Dhaka ০৯:৩২ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ :
ডিসেম্বরের মধ্যে নতুন মজুরি কাঠামো চূড়ান্ত, শ্রমিকদের বেতন জানুয়ারি থেকে কার্যকর বড়দিন উদযাপনে খ্রিষ্টান কল্যাণ ট্রাস্টকে ৩ কোটি টাকা অনুদান দিলেন প্রধানমন্ত্রী কারখানা বন্ধের চক্রান্ত ও উসকানিকারীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে: সালাহউদ্দিন আহমদ পোশাকশিল্পে টানা অস্থিতিশীলতায় চরম উদ্বিগ্ন উদ্যোক্তারা দেশে কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর ৮৪ শতাংশ অনানুষ্ঠানিক খাতে নিয়োজিত: বিশ্বব্যাংক ভ্যাটসহ প্রতি ভরি ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম দাঁড়াল ২ লাখ ২০ হাজার ৮৫৮ টাকা ডলারের বিনিময় হারে ঊর্ধ্বগতি, ব্যাংকের এমডিদের সতর্ক করলেন গভর্নর উদ্যোক্তাদের অনীহায় বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি কমে ৪.১৭ শতাংশে চার মাসে রেমিট্যান্স প্রবাহে ১৪.৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি নবায়নযোগ্য জ্বালানি এখন আর শুধু সম্ভাবনা নয়, অনিবার্য বাস্তবতা: প্রধানমন্ত্রী

নারী ও কন্যাশিশুকে পিছিয়ে রেখে জাতির উন্নতি অসম্ভব: রাষ্ট্রপতি

  • সর্বশেষ হালনাগাদ : ০৩:০০:৩১ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬
  • ১৪ বার দেখা হয়েছে

নারী ও কন্যাশিশুকে পিছিয়ে রেখে কোনো সমাজ বা রাষ্ট্রীয় জাতি কখনোই উন্নতির শিখরে পৌঁছাতে পারে না বলে মন্তব্য করেছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। সোমবার (১২ অক্টোবর ২০২৬) সকালে রাজধানী ঢাকার শিশু একাডেমিতে আন্তর্জাতিক ও জাতীয় কন্যাশিশু দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক বিশেষ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই সুনির্দিষ্ট ও তাৎপর্যপূর্ণ মন্তব্য করেন।

অনুষ্ঠানে নারী ও শিশুদের প্রতি সংঘটিত সকল ধরনের সহিংসতা, ধর্ষণ ও যৌন হয়রানির মতো অপরাধের বিরুদ্ধে অত্যন্ত কঠোর অবস্থান ব্যক্ত করে রাষ্ট্রপতি দ্রুততম সময়ে নিরপেক্ষ তদন্ত, কার্যকর বিচার এবং আইনের কঠোর প্রয়োগ নিশ্চিতকরণে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি সম্পূর্ণরূপে বাস্তবায়নের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। তিনি দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে বলেন যে, কন্যাশিশু সমাজ বা পরিবারের জন্য কোনো বোঝা নয়, বরং তারা হলো একটি অফুরন্ত সম্ভাবনার উজ্জ্বল সূচনা। তাই কন্যাশিশুর সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, বাল্যবিয়ে চিরতরে রোধ করা এবং সমাজে তাদের সমান অধিকার ও মর্যাদার সুদৃঢ় ভিত্তি প্রতিষ্ঠা করার জন্য তিনি সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানান।

রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল বলেন, ‘কন্যাশিশুর পূর্ণাঙ্গ নিরাপত্তায় বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ, সামাজিক মাধ্যমসহ জীবনের সর্বক্ষেত্রেই কঠোর সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে। নারী ও শিশুর বিরুদ্ধে সংঘটিত যেকোনো সহিংসতার ঘটনায় দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার পাশাপাশি জিরো টলারেন্স নীতি বাস্তবায়নের কোনো বিকল্প নেই।’ তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, শিশুবিবাহ বা বাল্যবিয়ে কঠোরহস্তে রোধ করার লক্ষ্যে দেশজুড়ে দারিদ্র্য দূরীকরণ, অবৈতনিক শিক্ষা সম্প্রসারণ, উপবৃত্তি প্রদান এবং সামাজিক সুরক্ষা কার্যক্রম আরও জোরদার করার পাশাপাশি জন্মনিবন্ধন নিখুঁতভাবে যাচাই এবং কন্যাশিশুদের উচ্চশিক্ষার সুযোগ বহুগুণ বাড়ানোর ওপর বর্তমান সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করে যাচ্ছে।

