Dhaka ০১:৪৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ :
ডিসেম্বরের মধ্যে নতুন মজুরি কাঠামো চূড়ান্ত, শ্রমিকদের বেতন জানুয়ারি থেকে কার্যকর বড়দিন উদযাপনে খ্রিষ্টান কল্যাণ ট্রাস্টকে ৩ কোটি টাকা অনুদান দিলেন প্রধানমন্ত্রী কারখানা বন্ধের চক্রান্ত ও উসকানিকারীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে: সালাহউদ্দিন আহমদ পোশাকশিল্পে টানা অস্থিতিশীলতায় চরম উদ্বিগ্ন উদ্যোক্তারা দেশে কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর ৮৪ শতাংশ অনানুষ্ঠানিক খাতে নিয়োজিত: বিশ্বব্যাংক ভ্যাটসহ প্রতি ভরি ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম দাঁড়াল ২ লাখ ২০ হাজার ৮৫৮ টাকা ডলারের বিনিময় হারে ঊর্ধ্বগতি, ব্যাংকের এমডিদের সতর্ক করলেন গভর্নর উদ্যোক্তাদের অনীহায় বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি কমে ৪.১৭ শতাংশে চার মাসে রেমিট্যান্স প্রবাহে ১৪.৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি নবায়নযোগ্য জ্বালানি এখন আর শুধু সম্ভাবনা নয়, অনিবার্য বাস্তবতা: প্রধানমন্ত্রী

সিলেটে কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযানে কমেছে রাতের আড্ডা

  • সর্বশেষ হালনাগাদ : ০১:৫৮:৫৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর ২০২৬
  • ১৬ বার দেখা হয়েছে

রাত নামলেই সিলেট নগরের বিভিন্ন সড়ক, মোড় ও অলিগলিতে কিশোর-তরুণদের যে নিয়মিত আড্ডা জমার চিরচেনা দৃশ্য দেখা যেত, সাম্প্রতিক সময়ে পুলিশের কঠোর কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযানের ফলে সেই চিত্রে বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে। তবে এই দৃশ্যমান পরিবর্তন ঘিরে স্থানীয় সাধারণ মানুষের মাঝে মিশ্র প্রতিক্রিয়া ও কিছুটা উদ্বেগও বিরাজ করছে। গত বুধবার (৭ অক্টোবর ২০২৬) রাত ১০টা থেকে ১২টা পর্যন্ত নগরের সুবিদবাজার, জালালাবাদ, আম্বরখানা, মজুমদারি, খাসদবীর ও চৌখিদেখি এলাকার বিভিন্ন পয়েন্ট সরেজমিন ঘুরে আগের তুলনায় রাস্তাঘাট বেশ ফাঁকা ও নীরব দেখা গেছে।

জানা গেছে, গত ৪ অক্টোবর রাত থেকে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ বা এসএমপির পক্ষ থেকে এই বিশেষ কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযান আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু করা হয়েছে। পুলিশ সূত্রে প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, এই ধারাবাহিক অভিযানের প্রথম রাতেই বিভিন্ন এলাকা থেকে ৪৬ জনকে আটক করা হয়েছিল এবং এর পরের দিন আরও ৬০ জনকে আটক করা হয়। সব মিলিয়ে প্রথম দুই দিনে মোট ১০৬ জনকে আটক করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এই জোরালো অভিযানের পর থেকেই নগরের গুরুত্বপূর্ণ প্রধান সড়ক, মোড় এবং বিভিন্ন পাড়া-মহল্লায় পুলিশের নিয়মিত টহল ও কড়া নজরদারি বহুগুণ বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।

গত মঙ্গলবার সন্ধ্যা থেকে গভীর রাত পর্যন্ত ধোপাদিঘীরপাড়, সাগরদিঘীরপাড়, উপশহর ও এয়ারপোর্ট এলাকার বিভিন্ন পয়েন্টে পুলিশের শক্ত অবস্থান ও নিয়মিত টহল দিতে দেখা গেছে। বিশেষ করে রাত ১০টার পর থেকে খোলা থাকা বিভিন্ন চায়ের দোকান, রেস্তোরাঁ ও অন্যান্য ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে আকস্মিক তল্লাশি চালানো হচ্ছে এবং সন্দেহভাজন কিশোর, তরুণ ও যুবকদের থামিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। পুলিশের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, অপ্রয়োজনে বাইরে ঘোরাফেরা করা কিংবা কোনো ধরনের সন্দেহজনক আচরণ দেখা গেলে মেট্রোপলিটন পুলিশ অধ্যাদেশের বিধান অনুযায়ী কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এর আগে গত ৩০ সেপ্টেম্বর সিলেট-১ আসনের সংসদ সদস্য ও বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে উল্লেখ করেছিলেন যে, বর্তমান সময়ের সংগঠিত অপরাধের বড় একটি অংশের মূল উৎস হলো এই কিশোর গ্যাং। তাই কিশোর গ্যাংয়ের লাগাম টেনে ধরতে ইতিমধ্যে এলাকাভিত্তিক অপরাধীদের তালিকা তৈরির গুরুত্বপূর্ণ কাজ চলমান রয়েছে।

