দেশে প্রবীণ জনগোষ্ঠীর সামাজিক নিরাপত্তা ও মৌলিক মর্যাদা সুনিশ্চিত করতে বর্তমানে ৬২ লাখ প্রবীণ নারী-পুরুষকে নিয়মিত ‘বয়স্ক ভাতা’ প্রদান করছে সরকার। একই সঙ্গে উপকারভোগীর সংখ্যা বৃদ্ধির পাশাপাশি ভাতার নির্ধারিত অর্থও কিছুটা বৃদ্ধি করা হয়েছে। তবে বাজেটের সীমাবদ্ধতার কারণে যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও এখনো অনেক দুস্থ প্রবীণ এই নিরাপত্তা কর্মসূচির বাইরে রয়েছেন।
শুক্রবার (৯ অক্টোবর) সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. মোহাম্মদ আবু ইউছুফ এসব তথ্য নিশ্চিত করেন। অনলাইন সংবাদমাধ্যম ‘ঢাকা টাইমস’-এ প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ সংক্রান্ত সার্বিক চিত্র তুলে ধরা হয়েছে।
বয়স্ক ভাতা কর্মসূচির পরিসংখ্যান তুলে ধরে সমাজকল্যাণ সচিব জানান, প্রতিবছরই সামাজিক বাজেটের সামর্থ্য অনুযায়ী এই ভাতার পরিধি প্রসারিত করা হচ্ছে। এর আগে দেশে ৬০ লাখ প্রবীণকে এই ভাতার আওতায় রাখা হয়েছিল, যা পরবর্তীতে ৬১ লাখে উন্নীত করা হয়। চলতি অর্থ বছরে নতুন করে আরও ১ লাখ প্রবীণকে অন্তর্ভুক্ত করায় মোট উপকারভোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬২ লাখে। ভাতার আবেদনের ক্ষেত্রে নারীদের সর্বনিম্ন বয়স ৬০ বছর এবং পুরুষদের বয়স ৬৫ বছর নির্ধারণ করা রয়েছে। তবে বয়সসীমা পূর্ণ করলেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে ভাতা মিলবে না; স্বচ্ছতা রক্ষায় নির্দিষ্ট নীতিমালা ও দারিদ্র্যের সার্বিক যোগ্যতা নিবিড় যাচাই-বাছাই করেই চূড়ান্ত উপকারভোগী নির্বাচন করা হচ্ছে।
প্রবীণদের সামাজিক মর্যাদার বিষয়টি তুলে ধরে ড. আবু ইউছুফ বলেন, প্রবীণদের প্রজ্ঞা ও অভিজ্ঞতা সমাজ ও রাষ্ট্রের জন্য অমূল্য সম্পদ। অবসর গ্রহণের অর্থ সমাজে তাঁদের প্রয়োজনীয়তা ফুরিয়ে যাওয়া নয়। দারিদ্র্যের চরম কষ্টে থাকা প্রবীণদের দৈনন্দিন ব্যয় মেটাতে এবং পরিবারের ওপর তাঁদের আর্থিক নির্ভরতা কিছুটা লাঘব করতে এই ভাতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। একই সঙ্গে প্রবীণদের যাতায়াত সুগম করতে রেল ও মেট্রোরেলের পাশাপাশি সাধারণ গণপরিবহনে প্রবীণ নাগরিকদের জন্য বিশেষ ২৫ শতাংশ অর্থ ছাড় ও সুবিধার ব্যবস্থা রয়েছে বলে জানান তিনি।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিতে সরকার তথ্যভিত্তিক ও ডিজিটালাইজড পদ্ধতি জোরদার করছে উল্লেখ করে সচিব বলেন, প্রকৃত অভাবগ্রস্ত ও দুস্থ প্রবীণদের কাছে ভাতা পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে ডেটাবেজ হালনাগাদ করা হচ্ছে। জাতীয় বাজেটে পর্যাপ্ত অর্থ বরাদ্দ পাওয়া সাপেক্ষে দেশের ভাতা পাওয়ার যোগ্য প্রতিটি প্রবীণ নাগরিককে পর্যায়ক্রমে এই নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় নিয়ে আসার জন্য সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় সার্বিক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।






















