Dhaka ০৫:০৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ :
ডিসেম্বরের মধ্যে নতুন মজুরি কাঠামো চূড়ান্ত, শ্রমিকদের বেতন জানুয়ারি থেকে কার্যকর বড়দিন উদযাপনে খ্রিষ্টান কল্যাণ ট্রাস্টকে ৩ কোটি টাকা অনুদান দিলেন প্রধানমন্ত্রী কারখানা বন্ধের চক্রান্ত ও উসকানিকারীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে: সালাহউদ্দিন আহমদ পোশাকশিল্পে টানা অস্থিতিশীলতায় চরম উদ্বিগ্ন উদ্যোক্তারা দেশে কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর ৮৪ শতাংশ অনানুষ্ঠানিক খাতে নিয়োজিত: বিশ্বব্যাংক ভ্যাটসহ প্রতি ভরি ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম দাঁড়াল ২ লাখ ২০ হাজার ৮৫৮ টাকা ডলারের বিনিময় হারে ঊর্ধ্বগতি, ব্যাংকের এমডিদের সতর্ক করলেন গভর্নর উদ্যোক্তাদের অনীহায় বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি কমে ৪.১৭ শতাংশে চার মাসে রেমিট্যান্স প্রবাহে ১৪.৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি নবায়নযোগ্য জ্বালানি এখন আর শুধু সম্ভাবনা নয়, অনিবার্য বাস্তবতা: প্রধানমন্ত্রী

ওয়ালটনের প্রযুক্তি ও উৎপাদন সক্ষমতায় এমইএস প্রতিনিধিদলের মুগ্ধতা

  • সর্বশেষ হালনাগাদ : ১০:৪৭:১০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬
  • ১৮ বার দেখা হয়েছে

দেশের শীর্ষস্থানীয় প্রযুক্তিপণ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান ওয়ালটন হাই-টেক ইন্ডাস্ট্রিজ পিএলসি’র গাজীপুরের চন্দ্রাস্থ হেডকোয়ার্টার্স ও বিশাল উৎপাদন কারখানা পরিদর্শন করেছেন মিলিটারি ইঞ্জিনিয়ার সার্ভিসেস (এমইএস)-এর একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল। সফরকালে ওয়ালটনের সুপরিসর উৎপাদন পরিধি, সর্বাধুনিক প্রযুক্তি, গবেষণা ও উন্নয়ন (আরঅ্যান্ডডি) কার্যক্রম, পণ্যের বৈচিত্র্য এবং আন্তর্জাতিক মানের উৎপাদন সক্ষমতা স্বচক্ষে দেখে গভীর মুগ্ধতা প্রকাশ করেন প্রতিনিধিদলের সদস্যরা।

মিলিটারি ইঞ্জিনিয়ার সার্ভিসেস-এর ইঞ্জিনিয়ার-ইন-চিফ মেজর জেনারেল হাসান উজ জামানের নেতৃত্বে এই প্রতিনিধিদলটি ওয়ালটন হেডকোয়ার্টার্স পরিদর্শন করে। প্রতিনিধিদলে অন্যান্যদের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন ডিরেক্টর, ওয়ার্কস ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবুল হাসনাত মোহাম্মদ সায়েমসহ এমইএস-এর অন্যান্য ঊর্ধ্বতন সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তারা। সম্প্রতি এই প্রতিনিধিদলটি চন্দ্রায় পৌঁছালে তাদের উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান ওয়ালটন হাই-টেক ইন্ডাস্ট্রিজ পিএলসি’র ম্যানেজিং ডিরেক্টর এস. এম. মাহবুবুল আলমসহ প্রতিষ্ঠানের উর্ধ্বতন করপোরেট ও কারিগরি কর্মকর্তারা।