এদিকে পুলিশের এই টানা ও আকস্মিক তৎপরতার সরাসরি প্রভাব পড়েছে নগরের রাতের ক্ষুদ্র ব্যবসা ও অর্থনীতিতেও। নগরের হাউজিং এস্টেট এলাকার গেটে ভ্রাম্যমাণ ডিম বিক্রেতা কালা মিয়া জানান যে, গত দুই দিন ধরে রাত ১০টার পর থেকে তার দোকানে ক্রেতার উপস্থিতি আশঙ্কাজনকভাবে কমে গেছে। আগে যেখানে তিনি রাতে দেড় থেকে দুই হাজার টাকার মতো বিক্রি করতেন, সেখানে এখন কোনো রকমে হাজারখানেক টাকা বিক্রি হচ্ছে। শহরের বিভিন্ন স্থানে পুলিশি অভিযানের কারণে রাতের কাস্টমার কমে যাওয়ায় তাঁর ব্যবসায় মন্দা দেখা দিয়েছে বলে তিনি জানান। আম্বরখানার চা বিক্রেতা ইসলাম উদ্দিনও একই ধরনের অভিজ্ঞতা ব্যক্ত করে বলেন যে, পুলিশ নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করায় এবং ঘন ঘন পুলিশের গাড়ি টহল দেওয়ায় ক্রেতারা রাতে বাইরে আসতে ভয় পাচ্ছেন। আগে যেখানে সন্ধ্যার পর প্রচুর কিশোর-তরুণ দোকানে ভিড় জমাত, খেত ও আড্ডা দিত, এখন তাদের উপস্থিতি অনেকটাই কমে গেছে। আম্বরখানা-এয়ারপোর্ট সড়কের ৬০ বছর বয়সি প্রবীণ চালক ছালাম মিয়া রাতের এই দৃশ্যপটে পরিবর্তনের কথা জানিয়ে বলেন যে, আগে যুবকেরা দলবেঁধে এয়ারপোর্ট গেটসহ বিভিন্ন এলাকায় আড্ডা দিত, কিন্তু গত দুদিন ধরে যাত্রীর সংখ্যা অনেক কমে গেছে। তবে এই অভিযানকে সাধুবাদ জানিয়ে তিনি মন্তব্য করেন যে, তরুণ প্রজন্মের একটি বড় অংশের মাঝে মুরব্বি বা বয়োজ্যেষ্ঠদের প্রতি সম্মানবোধের অভাব দেখা দিয়েছে, এমনকি বয়স্ক মানুষের সামনেও ছোট ছেলেরা প্রকাশ্যে ধূমপান করে ও বেপরোয়া আচরণ করে। পুলিশের এই অভিযান ইতিবাচক উল্লেখ করে তিনি এ ধরনের কার্যক্রম নিয়মিত চালিয়ে যাওয়ার দাবি জানান।

পুলিশের চলমান এই বিশেষ অভিযানের বিষয়ে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের (এসএমপি) অতিরিক্ত উপকমিশনার মো. সাইফুল ইসলাম জোরালোভাবে জানিয়েছেন যে, রাতের বেলা সাধারণ মানুষের নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন চলাচল নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই এই বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। নাগরিকদের সামগ্রিক নিরাপত্তা বিধান, কিশোর গ্যাংয়ের অবৈধ তৎপরতা পুরোপুরি বন্ধ এবং রাতের বেলা ছিনতাইয়ের মতো অপরাধ প্রতিরোধে পুলিশের এই অভিযান নিয়মিত ও ধারাবাহিকভাবে অব্যাহত থাকবে। তিনি আরও সতর্ক করে বলেন যে, রাতের বেলা কোনো প্রকার সুনির্দিষ্ট কারণ ছাড়া অলিগলি কিংবা বিভিন্ন মোড়ে অকারণে আড্ডা দেওয়া কিশোর, যুবকসহ যেকোনো ব্যক্তিকে পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদ করবে এবং প্রয়োজনে আটক করবে। রাতে অলিগলির মোড়ে অযথা আড্ডা দিলেই কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সাধারণ নাগরিকদের জীবন ও সম্পত্তির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ প্রতিদিন এই অভিযান পরিচালনা করবে বলে তিনি দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। পুলিশের এই ধারাবাহিক ও কঠোর অবস্থানের ফলে সিলেট নগরের রাতের পরিবেশে দৃশ্যমান শৃঙ্খলা ফিরে এলেও এই ইতিবাচক পরিবর্তন দীর্ঘস্থায়ী ও টেকসই হয় কি না, সেটাই এখন দেখার মূল বিষয়।

