দেশের দীর্ঘদিনের সামগ্রিক অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রা, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের অদম্য প্রসার এবং বৃহত্তর জাতীয় স্বার্থকে সর্বাগ্রে সামনে রেখে একটি কার্যকর ও সমন্বিত ‘জাতীয় বন্দর কৌশল’ প্রণয়নের কাজ দ্রুত এগিয়ে চলছে বলে জানিয়েছেন নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। তিনি অত্যন্ত স্পষ্টভাষায় উল্লেখ করেছেন যে, বাংলাদেশের সামগ্রিক আমদানি-রফতানি এবং বহুমাত্রিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের একটি বিশাল ও গুরুত্বপূর্ণ অংশ প্রত্যক্ষভাবে সমুদ্রবন্দর, নদীবন্দর এবং স্থলবন্দরগুলোর সুচারু ব্যবস্থাপনার সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। তাই বর্তমান প্রেক্ষাপটে বন্দর ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে আন্তঃপ্রাতিষ্ঠানিক সমন্বয় বৃদ্ধি, অপারেশনাল দক্ষতা অর্জন এবং একটি সুসংহত কৌশল নির্ধারণ করা সময়ের সবচেয়ে অনিবার্য দাবি।
গত রবিবার (১১ অক্টোবর ২০২৬) রাজধানী ঢাকার একটি স্বনামধন্য হোটেলে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সরাসরি উদ্যোগে আয়োজিত এক বিশেষ সেমিনারে প্রধান অতিথির আসন থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই বক্তব্য প্রদান করেন নৌপরিবহনমন্ত্রী। উক্ত উচ্চপর্যায়ের সেমিনারে নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী রাজীব আহসান, বাংলাদেশে নিযুক্ত জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা (জাইকা)-র কান্ট্রি ডিরেক্টর তাকাহাশি, চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষসহ দেশের বিভিন্ন সমুদ্র, নদী ও স্থলবন্দরের সম্মানিত চেয়ারম্যানবৃন্দ, সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সরকারি মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরের উর্ধ্বতন প্রতিনিধিগণ এবং দেশের বিশিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়সমূহের খ্যাতনামা শিক্ষক ও বিশেষজ্ঞ গবেষকগণ সশরীরে উপস্থিত ছিলেন।
সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম দৃঢ়তার সঙ্গে বলেন যে, জাতীয় বন্দর কৌশল প্রণয়নের এই মহৎ উদ্যোগ গ্রহণের ক্ষেত্রে কোনো নির্দিষ্ট একক সংস্থা, বিভাগ বা মন্ত্রণালয়ের নিজস্ব এখতিয়ার কিংবা কর্তৃত্বকে খাটো করে দেখা হবে না। বরং এর মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত সংশ্লিষ্ট সকল সরকারি মন্ত্রণালয়, বন্দর কর্তৃপক্ষ, বিভিন্ন নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থা, দেশের শীর্ষস্থানীয় ব্যবসায়ী সমাজ, অভিজ্ঞ আমদানি-রফতানিকারক এবং বিষয়ভিত্তিক বিশেষজ্ঞদের সুচিন্তিত মতামতকে গুরুত্ব দিয়ে দেশের বৃহত্তর অর্থনৈতিক স্বার্থকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার প্রদান করা।