পরিদর্শনকালে এমইএস প্রতিনিধিদলের সদস্যরা ওয়ালটনের সুসজ্জিত ডিসপ্লে সেন্টার, বিভিন্ন আধুনিক প্রোডাকশন প্ল্যান্ট এবং গবেষণা ও উদ্ভাবন (আরঅ্যান্ডআই) কার্যক্রম ঘুরে দেখেন। এ সময় তাঁরা লিফট, এয়ার কন্ডিশনার, রেফ্রিজারেটর, সোলার প্যানেল, ব্যাটারি, কেবল, কম্প্রেসরসহ বিভিন্ন ধরনের অত্যাধুনিক ইলেকট্রিক্যাল, ইলেকট্রনিকস ও হাই-টেক পণ্যের সুক্ষ্ম উৎপাদন প্রক্রিয়া এবং প্রযুক্তিগত উৎকর্ষতা অত্যন্ত নিবিড়ভাবে প্রত্যক্ষ করেন।

কারখানা ও ডিসপ্লে সেন্টার ঘুরে দেখার পর মিলিটারি ইঞ্জিনিয়ার সার্ভিসেস-এর ইঞ্জিনিয়ার-ইন-চিফ মেজর জেনারেল হাসান উজ জামান তাঁর প্রতিক্রিয়ায় বলেন, ‘ওয়ালটনের বিশাল উৎপাদন পরিধি, পণ্যের অবিশ্বাস্য বৈচিত্র্য এবং উন্নত প্রযুক্তিগত সক্ষমতা আমাদের সত্যিই ভীষণভাবে মুগ্ধ করেছে। বিশেষ করে প্রতিষ্ঠানটির গবেষণা ও উন্নয়ন বা আরঅ্যান্ডডি কার্যক্রম অত্যন্ত প্রশংসনীয় ও যুগোপযোগী। আমরা আন্তরিকভাবে চাই, ওয়ালটন তাদের এই সক্ষমতা আরও বহুগুণ সম্প্রসারণ করুক এবং বিশ্বমানের প্রযুক্তিগত উদ্ভাবনে আরও বহু দূর এগিয়ে যাক।’

দেশে উৎপাদিত দেশীয় পণ্য ব্যবহারের ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্বারোপ করে তিনি আরও যোগ করেন, ‘সরকারের মতো আমরাও দেশীয় শিল্পায়নকে উৎসাহিত করতে দেশে উৎপাদিত মানসম্মত পণ্য ব্যবহারের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিই। স্থানীয় বাজারে যখন প্রয়োজনীয় ও আন্তর্জাতিক মানের পণ্য পাওয়া যায়, তখন আমরা স্বাভাবিকভাবেই দেশীয় পণ্যকে সর্বাগ্রে বিবেচনায় রাখতে চাই। এ ক্ষেত্রে ওয়ালটন এমন একটি স্বাবলম্বী প্রতিষ্ঠান, যার নাম স্বাভাবিকভাবেই আমাদের বিবেচনায় সবার আগে আসে। দেশের শিল্পায়ন ত্বরান্বিত করা, ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি, স্থানীয় উৎপাদন খাতের বিকাশ, প্রযুক্তিগত উন্নয়ন এবং জাতীয় অর্থনীতিতে প্রতিষ্ঠানটির অসামান্য অবদান নিঃসন্দেহে অত্যন্ত প্রশংসার দাবি রাখে।’

মিলিটারি ইঞ্জিনিয়ার সার্ভিসেস-এর ডিরেক্টর, ওয়ার্কস ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবুল হাসনাত মোহাম্মদ সায়েম তাঁর বক্তব্যে বলেন, ‘ওয়ালটনের এই বিপুল ও সুপরিসর উৎপাদন সক্ষমতা সত্যি অত্যন্ত বিস্ময়কর। বাংলাদেশের মতো একটি উন্নয়নশীল দেশে এত বিশাল পরিসরে ম্যানুফ্যাকচারিং হাব গড়ে উঠেছে এবং সেখান থেকে উৎপাদিত পণ্য আজ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে সফলভাবে রপ্তানি হচ্ছে—এটি গোটা জাতির জন্যই এক অত্যন্ত গর্বের বিষয়। ওয়ালটন এখন আর কেবল দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারের কথা চিন্তা করছে না, বরং বৈশ্বিক বাজারের সুনির্দিষ্ট চাহিদা ও সম্ভাবনাকে সামনে রেখে পণ্য ডিজাইন ও উৎপাদন করছে। এটি বাংলাদেশের প্রযুক্তি ও উৎপাদনশিল্পের অদম্য সক্ষমতার একটি অত্যন্ত উজ্জ্বল ও ইতিবাচক দৃষ্টান্ত।’

