আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন কোনো প্রকার রাজনৈতিক বা দলীয় প্রতীকে অনুষ্ঠিত হবে না বলে স্পষ্ট ঘোষণা দিয়েছেন জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ মো. নূরুল ইসলাম। একই সঙ্গে এই নির্বাচনে কোনো ধরনের প্রভাব বিস্তার বা প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ একেবারেই বরদাশত করা হবে না বলেও কড়া বার্তা দিয়েছেন তিনি।
গত রোববার (১১ অক্টোবর ২০২৬) জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত সরকার দলীয় সংসদ সদস্যদের বিশেষ বৈঠক শেষে গণমাধ্যমকর্মীদের ব্রিফিংকালে এসব গুরুত্বপূর্ণ তথ্যের কথা জানান চিফ হুইপ।
সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে চিফ হুইপ বলেন, সংসদীয় দলের বৈঠকে দেশের সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের বিদ্যমান ব্যবস্থাপনা থেকে শুরু করে আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনের সর্বাত্মক প্রস্তুতি নিয়ে অত্যন্ত খোলামেলা ও বিশদ আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বর্তমান সরকার যেসব জনকল্যাণমুখী ও উন্নয়নমূলক বহুমুখী উদ্যোগ গ্রহণ করছে, তার প্রকৃত সুফল মাঠপর্যায়ে সাধারণ মানুষের ঘরের দুয়ারে পৌঁছাচ্ছে কি না, তা গভীরভাবে মূল্যায়নের জন্য বিশেষ তাগিদ দেওয়া হয়েছে।
দেশে চাঁদাবাজি ও অবৈধ দখলদারির বিরুদ্ধে সরকারের শূন্য সহনশীলতা ও কঠোর অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করে চিফ হুইপ স্পষ্টভাবে বলেন, কোনো অবস্থাতেই কোনো ধরনের চাঁদাবাজ ও দখলদারের ঠাঁই বিএনপিতে হবে না। এই সংবেদনশীল বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান অত্যন্ত কঠোর ও সুস্পষ্ট নির্দেশনা প্রদান করেছেন। দলের পরিচয় ভাঙিয়ে বা দলের পদ ব্যবহার করে কেউ কোনো ধরনের অপকর্ম বা অনিয়ম করলে তাকে বিন্দুমাত্র ছাড় দেওয়া হবে না।
আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজার সুদৃঢ় নিরাপত্তা ব্যবস্থা প্রসঙ্গে নূরুল ইসলাম বলেন, সনাতন ধর্মাবলম্বীদের উৎসব চলাকালে দেশের কোথাও যাতে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর, অনাকাঙ্ক্ষিত বা উসকানিমূলক ঘটনা না ঘটে, সে জন্য নিচ্ছিদ্র নিরাপত্তা নজরদারির বিশেষ দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। দেশের প্রতিটি সংসদীয় আসনের দায়িত্বপ্রাপ্ত সংসদ সদস্যদের নিজ নিজ এলাকার পূজামণ্ডপগুলোতে সার্বিক আয়োজনের সঙ্গে সার্বক্ষণিক সম্পৃক্ত ও সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে, যাতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি সংসদ সদস্যরা মাঠপর্যায়ে যথাযথ সমন্বয়কের কাজ করতে পারেন।
আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন প্রসঙ্গে চিফ হুইপ আরও উল্লেখ করেন, এই নির্বাচনে দলীয়ভাবে একক ও যোগ্য প্রার্থী বাছাই করার ক্ষেত্রে বিশেষ প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হবে, যাতে জনগণের কাছে প্রকৃত অর্থে গ্রহণযোগ্য ও সৎ ব্যক্তিরাই নির্বাচিত হতে পারেন। যেহেতু এবার দলীয় প্রতীকে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে না, তাই তৃণমূল পর্যায়ে সার্বিক ঐক্য বজায় রেখে একটি উৎসবমুখর পরিবেশে জনগণের ভোটে প্রকৃত যোগ্য প্রতিনিধি নির্বাচনের ওপর সর্বোচ্চ জোর দেওয়া হচ্ছে। তিনি জানান, নির্বাচনের সময়সূচি নির্বাচন কমিশন ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের আলোচনার ভিত্তিতে ঠিক হবে, তবে কমিশনের কাজে কোনো প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ করা হবে না।
দলীয় ঐক্য, প্রশাসনিক শৃঙ্খলা ও প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার কথা তুলে ধরে চিফ হুইপ বলেন, প্রধানমন্ত্রী সবাইকে সঙ্গে নিয়ে দেশ গড়তে চান। সংসদ সদস্যদের নিজ নিজ এলাকার সাধারণ মানুষের অভাব-অভিযোগ ও সমস্যা সরেজমিনে জেনে তা দ্রুত সমাধানের জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোর সঙ্গে সমন্বয় করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া বিদেশে কর্মরত বাংলাদেশি প্রবাসী শ্রমিকদের কল্যাণ ও নিরাপত্তার বিষয়ে সরকার সম্পূর্ণ সচেতন রয়েছে উল্লেখ করে তিনি জানান, পরিস্থিতি বিবেচনায় তাঁদের নিরাপদে রাখা কিংবা প্রয়োজনে দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়েও সরকার প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ গ্রহণ করছে।






