এ সময় সাম্প্রতিক একটি মর্মান্তিক ঘটনার উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, কুমিল্লার স্কুলছাত্রী তাজমিনের নির্মম হত্যাকাণ্ডের বিষয়টি অত্যন্ত বেদনাদায়ক। আমরা একদিকে যেমন আধুনিকতার দিকে এগিয়ে যাচ্ছি, অন্যদিকে কোনো কোনো ক্ষেত্রে আমাদের সামাজিক অবক্ষয় ঘটছে। সন্তানদের যথাযথ দেখাশোনা করা এবং তাদের গতিবিধির ওপর নজর রাখা অভিভাবকদের সর্বপ্রধান ও পবিত্র দায়িত্ব। কুমিল্লার ওই মেয়েটি টানা তিন দিন ধরে বাসায় না থাকা সত্ত্বেও অভিভাবকদের মধ্যে ন্যূনতম কোনো উদ্বেগ বা উৎকণ্ঠা দেখা যায়নি—যা অত্যন্ত দুঃখজনক ও ভাবনার বিষয়।

উপস্থিত অভিভাবকদের উদ্দেশে রাষ্ট্রপতি কঠোর সতর্কবার্তা উচ্চারণ করে বলেন যে, সন্তানদের প্রতি সদা সতর্ক ও খেয়াল রাখা অভিভাবকদেরই নৈতিক দায়িত্ব। কন্যাশিশুর শিক্ষা কিংবা অধিকার কোনো ধরনের করুণা বা দয়া নয়, এটি তাদের সহজাত মৌলিক অধিকার; আর তাদের নিরাপদ জীবনযাপন নিশ্চিত করা আমাদের সকলের পবিত্র ও সম্মিলিত দায়িত্ব।

একটি কন্যাশিশুর জন্মকে একটি নতুন স্বপ্ন, আগামী দিনের অপার সম্ভাবনা এবং একজন গর্বিত নাগরিকের আগমন হিসেবে উল্লেখ করে রাষ্ট্রপ্রধান বলেন, পাখির যেমন একটিমাত্র ডানায় ভর করে ওড়া অসম্ভব, ঠিক তেমনিভাবে সমাজ ও দেশের অর্ধেক অংশ অর্থাৎ নারী ও কন্যাশিশুকে পিছিয়ে রেখে কোনো জাতি কখনো প্রকৃত উন্নতির মুখ দেখতে পারে না।

মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত উক্ত গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠানে মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের মাননীয় মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সচিববৃন্দসহ বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সংস্থার উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।

জনপ্রিয়

মোংলা বন্দরে দুটি আধুনিক কন্টেইনার জেটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন প্রধানমন্ত্রী

নারী ও কন্যাশিশুকে পিছিয়ে রেখে জাতির উন্নতি অসম্ভব: রাষ্ট্রপতি

সর্বশেষ হালনাগাদ : ০৩:০০:৩১ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬

নারী ও কন্যাশিশুকে পিছিয়ে রেখে কোনো সমাজ বা রাষ্ট্রীয় জাতি কখনোই উন্নতির শিখরে পৌঁছাতে পারে না বলে মন্তব্য করেছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। সোমবার (১২ অক্টোবর ২০২৬) সকালে রাজধানী ঢাকার শিশু একাডেমিতে আন্তর্জাতিক ও জাতীয় কন্যাশিশু দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক বিশেষ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই সুনির্দিষ্ট ও তাৎপর্যপূর্ণ মন্তব্য করেন।