ওয়ালটনের পরিবেশবান্ধব উৎপাদন কার্যক্রমের উচ্চ প্রশংসা করে তিনি বলেন, ‘পরিবেশগত টেকসই উন্নয়নের ক্ষেত্রে ওয়ালটনের দৃষ্টিভঙ্গি ও কর্মপরিকল্পনা অত্যন্ত অনুকরণীয়। তারা কেবল বর্তমান সময়ের চাহিদা মেটাচ্ছে না, বরং আগামীর ভবিষ্যৎ প্রজন্মের সুরক্ষার কথাও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে কার্যক্রম পরিচালনা করছে।’

অনুষ্ঠানে ওয়ালটন হাই-টেক ইন্ডাস্ট্রিজ পিএলসি’র ম্যানেজিং ডিরেক্টর এস. এম. মাহবুবুল আলম বলেন, ‘দেশের গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্থাগুলোর সঙ্গে উন্নত প্রযুক্তি ও উৎপাদন সক্ষমতাভিত্তিক দীর্ঘমেয়াদি পারস্পরিক সহযোগিতা গড়ে তোলাকে ওয়ালটন সবসময় অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখে। মিলিটারি ইঞ্জিনিয়ার সার্ভিসেস-এর সম্মানীত প্রতিনিধিদলের এই ঐতিহাসিক সফর আমাদের জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। তাদের সুচিন্তিত মতামত ও মূল্যবান দিকনির্দেশনা দেশীয় প্রযুক্তিপণ্য উৎপাদন এবং আমাদের সামগ্রিক গবেষণা ও উন্নয়ন কার্যক্রমকে আরও বেগবান করতে আমাদের দারুণভাবে অনুপ্রাণিত করবে।’

তিনি আরও উল্লেখ করেন, ‘ওয়ালটনের মূল লক্ষ্য হচ্ছে বিশ্বমানের প্রযুক্তিপণ্য সম্পূর্ণ দেশীয় প্রযুক্তিতে উৎপাদনের মাধ্যমে দেশের আমদানি নির্ভরতা উল্লেখযোগ্য হারে কমানো, মহামূল্যবান বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় করা এবং পণ্য রপ্তানি সম্প্রসারণের মাধ্যমে দেশের অর্থনীতি ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে আরও বেশি ভূমিকা রাখা। সে লক্ষ্য অর্জনে স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত পণ্যের সর্বোচ্চ গুণগত মান এবং সন্তোষজনক বিক্রয়োত্তর সেবা নিশ্চিত করতে আমরা নিরলসভাবে গবেষণা, উদ্ভাবন ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বৃদ্ধি করে যাচ্ছি।’

পরিদর্শন অনুষ্ঠানটি সার্বিকভাবে পরিচালনা ও সমন্বয় করেন ওয়ালটন হাই-টেক ইন্ডাস্ট্রিজ পিএলসি’র ম্যানেজিং ডিরেক্টরের বিজনেস কো-অর্ডিনেটর ও সিনিয়র এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর তানভীর আনজুম। তিনি সুন্দর এই অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করার পাশাপাশি এমইএস প্রতিনিধিদলের এই তাৎপর্যপূর্ণ সফরের জন্য আন্তরিক কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন। ভবিষ্যতে ওয়ালটন ও মিলিটারি ইঞ্জিনিয়ার সার্ভিসেস-এর মধ্যে চলমান প্রাতিষ্ঠানিক সম্পর্ক আরও বিস্তৃত, সুদৃঢ় ও কার্যকর সহযোগিতায় রূপ নেবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