জনপ্রিয়

পোশাক খাতের শ্রমিক আন্দোলনে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নাশকতার প্রমাণ মিলল

সিলেটে কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযানে কমেছে রাতের আড্ডা

সর্বশেষ হালনাগাদ : ০১:৫৮:৫৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর ২০২৬

রাত নামলেই সিলেট নগরের বিভিন্ন সড়ক, মোড় ও অলিগলিতে কিশোর-তরুণদের যে নিয়মিত আড্ডা জমার চিরচেনা দৃশ্য দেখা যেত, সাম্প্রতিক সময়ে পুলিশের কঠোর কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযানের ফলে সেই চিত্রে বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে। তবে এই দৃশ্যমান পরিবর্তন ঘিরে স্থানীয় সাধারণ মানুষের মাঝে মিশ্র প্রতিক্রিয়া ও কিছুটা উদ্বেগও বিরাজ করছে। গত বুধবার (৭ অক্টোবর ২০২৬) রাত ১০টা থেকে ১২টা পর্যন্ত নগরের সুবিদবাজার, জালালাবাদ, আম্বরখানা, মজুমদারি, খাসদবীর ও চৌখিদেখি এলাকার বিভিন্ন পয়েন্ট সরেজমিন ঘুরে আগের তুলনায় রাস্তাঘাট বেশ ফাঁকা ও নীরব দেখা গেছে।

জানা গেছে, গত ৪ অক্টোবর রাত থেকে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ বা এসএমপির পক্ষ থেকে এই বিশেষ কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযান আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু করা হয়েছে। পুলিশ সূত্রে প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, এই ধারাবাহিক অভিযানের প্রথম রাতেই বিভিন্ন এলাকা থেকে ৪৬ জনকে আটক করা হয়েছিল এবং এর পরের দিন আরও ৬০ জনকে আটক করা হয়। সব মিলিয়ে প্রথম দুই দিনে মোট ১০৬ জনকে আটক করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এই জোরালো অভিযানের পর থেকেই নগরের গুরুত্বপূর্ণ প্রধান সড়ক, মোড় এবং বিভিন্ন পাড়া-মহল্লায় পুলিশের নিয়মিত টহল ও কড়া নজরদারি বহুগুণ বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।

গত মঙ্গলবার সন্ধ্যা থেকে গভীর রাত পর্যন্ত ধোপাদিঘীরপাড়, সাগরদিঘীরপাড়, উপশহর ও এয়ারপোর্ট এলাকার বিভিন্ন পয়েন্টে পুলিশের শক্ত অবস্থান ও নিয়মিত টহল দিতে দেখা গেছে। বিশেষ করে রাত ১০টার পর থেকে খোলা থাকা বিভিন্ন চায়ের দোকান, রেস্তোরাঁ ও অন্যান্য ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে আকস্মিক তল্লাশি চালানো হচ্ছে এবং সন্দেহভাজন কিশোর, তরুণ ও যুবকদের থামিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। পুলিশের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, অপ্রয়োজনে বাইরে ঘোরাফেরা করা কিংবা কোনো ধরনের সন্দেহজনক আচরণ দেখা গেলে মেট্রোপলিটন পুলিশ অধ্যাদেশের বিধান অনুযায়ী কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এর আগে গত ৩০ সেপ্টেম্বর সিলেট-১ আসনের সংসদ সদস্য ও বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে উল্লেখ করেছিলেন যে, বর্তমান সময়ের সংগঠিত অপরাধের বড় একটি অংশের মূল উৎস হলো এই কিশোর গ্যাং। তাই কিশোর গ্যাংয়ের লাগাম টেনে ধরতে ইতিমধ্যে এলাকাভিত্তিক অপরাধীদের তালিকা তৈরির গুরুত্বপূর্ণ কাজ চলমান রয়েছে।

