Dhaka ০৫:০৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ :
ডিসেম্বরের মধ্যে নতুন মজুরি কাঠামো চূড়ান্ত, শ্রমিকদের বেতন জানুয়ারি থেকে কার্যকর বড়দিন উদযাপনে খ্রিষ্টান কল্যাণ ট্রাস্টকে ৩ কোটি টাকা অনুদান দিলেন প্রধানমন্ত্রী কারখানা বন্ধের চক্রান্ত ও উসকানিকারীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে: সালাহউদ্দিন আহমদ পোশাকশিল্পে টানা অস্থিতিশীলতায় চরম উদ্বিগ্ন উদ্যোক্তারা দেশে কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর ৮৪ শতাংশ অনানুষ্ঠানিক খাতে নিয়োজিত: বিশ্বব্যাংক ভ্যাটসহ প্রতি ভরি ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম দাঁড়াল ২ লাখ ২০ হাজার ৮৫৮ টাকা ডলারের বিনিময় হারে ঊর্ধ্বগতি, ব্যাংকের এমডিদের সতর্ক করলেন গভর্নর উদ্যোক্তাদের অনীহায় বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি কমে ৪.১৭ শতাংশে চার মাসে রেমিট্যান্স প্রবাহে ১৪.৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি নবায়নযোগ্য জ্বালানি এখন আর শুধু সম্ভাবনা নয়, অনিবার্য বাস্তবতা: প্রধানমন্ত্রী

ওমানের সঙ্গে সিইপিএ চুক্তি স্বাক্ষরের উদ্যোগ, বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে চায় বাংলাদেশ

  • সর্বশেষ হালনাগাদ : ০২:৫৭:০৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬
  • ২৫ বার দেখা হয়েছে

ওমানের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ঘাটতি কমানো, বাংলাদেশি পণ্যের রপ্তানি বৃদ্ধি এবং বিনিয়োগ সম্প্রসারণের লক্ষ্যে ‘সমন্বিত অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি’ (সিইপিএ) স্বাক্ষরের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।

তিনি বলেন, ওমানের সঙ্গে বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে একটি কার্যকর অর্থনৈতিক অংশীদারত্বে রূপ দিতে চায় সরকার। এ লক্ষ্যে বাণিজ্য প্রতিবন্ধকতা দূরীকরণ, নতুন বিনিয়োগের ক্ষেত্র চিহ্নিতকরণ এবং দুই দেশের ব্যবসায়ীদের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ বাড়ানো জরুরি।

মঙ্গলবার সচিবালয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে বাংলাদেশে নিযুক্ত ওমানের রাষ্ট্রদূত জামিল বিন হাজি বিন ইসমাইল আল বালুশির সঙ্গে এক সৌজন্য সাক্ষাৎকালে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।

বাণিজ্যমন্ত্রী আরও বলেন, উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদের (জিসিসি) একটি গুরুত্বপূর্ণ সদস্য হিসেবে ওমান বাংলাদেশের জন্য একটি সম্ভাবনাময় বাণিজ্য ও বিনিয়োগ অংশীদার। সিইপিএ চুক্তি স্বাক্ষরিত হলে দুই দেশের বাণিজ্য সম্প্রসারণ, বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতা জোরদারের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হতে পারে।

বৈঠকে ওমানের রাষ্ট্রদূত ভারতের সঙ্গে তাদের অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তির অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন এবং বাংলাদেশের সঙ্গেও অনুরূপ চুক্তি সম্পাদনের প্রস্তাব দেন। বাণিজ্যমন্ত্রী এই প্রস্তাবকে স্বাগত জানিয়ে প্রয়োজনীয় কারিগরি প্রস্তুতি ও সম্ভাব্যতা সমীক্ষার ভিত্তিতে আলোচনা এগিয়ে নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশের সঙ্গে দীর্ঘদিনের সম্পর্কের কথা উল্লেখ করে বলেন, ওমানে কর্মরত প্রায় ৭ লাখ বাংলাদেশি দেশটির অর্থনৈতিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছেন। এই সম্পর্ককে কাজে লাগিয়ে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণের সুযোগ রয়েছে।

বাণিজ্যমন্ত্রী দুই দেশের ব্যবসায়ীদের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ বৃদ্ধি করতে এফবিসিসিআই ও ওমান চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সমন্বয়ে ‘বাংলাদেশ-ওমান যৌথ বিজনেস কাউন্সিল’ গঠনের ওপর জোর দেন। এ লক্ষ্যে প্রাথমিকভাবে ভার্চুয়াল বৈঠক এবং পরবর্তী সময়ে ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদলের পারস্পরিক সফরের বিষয়ে আলোচনা করা হয়।

বৈঠকে ওমানের সোহার, দুকম ও সালালাহ বন্দর এবং বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে বাংলাদেশি উদ্যোক্তাদের বিনিয়োগের সুযোগ তুলে ধরেন রাষ্ট্রদূত। এসব অঞ্চলের সুবিধা কাজে লাগিয়ে মধ্যপ্রাচ্য, আফ্রিকা ও অন্যান্য আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের রপ্তানি সম্প্রসারণের সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা করা হয়।