উক্ত পরিদর্শনের সময় ওয়ালটনের পক্ষ থেকে আরও উপস্থিত ছিলেন প্রতিষ্ঠানের অ্যাডিশনাল ম্যানেজিং ডিরেক্টর মোহাম্মদ ইউসুফ আলী, ওয়ালটন এসির চিফ বিজনেস অফিসার (সিবিও) মো. তানভীর রহমান, হেড অব করপোরেট সেলস আহমেদ তানভীর, সিনিয়র এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর প্রতীক কুমার মোদক, ওয়ালটন লিফটের সিবিও মো. মাহমুদুর রহমান এবং হেড অব অ্যাডমিন তানভীর আহাম্মদসহ অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ।

জনপ্রিয়

মোংলা বন্দরে দুটি আধুনিক কন্টেইনার জেটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন প্রধানমন্ত্রী

ওয়ালটনের প্রযুক্তি ও উৎপাদন সক্ষমতায় এমইএস প্রতিনিধিদলের মুগ্ধতা

সর্বশেষ হালনাগাদ : ১০:৪৭:১০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬

দেশের শীর্ষস্থানীয় প্রযুক্তিপণ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান ওয়ালটন হাই-টেক ইন্ডাস্ট্রিজ পিএলসি’র গাজীপুরের চন্দ্রাস্থ হেডকোয়ার্টার্স ও বিশাল উৎপাদন কারখানা পরিদর্শন করেছেন মিলিটারি ইঞ্জিনিয়ার সার্ভিসেস (এমইএস)-এর একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল। সফরকালে ওয়ালটনের সুপরিসর উৎপাদন পরিধি, সর্বাধুনিক প্রযুক্তি, গবেষণা ও উন্নয়ন (আরঅ্যান্ডডি) কার্যক্রম, পণ্যের বৈচিত্র্য এবং আন্তর্জাতিক মানের উৎপাদন সক্ষমতা স্বচক্ষে দেখে গভীর মুগ্ধতা প্রকাশ করেন প্রতিনিধিদলের সদস্যরা।

মিলিটারি ইঞ্জিনিয়ার সার্ভিসেস-এর ইঞ্জিনিয়ার-ইন-চিফ মেজর জেনারেল হাসান উজ জামানের নেতৃত্বে এই প্রতিনিধিদলটি ওয়ালটন হেডকোয়ার্টার্স পরিদর্শন করে। প্রতিনিধিদলে অন্যান্যদের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন ডিরেক্টর, ওয়ার্কস ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবুল হাসনাত মোহাম্মদ সায়েমসহ এমইএস-এর অন্যান্য ঊর্ধ্বতন সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তারা। সম্প্রতি এই প্রতিনিধিদলটি চন্দ্রায় পৌঁছালে তাদের উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান ওয়ালটন হাই-টেক ইন্ডাস্ট্রিজ পিএলসি’র ম্যানেজিং ডিরেক্টর এস. এম. মাহবুবুল আলমসহ প্রতিষ্ঠানের উর্ধ্বতন করপোরেট ও কারিগরি কর্মকর্তারা।

পরিদর্শনকালে এমইএস প্রতিনিধিদলের সদস্যরা ওয়ালটনের সুসজ্জিত ডিসপ্লে সেন্টার, বিভিন্ন আধুনিক প্রোডাকশন প্ল্যান্ট এবং গবেষণা ও উদ্ভাবন (আরঅ্যান্ডআই) কার্যক্রম ঘুরে দেখেন। এ সময় তাঁরা লিফট, এয়ার কন্ডিশনার, রেফ্রিজারেটর, সোলার প্যানেল, ব্যাটারি, কেবল, কম্প্রেসরসহ বিভিন্ন ধরনের অত্যাধুনিক ইলেকট্রিক্যাল, ইলেকট্রনিকস ও হাই-টেক পণ্যের সুক্ষ্ম উৎপাদন প্রক্রিয়া এবং প্রযুক্তিগত উৎকর্ষতা অত্যন্ত নিবিড়ভাবে প্রত্যক্ষ করেন।

