসএনসিসি বা কুইন সিরিকিত ন্যাশনাল কনভেনশন সেন্টারে আয়োজিত আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) ও বিশ্বব্যাংক গ্রুপের বার্ষিক সম্মেলনের চতুর্থ দিনে সংস্থাটির উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক (ডিএমডি) নাইজেল ক্লার্কের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক শেষে গণমাধ্যমকর্মীদের মুখোমুখি হয়ে অর্থমন্ত্রী এসব তথ্য প্রকাশ করেন।

অর্থমন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন, নতুন আর্থিক কর্মসূচি গ্রহণের আলোচনা অত্যন্ত ইতিবাচক গতিতে সামনের দিকে এগোচ্ছে। তবে এই নতুন চুক্তির অধীনে ঠিক কী ধাঁচের শর্তাবলী যুক্ত করা হচ্ছে এবং সেগুলো কোন উপায়ে অর্জিত হবে, সে বিষয়ে নিকট ভবিষ্যতে আরও বিশদ আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে। কিছু ক্ষেত্রে দ্বিপাক্ষিক আলোচনা ও সমঝোতার মাধ্যমেই সঠিক সমাধানে পৌঁছানো সম্ভব হবে।

তিনি জানান, দেশের ব্যাংকিং খাত সংস্কার, কর-জিডিপির অনুপাত বৃদ্ধি, ব্যাংকগুলোর পুনঃমূলধনীকরণ এবং সামষ্টিক অর্থনীতির সামগ্রিক স্থায়িত্ব আনয়নসহ বিভিন্ন বিষয়ে আইএমএফের নিজস্ব পর্যবেক্ষণ রয়েছে। এসব পর্যবেক্ষণের সাথে বাংলাদেশ সরকারও নীতিগতভাবে একমত পোষণ করেছে। ইতোমধ্যে বেশ কিছু জটিল বিষয়ের সমাধান করা সম্ভব হয়েছে এবং অবশিষ্ট বিষয়গুলো নিয়ে দ্বিপাক্ষিক আলোচনার পথ খোলা রাখা হয়েছে।

অর্থনৈতিক রূপরেখা বা সংস্কারের নির্ভরযোগ্যতা নিয়ে আন্তর্জাতিক সংস্থাটির মনে কোনো সংশয় রয়েছে কি না—সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের মুখে অর্থমন্ত্রী মন্তব্য করেন, আমাদের নিজস্ব কিছু পর্যবেক্ষণ যেমন রয়েছে, তেমনি ব্যাংকিং কাঠামো ও কর-জিডিপির হার বৃদ্ধি নিয়ে তাদেরও সুনির্দিষ্ট পর্যবেক্ষণ আছে। আমরা সেই সব পর্যবেক্ষণের যৌক্তিকতা স্বীকার করি এবং ইতোমধ্যে বহু শর্ত ও চাওয়া পূরণ করা সম্ভব হয়েছে।

দেশের সাম্প্রতিক সময়ের অর্থনৈতিক সাফল্য ও অগ্রগতিতে আইএমএফ সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছে বলেও নিশ্চিত করেন অর্থমন্ত্রী। তাঁর ভাষ্যমতে, জাতীয় বাজেট পরবর্তী আর্থিক অগ্রগতি এবং মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক উত্তেজনা ও যুদ্ধাবস্থাসহ বহুমুখী বৈশ্বিক প্রতিবন্ধকতার মধ্যেও বাংলাদেশ যেভাবে পথ চলেছে, তা সংস্থাটির প্রশংসা কুড়িয়েছে।

তিনি আরও জানান, কেবল এককভাবে আইএমএফ নয়; বরং বিশ্বব্যাংকসহ আন্তর্জাতিক অন্যান্য বহুপাক্ষিক উন্নয়ন সহযোগীদের সঙ্গেও সমতার ভিত্তিতে কাজ চালিয়ে যাবে বাংলাদেশ। আগামী দিনের জাতীয় অর্থনীতিকে গতিশীল ও বেগবান করতে এই সমস্ত আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে গঠনমূলক আলোচনা অব্যাহত থাকবে।

জনপ্রিয়

মোংলা বন্দরে দুটি আধুনিক কন্টেইনার জেটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন প্রধানমন্ত্রী

ঋণ পাওয়ার ক্ষেত্রে শর্তপূরণের তাগিদ দিল আন্তর্জাতিক সংস্থা আইএমএফ

সর্বশেষ হালনাগাদ : ০৪:০৩:১১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬

আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)-এর আর্থিক সহায়তা পেতে হলে সংস্থাটির আরোপিত বেশ কিছু শর্ত বাস্তবায়ন করতে হবে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