মন্ত্রী আক্ষেপ প্রকাশ করে বলেন যে, বাংলাদেশের মতো বিকাশমান অর্থনীতির দেশের জন্য একটি সমন্বিত ও সুসংগঠিত বন্দর ব্যবস্থাপনা কৌশল অনেক আগেই প্রণয়ন করা অত্যন্ত প্রয়োজন ছিল। দেশের ব্যবসা-বাণিজ্য ও শিল্পায়নের বর্তমান দ্রতগতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বন্দরসমূহের হ্যান্ডলিং সক্ষমতা বহুগুণ বৃদ্ধি করা, আধুনিক পরিচালন ব্যবস্থার প্রবর্তন করা এবং দায়িত্বশীল কর্তৃপক্ষগুলোর মধ্যকার পারস্পরিক যোগাযোগ ও সমন্বয় জোরদার করা এখন সর্বাধিক জরুরি হয়ে পড়েছে। দীর্ঘদিনের এই পুঞ্জীভূত প্রয়োজন এবং কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য পূরণের অংশ হিসেবেই বর্তমান সরকার একটি যুগোপযোগী জাতীয় বন্দর কৌশল চূড়ান্তকরণের দিকে সুনির্দিষ্টভাবে এগিয়ে চলেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
এই বিশাল কর্মযজ্ঞে আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগী সংস্থার ভূমিকার কথা স্মরণ করে মন্ত্রী জানান যে, জাপান সরকারের সহযোগী ও বন্ধুপ্রতিম প্রতিষ্ঠান জাইকা (JICA) এবং দেশি-বিদেশি অভিজ্ঞ বিশেষজ্ঞরা এই কৌশল প্রণয়নের কার্যক্রমে অত্যন্ত আন্তরিকভাবে সার্বিক সহযোগিতা প্রদান করে চলেছেন। বাংলাদেশের দীর্ঘমেয়াদি অবকাঠামোগত উন্নয়ন পরিকল্পনা ও বিভিন্ন মেগা প্রকল্পে দীর্ঘদিন ধরে বিশ্বস্ত অংশীদার হিসেবে কাজ করে আসা জাপান সরকার এবার জাতীয় বন্দর কৌশল প্রণয়নের মতো গুরুত্বপূর্ণ দলিলেও বাংলাদেশের পাশে রয়েছে। দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞদের সুদীর্ঘ অভিজ্ঞতা, মেধা ও পেশাদার মতামত যথাযথভাবে কাজে লাগিয়ে একটি অত্যন্ত যুগোপযোগী ও কার্যকর কৌশলপত্র তৈরি করা সম্ভব হবে বলে তিনি দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
জাতীয় বন্দর কৌশল প্রণয়নের সময় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল বিষয়টির ওপর আলোকপাত করে মন্ত্রী বলেন যে, এই প্রক্রিয়ায় রাষ্ট্রের বৃহত্তর ও সর্বোচ্চ স্বার্থকে সবকিছুর ঊর্ধ্বে স্থান দিতে হবে। কোনো একক মন্ত্রণালয় বা সংস্থার নিজস্ব প্রাতিষ্ঠানিক অবস্থান, এখতিয়ার কিংবা প্রশাসনিক স্বার্থ যেন এই সমন্বিত ও জনস্বার্থমূলক উদ্যোগের পথে কোনোভাবেই বাধা হয়ে না দাঁড়ায়, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সকলকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি। তবে এর অর্থ এই নয় যে, কোনো নির্দিষ্ট কর্তৃপক্ষের আইনগত দায়িত্বের পরিধি বা সাংবিধানিক কার্যক্রমকে অবমূল্যায়ন করা হবে; বরং বিদ্যমান আইনি কাঠামোর ভেতরে থেকেই পারস্পরিক সহযোগিতা ও আস্থার পরিবেশ আরও সুদৃঢ় করতে হবে।
তিনি আরও ব্যাখ্যা করে বলেন যে, বাংলাদেশের সমুদ্রবন্দর, নদীবন্দর এবং স্থলবন্দরগুলো দেশের প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী পৃথক পৃথক স্বাধীন কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে পরিচালিত হয়ে থাকে। এসব বন্দরের দৈনন্দিন কার্যপরিচালনার সঙ্গে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের পাশাপাশি বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর), শুল্ক বা কাস্টমস বিভাগ এবং আমদানি-রফতানি বাণিজ্যের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত নানা সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের গভীর সম্পর্ক রয়েছে। এই বাস্তবতার আলোকেই জাতীয় বন্দর কৌশল প্রণয়নের ক্ষেত্রে প্রতিটি অংশীজন ও সংশ্লিষ্ট পক্ষের সুচিন্তিত মতামত নেওয়া অত্যন্ত আবশ্যক।