এছাড়াও, ওমানের ঐতিহ্যবাহী ‘কুমা’ টুপি তৈরিতে বাংলাদেশের নারী কারিগরদের দক্ষতার প্রশংসা করেন ওমানের রাষ্ট্রদূত। পাশাপাশি শ্রমবাজার সম্প্রসারণ, ব্যবসায়িক ভিসা প্রক্রিয়া সহজীকরণ এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোর মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

বৈঠকে বাণিজ্যসচিব মো. আতাউর রহমান খান, মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ এবং ওমান দূতাবাসের প্রতিনিধিগণ উপস্থিত ছিলেন।

জনপ্রিয়

মোংলা বন্দরে দুটি আধুনিক কন্টেইনার জেটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন প্রধানমন্ত্রী

ওমানের সঙ্গে সিইপিএ চুক্তি স্বাক্ষরের উদ্যোগ, বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে চায় বাংলাদেশ

সর্বশেষ হালনাগাদ : ০২:৫৭:০৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬

ওমানের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ঘাটতি কমানো, বাংলাদেশি পণ্যের রপ্তানি বৃদ্ধি এবং বিনিয়োগ সম্প্রসারণের লক্ষ্যে ‘সমন্বিত অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি’ (সিইপিএ) স্বাক্ষরের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।

তিনি বলেন, ওমানের সঙ্গে বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে একটি কার্যকর অর্থনৈতিক অংশীদারত্বে রূপ দিতে চায় সরকার। এ লক্ষ্যে বাণিজ্য প্রতিবন্ধকতা দূরীকরণ, নতুন বিনিয়োগের ক্ষেত্র চিহ্নিতকরণ এবং দুই দেশের ব্যবসায়ীদের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ বাড়ানো জরুরি।

মঙ্গলবার সচিবালয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে বাংলাদেশে নিযুক্ত ওমানের রাষ্ট্রদূত জামিল বিন হাজি বিন ইসমাইল আল বালুশির সঙ্গে এক সৌজন্য সাক্ষাৎকালে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।

বাণিজ্যমন্ত্রী আরও বলেন, উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদের (জিসিসি) একটি গুরুত্বপূর্ণ সদস্য হিসেবে ওমান বাংলাদেশের জন্য একটি সম্ভাবনাময় বাণিজ্য ও বিনিয়োগ অংশীদার। সিইপিএ চুক্তি স্বাক্ষরিত হলে দুই দেশের বাণিজ্য সম্প্রসারণ, বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতা জোরদারের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হতে পারে।

বৈঠকে ওমানের রাষ্ট্রদূত ভারতের সঙ্গে তাদের অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তির অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন এবং বাংলাদেশের সঙ্গেও অনুরূপ চুক্তি সম্পাদনের প্রস্তাব দেন। বাণিজ্যমন্ত্রী এই প্রস্তাবকে স্বাগত জানিয়ে প্রয়োজনীয় কারিগরি প্রস্তুতি ও সম্ভাব্যতা সমীক্ষার ভিত্তিতে আলোচনা এগিয়ে নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশের সঙ্গে দীর্ঘদিনের সম্পর্কের কথা উল্লেখ করে বলেন, ওমানে কর্মরত প্রায় ৭ লাখ বাংলাদেশি দেশটির অর্থনৈতিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছেন। এই সম্পর্ককে কাজে লাগিয়ে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণের সুযোগ রয়েছে।

বাণিজ্যমন্ত্রী দুই দেশের ব্যবসায়ীদের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ বৃদ্ধি করতে এফবিসিসিআই ও ওমান চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সমন্বয়ে ‘বাংলাদেশ-ওমান যৌথ বিজনেস কাউন্সিল’ গঠনের ওপর জোর দেন। এ লক্ষ্যে প্রাথমিকভাবে ভার্চুয়াল বৈঠক এবং পরবর্তী সময়ে ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদলের পারস্পরিক সফরের বিষয়ে আলোচনা করা হয়।

বৈঠকে ওমানের সোহার, দুকম ও সালালাহ বন্দর এবং বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে বাংলাদেশি উদ্যোক্তাদের বিনিয়োগের সুযোগ তুলে ধরেন রাষ্ট্রদূত। এসব অঞ্চলের সুবিধা কাজে লাগিয়ে মধ্যপ্রাচ্য, আফ্রিকা ও অন্যান্য আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের রপ্তানি সম্প্রসারণের সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা করা হয়।

এছাড়াও, ওমানের ঐতিহ্যবাহী ‘কুমা’ টুপি তৈরিতে বাংলাদেশের নারী কারিগরদের দক্ষতার প্রশংসা করেন ওমানের রাষ্ট্রদূত। পাশাপাশি শ্রমবাজার সম্প্রসারণ, ব্যবসায়িক ভিসা প্রক্রিয়া সহজীকরণ এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোর মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

বৈঠকে বাণিজ্যসচিব মো. আতাউর রহমান খান, মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ এবং ওমান দূতাবাসের প্রতিনিধিগণ উপস্থিত ছিলেন।