আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজাকে সামনে রেখে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রতিকৃতিতে কালি লেপনের ঘটনাকে কেন্দ্র করে নতুন করে উদ্বেগ ও উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। ভারতীয় আগ্রসনের অভিযোগ তুলে এই ন্যাক্কারজনক কাণ্ড ঘটানোর পর পরিস্থিতি বিশৃঙ্খল হয়ে ওঠার আশঙ্কায় পুলিশ কঠোর প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।
শনিবার (১০ ঘণ্টোর) দুপুরে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির সামনের ফুটপাথের দেয়ালে অঙ্কিত রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রতিকৃতিতে কালি ও চুন দেওয়ার ঘটনায় ‘রাষ্ট্র সংলাপ ফোরাম’ নামের সংগঠনের সদস্যসচিব এ এন এম আয়াসসহ এক নারী ও বেশ কয়েকজনকে আটক করেছে শাহবাগ থানা পুলিশ। অনলাইন সংবাদমাধ্যম ‘বাংলা ট্রিবিউন’-এর এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) রমনা বিভাগের উপকমিশনার শেখ জাহিদুল ইসলাম গণমাধ্যমকে জানান, সম্ভাব্য বিশৃঙ্খলা এড়াতে এবং শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখার অংশ হিসেবে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা হিসেবে তাদের আটক করা হয়েছে। পরবর্তীতে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ও আইনি ধারায় তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে এ ধরনের সাংস্কৃতিক প্রতীকে কালি লেপনের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। গোয়েন্দা সূত্রে জানা গেছে, ধর্মীয় উৎসবের প্রাক্কালে দেশের বিশিষ্ট সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বের প্রতিকৃতি বিকৃত করার পেছনে কোনো সুদূরপ্রসারী চক্রান্ত বা পরিকল্পিত উসকানি রয়েছে কি না, তা গভীরভাবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এর আগে গত ৬ অক্টোবর ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ উদ্দীন আহমদ আসন্ন দুর্গাপূজার নিরাপত্তাকে পুলিশের জন্য একটি ‘অগ্নিপরীক্ষা’ হিসেবে উল্লেখ করে রাজধানীতে পোশাকধারী ও সাদা পোশাকে সর্বোচ্চ সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন।
উল্লেখ্য, গত ৫ অক্টোবর ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের উদ্যোগে সেগুনবাগিচার ফুটপাত দখলমুক্ত করার পর সৌন্দর্যবর্ধনের অংশ হিসেবে ওই দেয়ালে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম, শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন ও চলচ্চিত্রকার সত্যজিৎ রায়সহ মোট ১০ জন বিশিষ্ট মনীষীর প্রতিকৃতি অঙ্কন করা হয়েছিল। এর মাত্র কয়েক দিন বাদেই রবীন্দ্রনাথের প্রতিকৃতিতে কালি মাখানোর এই অনভিপ্রেত ঘটনা ঘটল।


