কোনো একটি নির্দিষ্ট পক্ষের সংকীর্ণ স্বার্থকে এককভাবে প্রাধান্য দিয়ে যদি কোনো কৌশলপত্র বা রূপরেখা তৈরি করা হয়, তবে তা কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জনের পথে বড় ধরনের প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করতে পারে বলে সতর্ক করেন মন্ত্রী। বন্দর ব্যবস্থাপনার সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে যুক্ত সমস্ত প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব, সুনির্দিষ্ট প্রয়োজন এবং প্রাতিষ্ঠানিক স্বার্থের নিখুঁত ভারসাম্য বজায় রেখে একটি সমন্বিত প্রশাসনিক কাঠামো গড়ে তুলতে হবে। এ ক্ষেত্রে আমলাতান্ত্রিক জটিলতা পরিহার করে বিশেষজ্ঞদের মূল দায়িত্ব হবে দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতা, ভবিষ্যতের বৈশ্বিক বাণিজ্যের গতিপ্রকৃতি এবং আন্তর্জাতিক উন্নত বন্দরগুলোর বাস্তব অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে অত্যন্ত কার্যকর ও বাস্তবসম্মত সুপারিশমালা জাতির সামনে তুলে ধরা।
বাংলাদেশের আধুনিক বন্দর ব্যবস্থাপনায় আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ এবং উন্নত বিশ্বমানের ব্যবস্থাপনা অভিজ্ঞতাকে কার্যকরভাবে কাজে লাগানোর অপার সম্ভাবনার কথা তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন যে, ইতোমধ্যে দেশের প্রধান বন্দরসমূহের কন্টেইনার পরিচালনা, বার্থিং এবং আধুনিক টার্মিনাল ব্যবস্থাপনার কাজে স্বনামধন্য আন্তর্জাতিক শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। এই আন্তর্জাতিক উদ্যোগগুলোকে আরও বেশি গতিশীল ও ফলপ্রসূ করতে হলে বন্দর পরিচালনা, বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ, অভ্যন্তরীণ ব্যবসা-বাণিজ্য এবং সর্বোপরি রাষ্ট্রের সার্বভৌম অর্থনৈতিক স্বার্থের মধ্যে একটি নিপুণ ভারসাম্য রক্ষা করা অপরিহার্য।
বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় কন্টেইনার টার্মিনাল অপারেটর ও বৈশ্বিক প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান সম্পৃক্ততার উদাহরণ দিয়ে মন্ত্রী বিশ্বখ্যাত প্রতিষ্ঠান ডিপি ওয়ার্ল্ড (DP World), ডেনমার্কের বিখ্যাত এপি মোলার (AP Moller) এবং সিঙ্গাপুরের রাষ্ট্রায়ত্ত পিএসএ (PSA)-এর সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন উদ্যোগের কথা অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন যে, এই সমস্ত বৈশ্বিক প্রতিষ্ঠানের দীর্ঘদিনের প্রমাণিত আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতাকে যথাযথভাবে কাজে লাগিয়ে দেশের সমুদ্র ও স্থলবন্দরগুলোর কর্মদক্ষতা ও সেবা প্রদানের মান বহুগুণ বাড়িয়ে নেওয়া সম্ভব। তবে এ ধরনের বহুমুখী উদ্যোগের সর্বোচ্চ সুফল পেতে হলে অবশ্যই একটি সুসংহত সমন্বিত নীতি এবং সুদূরপ্রসারী দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা হাতে নেওয়া প্রয়োজন।