এদিকে পুলিশের এই টানা ও আকস্মিক তৎপরতার সরাসরি প্রভাব পড়েছে নগরের রাতের ক্ষুদ্র ব্যবসা ও অর্থনীতিতেও। নগরের হাউজিং এস্টেট এলাকার গেটে ভ্রাম্যমাণ ডিম বিক্রেতা কালা মিয়া জানান যে, গত দুই দিন ধরে রাত ১০টার পর থেকে তার দোকানে ক্রেতার উপস্থিতি আশঙ্কাজনকভাবে কমে গেছে। আগে যেখানে তিনি রাতে দেড় থেকে দুই হাজার টাকার মতো বিক্রি করতেন, সেখানে এখন কোনো রকমে হাজারখানেক টাকা বিক্রি হচ্ছে। শহরের বিভিন্ন স্থানে পুলিশি অভিযানের কারণে রাতের কাস্টমার কমে যাওয়ায় তাঁর ব্যবসায় মন্দা দেখা দিয়েছে বলে তিনি জানান। আম্বরখানার চা বিক্রেতা ইসলাম উদ্দিনও একই ধরনের অভিজ্ঞতা ব্যক্ত করে বলেন যে, পুলিশ নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করায় এবং ঘন ঘন পুলিশের গাড়ি টহল দেওয়ায় ক্রেতারা রাতে বাইরে আসতে ভয় পাচ্ছেন। আগে যেখানে সন্ধ্যার পর প্রচুর কিশোর-তরুণ দোকানে ভিড় জমাত, খেত ও আড্ডা দিত, এখন তাদের উপস্থিতি অনেকটাই কমে গেছে। আম্বরখানা-এয়ারপোর্ট সড়কের ৬০ বছর বয়সি প্রবীণ চালক ছালাম মিয়া রাতের এই দৃশ্যপটে পরিবর্তনের কথা জানিয়ে বলেন যে, আগে যুবকেরা দলবেঁধে এয়ারপোর্ট গেটসহ বিভিন্ন এলাকায় আড্ডা দিত, কিন্তু গত দুদিন ধরে যাত্রীর সংখ্যা অনেক কমে গেছে। তবে এই অভিযানকে সাধুবাদ জানিয়ে তিনি মন্তব্য করেন যে, তরুণ প্রজন্মের একটি বড় অংশের মাঝে মুরব্বি বা বয়োজ্যেষ্ঠদের প্রতি সম্মানবোধের অভাব দেখা দিয়েছে, এমনকি বয়স্ক মানুষের সামনেও ছোট ছেলেরা প্রকাশ্যে ধূমপান করে ও বেপরোয়া আচরণ করে। পুলিশের এই অভিযান ইতিবাচক উল্লেখ করে তিনি এ ধরনের কার্যক্রম নিয়মিত চালিয়ে যাওয়ার দাবি জানান।

পুলিশের চলমান এই বিশেষ অভিযানের বিষয়ে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের (এসএমপি) অতিরিক্ত উপকমিশনার মো. সাইফুল ইসলাম জোরালোভাবে জানিয়েছেন যে, রাতের বেলা সাধারণ মানুষের নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন চলাচল নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই এই বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। নাগরিকদের সামগ্রিক নিরাপত্তা বিধান, কিশোর গ্যাংয়ের অবৈধ তৎপরতা পুরোপুরি বন্ধ এবং রাতের বেলা ছিনতাইয়ের মতো অপরাধ প্রতিরোধে পুলিশের এই অভিযান নিয়মিত ও ধারাবাহিকভাবে অব্যাহত থাকবে। তিনি আরও সতর্ক করে বলেন যে, রাতের বেলা কোনো প্রকার সুনির্দিষ্ট কারণ ছাড়া অলিগলি কিংবা বিভিন্ন মোড়ে অকারণে আড্ডা দেওয়া কিশোর, যুবকসহ যেকোনো ব্যক্তিকে পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদ করবে এবং প্রয়োজনে আটক করবে। রাতে অলিগলির মোড়ে অযথা আড্ডা দিলেই কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সাধারণ নাগরিকদের জীবন ও সম্পত্তির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ প্রতিদিন এই অভিযান পরিচালনা করবে বলে তিনি দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। পুলিশের এই ধারাবাহিক ও কঠোর অবস্থানের ফলে সিলেট নগরের রাতের পরিবেশে দৃশ্যমান শৃঙ্খলা ফিরে এলেও এই ইতিবাচক পরিবর্তন দীর্ঘস্থায়ী ও টেকসই হয় কি না, সেটাই এখন দেখার মূল বিষয়।