অনুষ্ঠানে নারী ও শিশুদের প্রতি সংঘটিত সকল ধরনের সহিংসতা, ধর্ষণ ও যৌন হয়রানির মতো অপরাধের বিরুদ্ধে অত্যন্ত কঠোর অবস্থান ব্যক্ত করে রাষ্ট্রপতি দ্রুততম সময়ে নিরপেক্ষ তদন্ত, কার্যকর বিচার এবং আইনের কঠোর প্রয়োগ নিশ্চিতকরণে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি সম্পূর্ণরূপে বাস্তবায়নের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। তিনি দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে বলেন যে, কন্যাশিশু সমাজ বা পরিবারের জন্য কোনো বোঝা নয়, বরং তারা হলো একটি অফুরন্ত সম্ভাবনার উজ্জ্বল সূচনা। তাই কন্যাশিশুর সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, বাল্যবিয়ে চিরতরে রোধ করা এবং সমাজে তাদের সমান অধিকার ও মর্যাদার সুদৃঢ় ভিত্তি প্রতিষ্ঠা করার জন্য তিনি সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানান।

রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল বলেন, ‘কন্যাশিশুর পূর্ণাঙ্গ নিরাপত্তায় বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ, সামাজিক মাধ্যমসহ জীবনের সর্বক্ষেত্রেই কঠোর সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে। নারী ও শিশুর বিরুদ্ধে সংঘটিত যেকোনো সহিংসতার ঘটনায় দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার পাশাপাশি জিরো টলারেন্স নীতি বাস্তবায়নের কোনো বিকল্প নেই।’ তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, শিশুবিবাহ বা বাল্যবিয়ে কঠোরহস্তে রোধ করার লক্ষ্যে দেশজুড়ে দারিদ্র্য দূরীকরণ, অবৈতনিক শিক্ষা সম্প্রসারণ, উপবৃত্তি প্রদান এবং সামাজিক সুরক্ষা কার্যক্রম আরও জোরদার করার পাশাপাশি জন্মনিবন্ধন নিখুঁতভাবে যাচাই এবং কন্যাশিশুদের উচ্চশিক্ষার সুযোগ বহুগুণ বাড়ানোর ওপর বর্তমান সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করে যাচ্ছে।

এ সময় সাম্প্রতিক একটি মর্মান্তিক ঘটনার উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, কুমিল্লার স্কুলছাত্রী তাজমিনের নির্মম হত্যাকাণ্ডের বিষয়টি অত্যন্ত বেদনাদায়ক। আমরা একদিকে যেমন আধুনিকতার দিকে এগিয়ে যাচ্ছি, অন্যদিকে কোনো কোনো ক্ষেত্রে আমাদের সামাজিক অবক্ষয় ঘটছে। সন্তানদের যথাযথ দেখাশোনা করা এবং তাদের গতিবিধির ওপর নজর রাখা অভিভাবকদের সর্বপ্রধান ও পবিত্র দায়িত্ব। কুমিল্লার ওই মেয়েটি টানা তিন দিন ধরে বাসায় না থাকা সত্ত্বেও অভিভাবকদের মধ্যে ন্যূনতম কোনো উদ্বেগ বা উৎকণ্ঠা দেখা যায়নি—যা অত্যন্ত দুঃখজনক ও ভাবনার বিষয়।

উপস্থিত অভিভাবকদের উদ্দেশে রাষ্ট্রপতি কঠোর সতর্কবার্তা উচ্চারণ করে বলেন যে, সন্তানদের প্রতি সদা সতর্ক ও খেয়াল রাখা অভিভাবকদেরই নৈতিক দায়িত্ব। কন্যাশিশুর শিক্ষা কিংবা অধিকার কোনো ধরনের করুণা বা দয়া নয়, এটি তাদের সহজাত মৌলিক অধিকার; আর তাদের নিরাপদ জীবনযাপন নিশ্চিত করা আমাদের সকলের পবিত্র ও সম্মিলিত দায়িত্ব।

একটি কন্যাশিশুর জন্মকে একটি নতুন স্বপ্ন, আগামী দিনের অপার সম্ভাবনা এবং একজন গর্বিত নাগরিকের আগমন হিসেবে উল্লেখ করে রাষ্ট্রপ্রধান বলেন, পাখির যেমন একটিমাত্র ডানায় ভর করে ওড়া অসম্ভব, ঠিক তেমনিভাবে সমাজ ও দেশের অর্ধেক অংশ অর্থাৎ নারী ও কন্যাশিশুকে পিছিয়ে রেখে কোনো জাতি কখনো প্রকৃত উন্নতির মুখ দেখতে পারে না।

মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত উক্ত গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠানে মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের মাননীয় মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সচিববৃন্দসহ বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সংস্থার উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।