কারখানা ও ডিসপ্লে সেন্টার ঘুরে দেখার পর মিলিটারি ইঞ্জিনিয়ার সার্ভিসেস-এর ইঞ্জিনিয়ার-ইন-চিফ মেজর জেনারেল হাসান উজ জামান তাঁর প্রতিক্রিয়ায় বলেন, ‘ওয়ালটনের বিশাল উৎপাদন পরিধি, পণ্যের অবিশ্বাস্য বৈচিত্র্য এবং উন্নত প্রযুক্তিগত সক্ষমতা আমাদের সত্যিই ভীষণভাবে মুগ্ধ করেছে। বিশেষ করে প্রতিষ্ঠানটির গবেষণা ও উন্নয়ন বা আরঅ্যান্ডডি কার্যক্রম অত্যন্ত প্রশংসনীয় ও যুগোপযোগী। আমরা আন্তরিকভাবে চাই, ওয়ালটন তাদের এই সক্ষমতা আরও বহুগুণ সম্প্রসারণ করুক এবং বিশ্বমানের প্রযুক্তিগত উদ্ভাবনে আরও বহু দূর এগিয়ে যাক।’

দেশে উৎপাদিত দেশীয় পণ্য ব্যবহারের ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্বারোপ করে তিনি আরও যোগ করেন, ‘সরকারের মতো আমরাও দেশীয় শিল্পায়নকে উৎসাহিত করতে দেশে উৎপাদিত মানসম্মত পণ্য ব্যবহারের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিই। স্থানীয় বাজারে যখন প্রয়োজনীয় ও আন্তর্জাতিক মানের পণ্য পাওয়া যায়, তখন আমরা স্বাভাবিকভাবেই দেশীয় পণ্যকে সর্বাগ্রে বিবেচনায় রাখতে চাই। এ ক্ষেত্রে ওয়ালটন এমন একটি স্বাবলম্বী প্রতিষ্ঠান, যার নাম স্বাভাবিকভাবেই আমাদের বিবেচনায় সবার আগে আসে। দেশের শিল্পায়ন ত্বরান্বিত করা, ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি, স্থানীয় উৎপাদন খাতের বিকাশ, প্রযুক্তিগত উন্নয়ন এবং জাতীয় অর্থনীতিতে প্রতিষ্ঠানটির অসামান্য অবদান নিঃসন্দেহে অত্যন্ত প্রশংসার দাবি রাখে।’

মিলিটারি ইঞ্জিনিয়ার সার্ভিসেস-এর ডিরেক্টর, ওয়ার্কস ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবুল হাসনাত মোহাম্মদ সায়েম তাঁর বক্তব্যে বলেন, ‘ওয়ালটনের এই বিপুল ও সুপরিসর উৎপাদন সক্ষমতা সত্যি অত্যন্ত বিস্ময়কর। বাংলাদেশের মতো একটি উন্নয়নশীল দেশে এত বিশাল পরিসরে ম্যানুফ্যাকচারিং হাব গড়ে উঠেছে এবং সেখান থেকে উৎপাদিত পণ্য আজ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে সফলভাবে রপ্তানি হচ্ছে—এটি গোটা জাতির জন্যই এক অত্যন্ত গর্বের বিষয়। ওয়ালটন এখন আর কেবল দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারের কথা চিন্তা করছে না, বরং বৈশ্বিক বাজারের সুনির্দিষ্ট চাহিদা ও সম্ভাবনাকে সামনে রেখে পণ্য ডিজাইন ও উৎপাদন করছে। এটি বাংলাদেশের প্রযুক্তি ও উৎপাদনশিল্পের অদম্য সক্ষমতার একটি অত্যন্ত উজ্জ্বল ও ইতিবাচক দৃষ্টান্ত।’