তিনি স্পষ্ট করেন, আইএমএফের সাথে সরকারের নতুন অর্থনৈতিক প্যাকেজ বা কর্মসূচি নিয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা সম্পন্ন হয়েছে। তাদের ঋণ সুবিধার বিপরীতে নির্দিষ্ট কিছু শর্তাবলী থাকবে এবং সেগুলো অক্ষমে না গিয়ে পূরণও করা হবে। তবে কিছু সংবেদনশীল বিষয়ে পারস্পরিক আলোচনার মাধ্যমে মাঝামাঝি একটি সমঝোতায় পৌঁছাবে উভয় পক্ষ।

গত বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককের কিউএসএনসিসি বা কুইন সিরিকিত ন্যাশনাল কনভেনশন সেন্টারে আয়োজিত আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) ও বিশ্বব্যাংক গ্রুপের বার্ষিক সম্মেলনের চতুর্থ দিনে সংস্থাটির উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক (ডিএমডি) নাইজেল ক্লার্কের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক শেষে গণমাধ্যমকর্মীদের মুখোমুখি হয়ে অর্থমন্ত্রী এসব তথ্য প্রকাশ করেন।

অর্থমন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন, নতুন আর্থিক কর্মসূচি গ্রহণের আলোচনা অত্যন্ত ইতিবাচক গতিতে সামনের দিকে এগোচ্ছে। তবে এই নতুন চুক্তির অধীনে ঠিক কী ধাঁচের শর্তাবলী যুক্ত করা হচ্ছে এবং সেগুলো কোন উপায়ে অর্জিত হবে, সে বিষয়ে নিকট ভবিষ্যতে আরও বিশদ আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে। কিছু ক্ষেত্রে দ্বিপাক্ষিক আলোচনা ও সমঝোতার মাধ্যমেই সঠিক সমাধানে পৌঁছানো সম্ভব হবে।

তিনি জানান, দেশের ব্যাংকিং খাত সংস্কার, কর-জিডিপির অনুপাত বৃদ্ধি, ব্যাংকগুলোর পুনঃমূলধনীকরণ এবং সামষ্টিক অর্থনীতির সামগ্রিক স্থায়িত্ব আনয়নসহ বিভিন্ন বিষয়ে আইএমএফের নিজস্ব পর্যবেক্ষণ রয়েছে। এসব পর্যবেক্ষণের সাথে বাংলাদেশ সরকারও নীতিগতভাবে একমত পোষণ করেছে। ইতোমধ্যে বেশ কিছু জটিল বিষয়ের সমাধান করা সম্ভব হয়েছে এবং অবশিষ্ট বিষয়গুলো নিয়ে দ্বিপাক্ষিক আলোচনার পথ খোলা রাখা হয়েছে।

অর্থনৈতিক রূপরেখা বা সংস্কারের নির্ভরযোগ্যতা নিয়ে আন্তর্জাতিক সংস্থাটির মনে কোনো সংশয় রয়েছে কি না—সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের মুখে অর্থমন্ত্রী মন্তব্য করেন, আমাদের নিজস্ব কিছু পর্যবেক্ষণ যেমন রয়েছে, তেমনি ব্যাংকিং কাঠামো ও কর-জিডিপির হার বৃদ্ধি নিয়ে তাদেরও সুনির্দিষ্ট পর্যবেক্ষণ আছে। আমরা সেই সব পর্যবেক্ষণের যৌক্তিকতা স্বীকার করি এবং ইতোমধ্যে বহু শর্ত ও চাওয়া পূরণ করা সম্ভব হয়েছে।

দেশের সাম্প্রতিক সময়ের অর্থনৈতিক সাফল্য ও অগ্রগতিতে আইএমএফ সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছে বলেও নিশ্চিত করেন অর্থমন্ত্রী। তাঁর ভাষ্যমতে, জাতীয় বাজেট পরবর্তী আর্থিক অগ্রগতি এবং মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক উত্তেজনা ও যুদ্ধাবস্থাসহ বহুমুখী বৈশ্বিক প্রতিবন্ধকতার মধ্যেও বাংলাদেশ যেভাবে পথ চলেছে, তা সংস্থাটির প্রশংসা কুড়িয়েছে।

তিনি আরও জানান, কেবল এককভাবে আইএমএফ নয়; বরং বিশ্বব্যাংকসহ আন্তর্জাতিক অন্যান্য বহুপাক্ষিক উন্নয়ন সহযোগীদের সঙ্গেও সমতার ভিত্তিতে কাজ চালিয়ে যাবে বাংলাদেশ। আগামী দিনের জাতীয় অর্থনীতিকে গতিশীল ও বেগবান করতে এই সমস্ত আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে গঠনমূলক আলোচনা অব্যাহত থাকবে।