বন্দর ব্যবস্থাপনায় দক্ষতা ও গতিশীলতা বৃদ্ধি পেলে তা কেবল আমদানি-রফতানি কার্যক্রমকে সহজতর করবে না; বরং এর সুদূরপ্রসারী ইতিবাচক প্রভাব পড়বে দেশের সামগ্রিক সামষ্টিক অর্থনীতিতেও। বন্দরকেন্দ্রিক আধুনিক পরিবহন ব্যবস্থা, নিরবচ্ছিন্ন সাপ্লাই চেইন বা সরবরাহ ব্যবস্থাপনা, বিশাল ব্যবসায়িক ক্ষেত্র এবং স্থানীয় উদোক্তাদের নানামুখী অর্থনৈতিক কার্যক্রম আরও অধিক গতিশীল হওয়ার সুবর্ণ সুযোগ তৈরি হবে। ফলে যেকোনো জাতীয় বন্দর কৌশল প্রণয়নের সময় দেশের তৃণমূলের উদ্যোক্তা, আমদানিকারক, রফতানিকারক এবং সাধারণ ব্যবসায়ীদের প্রকৃত প্রয়োজন ও স্বার্থকে অত্যন্ত নিখুঁতভাবে বিবেচনায় রাখতে হবে।
মন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন যে, বন্দরের সার্বিক উন্নয়নকে কেবল কিছু ভৌত অবকাঠামো নির্মাণ বা জেটি বাড়ানোর কাজের মধ্যে সীমিত রাখলে কখনোই কাঙ্ক্ষিত সুফল পাওয়া যাবে না। এর পরিবর্তে বন্দর পরিচালনা, আধুনিক কন্টেইনার হ্যান্ডলিং, দ্রুত পণ্য খালাস, উন্নত লজিস্টিক ও পরিবহন সংযোগ, কাস্টমস ক্লিয়ারেন্স এবং সংশ্লিষ্ট সকল সেবা খাতের মধ্যে সুদৃঢ় সমন্বয় বাড়াতে হবে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক মানের নিরাপদ ও আধুনিক সেবা নিশ্চিত করে বন্দর ব্যবহারকারী দেশি-বিদেশি ব্যবসায়ীদের জন্য একটি সম্পূর্ণ ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ গড়ে তুলতে হবে। এর মাধ্যমেই কেবল বাংলাদেশের বন্দরগুলোকে আধুনিক আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের সঙ্গে সম্পূর্ণ উপযোগী, প্রতিযোগিতামূলক এবং বিশ্বমানের করে তোলা সম্ভব হবে।
সেমিনারের সমাপনী অংশে নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম পুনর্ব্যক্ত করেন যে, জাতীয় বন্দর কৌশল প্রণয়নের মতো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই জাতীয় দায়িত্বের সঙ্গে যুক্ত প্রত্যেকটি ব্যক্তিকে অবশ্যই এই মানসিকতা নিয়ে কাজ করতে হবে যে এটি কেবল একটি নির্দিষ্ট মন্ত্রণালয় বা কোনো একক কর্তৃপক্ষের অভ্যন্তরীণ বিষয় নয়। দেশের অদম্য অর্থনৈতিক সম্ভাবনাকে বাস্তবে রূপদান এবং বৈশ্বিক বাণিজ্যে বাংলাদেশের অবস্থান আরও সুদৃঢ় করার জন্য এই কৌশলের গুরুত্ব অপরিসীম। তাই সমস্ত ধরনের ব্যক্তিগত, প্রাতিষ্ঠানিক কিংবা সংকীর্ণ দলীয় বা আঞ্চলিক স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে দেশের স্বার্থে সকলকে সম্মিলিতভাবে দায়িত্ব পালন করতে হবে। সেমিনারে উপস্থিত দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞ গবেষক, বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বন্দর কর্তৃপক্ষের প্রতিনিধি এবং বিশেষ করে জাইকার সকল সম্মানিত প্রতিনিধিদের প্রতি আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন তিনি। পরিশেষে মন্ত্রী আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, সংশ্লিষ্ট সকলের সম্মিলিত ও ঐকান্তিক প্রচেষ্টার মাধ্যমেই বাংলাদেশ একটি অত্যন্ত কার্যকর, আধুনিক ও সমন্বিত ‘জাতীয় বন্দর কৌশল’ উপহার পেতে সক্ষম হবে, যা দেশের সার্বিক বন্দর ব্যবস্থার আধুনিকায়ন, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের বাধাহীন প্রসার এবং জাতীয় অর্থনীতির দীর্ঘমেয়াদি অগ্রযাত্রায় এক ঐতিহাসিক ও মাইলফলক ভূমিকা পালন করবে।






