ওয়ালটনের পরিবেশবান্ধব উৎপাদন কার্যক্রমের উচ্চ প্রশংসা করে তিনি বলেন, ‘পরিবেশগত টেকসই উন্নয়নের ক্ষেত্রে ওয়ালটনের দৃষ্টিভঙ্গি ও কর্মপরিকল্পনা অত্যন্ত অনুকরণীয়। তারা কেবল বর্তমান সময়ের চাহিদা মেটাচ্ছে না, বরং আগামীর ভবিষ্যৎ প্রজন্মের সুরক্ষার কথাও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে কার্যক্রম পরিচালনা করছে।’

অনুষ্ঠানে ওয়ালটন হাই-টেক ইন্ডাস্ট্রিজ পিএলসি’র ম্যানেজিং ডিরেক্টর এস. এম. মাহবুবুল আলম বলেন, ‘দেশের গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্থাগুলোর সঙ্গে উন্নত প্রযুক্তি ও উৎপাদন সক্ষমতাভিত্তিক দীর্ঘমেয়াদি পারস্পরিক সহযোগিতা গড়ে তোলাকে ওয়ালটন সবসময় অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখে। মিলিটারি ইঞ্জিনিয়ার সার্ভিসেস-এর সম্মানীত প্রতিনিধিদলের এই ঐতিহাসিক সফর আমাদের জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। তাদের সুচিন্তিত মতামত ও মূল্যবান দিকনির্দেশনা দেশীয় প্রযুক্তিপণ্য উৎপাদন এবং আমাদের সামগ্রিক গবেষণা ও উন্নয়ন কার্যক্রমকে আরও বেগবান করতে আমাদের দারুণভাবে অনুপ্রাণিত করবে।’

তিনি আরও উল্লেখ করেন, ‘ওয়ালটনের মূল লক্ষ্য হচ্ছে বিশ্বমানের প্রযুক্তিপণ্য সম্পূর্ণ দেশীয় প্রযুক্তিতে উৎপাদনের মাধ্যমে দেশের আমদানি নির্ভরতা উল্লেখযোগ্য হারে কমানো, মহামূল্যবান বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় করা এবং পণ্য রপ্তানি সম্প্রসারণের মাধ্যমে দেশের অর্থনীতি ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে আরও বেশি ভূমিকা রাখা। সে লক্ষ্য অর্জনে স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত পণ্যের সর্বোচ্চ গুণগত মান এবং সন্তোষজনক বিক্রয়োত্তর সেবা নিশ্চিত করতে আমরা নিরলসভাবে গবেষণা, উদ্ভাবন ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বৃদ্ধি করে যাচ্ছি।’

পরিদর্শন অনুষ্ঠানটি সার্বিকভাবে পরিচালনা ও সমন্বয় করেন ওয়ালটন হাই-টেক ইন্ডাস্ট্রিজ পিএলসি’র ম্যানেজিং ডিরেক্টরের বিজনেস কো-অর্ডিনেটর ও সিনিয়র এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর তানভীর আনজুম। তিনি সুন্দর এই অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করার পাশাপাশি এমইএস প্রতিনিধিদলের এই তাৎপর্যপূর্ণ সফরের জন্য আন্তরিক কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন। ভবিষ্যতে ওয়ালটন ও মিলিটারি ইঞ্জিনিয়ার সার্ভিসেস-এর মধ্যে চলমান প্রাতিষ্ঠানিক সম্পর্ক আরও বিস্তৃত, সুদৃঢ় ও কার্যকর সহযোগিতায় রূপ নেবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

উক্ত পরিদর্শনের সময় ওয়ালটনের পক্ষ থেকে আরও উপস্থিত ছিলেন প্রতিষ্ঠানের অ্যাডিশনাল ম্যানেজিং ডিরেক্টর মোহাম্মদ ইউসুফ আলী, ওয়ালটন এসির চিফ বিজনেস অফিসার (সিবিও) মো. তানভীর রহমান, হেড অব করপোরেট সেলস আহমেদ তানভীর, সিনিয়র এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর প্রতীক কুমার মোদক, ওয়ালটন লিফটের সিবিও মো. মাহমুদুর রহমান এবং হেড অব অ্যাডমিন তানভীর আহাম্মদসহ অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ।