Dhaka ০৩:৩৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ :
ডিসেম্বরের মধ্যে নতুন মজুরি কাঠামো চূড়ান্ত, শ্রমিকদের বেতন জানুয়ারি থেকে কার্যকর বড়দিন উদযাপনে খ্রিষ্টান কল্যাণ ট্রাস্টকে ৩ কোটি টাকা অনুদান দিলেন প্রধানমন্ত্রী কারখানা বন্ধের চক্রান্ত ও উসকানিকারীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে: সালাহউদ্দিন আহমদ পোশাকশিল্পে টানা অস্থিতিশীলতায় চরম উদ্বিগ্ন উদ্যোক্তারা দেশে কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর ৮৪ শতাংশ অনানুষ্ঠানিক খাতে নিয়োজিত: বিশ্বব্যাংক ভ্যাটসহ প্রতি ভরি ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম দাঁড়াল ২ লাখ ২০ হাজার ৮৫৮ টাকা ডলারের বিনিময় হারে ঊর্ধ্বগতি, ব্যাংকের এমডিদের সতর্ক করলেন গভর্নর উদ্যোক্তাদের অনীহায় বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি কমে ৪.১৭ শতাংশে চার মাসে রেমিট্যান্স প্রবাহে ১৪.৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি নবায়নযোগ্য জ্বালানি এখন আর শুধু সম্ভাবনা নয়, অনিবার্য বাস্তবতা: প্রধানমন্ত্রী

১০ মাসের মধ্যে সর্বনিম্নে মূল্যস্ফীতি: আগস্টে সার্বিক হার কমে ৮.২৬ শতাংশে

  • সর্বশেষ হালনাগাদ : ০৭:০৯:৪০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ১৭ বার দেখা হয়েছে

কয়েক মাসের চড়া মূল্যস্ফীতির চাপ কাটিয়ে দেশের অর্থনীতিতে মূল্যচাপ কমার প্রবণতা অব্যাহত রয়েছে। টানা তিন মাস কমে চলতি বছরের আগস্টে সার্বিক মূল্যস্ফীতি নেমে এসেছে ৮.২৬ শতাংশে, যা গত ১০ মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন। একই সময়ে খাদ্য মূল্যস্ফীতি কমে ৭ শতাংশের ঘরে নেমে আসায় বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের আকাশচুম্বী দাম বৃদ্ধির গতি মন্থর হওয়ার স্পষ্ট ইঙ্গিত মিলছে।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) সর্বশেষ প্রকাশিত তথ্যানুযায়ী, জুনে মূল্যস্ফীতি ৯.১৬ শতাংশ এবং মে মাসে সর্বোচ্চ ৯.৪২ শতাংশে পৌঁছানোর পর তা ধারাবাহিকভাবে কমতে শুরু করে। মে মাসের তুলনায় গত তিন মাসে সার্বিক মূল্যস্ফীতি কমেছে ১.১৬ শতাংশীয় পয়েন্ট। এর আগে ২০২৫ সালের নভেম্বরে এ হার ছিল ৮.২৯ শতাংশ, যা ডিসেম্বরে বেড়ে ৮.৪৯ শতাংশ এবং চলতি বছরের জানুয়ারিতে ৮.৫৮ শতাংশে দাঁড়ায়। ফেব্রুয়ারি ও এপ্রিলে তা যথাক্রমে ৯.১৩ ও ৯.০৪ শতাংশে ওঠানামার পর মে মাসে সর্বোচ্চ চূড়ায় পৌঁছায়।

সার্বিক মূল্যস্ফীতি প্রশমিত করতে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রেখেছে খাদ্যপণ্যের দাম বাড়ার গতি কমে আসা। আগস্টে খাদ্য মূল্যস্ফীতি কমে ৭.০২ শতাংশে নেমেছে, যা জুলাইয়ে ছিল ৭.১৬ শতাংশ এবং গত বছরের আগস্টে ছিল ৭.৬০ শতাংশ। আঞ্চলিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, আগস্টে গ্রাম ও শহর উভয় এলাকাতেই মূল্যস্ফীতি হ্রাস পেয়েছে। গ্রামে সার্বিক মূল্যস্ফীতি জুলাইয়ের ৮.৩৬ শতাংশ থেকে কমে আগস্টে ৮.৩১ শতাংশ এবং শহরে ৮.২৪ শতাংশ থেকে কমে ৮.২০ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।

অর্থনীতিবিদ ও সংশ্লিষ্টদের মতে, বাজারে নিত্যপণ্যের সরবরাহ পরিস্থিতির উন্নতির পাশাপাশি সরকারের নীতিগত সিদ্ধান্ত ও কৌশলগত হস্তক্ষেপ এই মূল্যচাপ কমাতে সহায়ক ভূমিকা রাখছে। বিশেষ করে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে ৬০টি অত্যাবশ্যকীয় পণ্যের ওপর উৎসে কর কমানো হয়েছে। এর পাশাপাশি নিম্ন আয়ের মানুষের সুরক্ষায় খাদ্যবান্ধব কর্মসূচি ও খোলা বাজারে বিক্রয় (ওএমএস) কার্যক্রম সম্প্রসারণ এবং টিসিবির মাধ্যমে সাশ্রয়ী মূল্যে পণ্য সরবরাহের উদ্যোগ বাজারে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনছে।

সরকার ২০২৬-২৭ অর্থবছরে সার্বিক মূল্যস্ফীতি ৭.৫ শতাংশে নামিয়ে আনার রূপরেখা নির্ধারণ করেছে, আগস্টের পরিসংখ্যান সেই লক্ষ্যের দিকে অগ্রগতির ইতিবাচক বার্তা দিচ্ছে। তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করিয়ে দিয়েছেন, মূল্যস্ফীতি কমার অর্থ বিদ্যমান পণ্যের দাম কমে যাওয়া নয়; বরং আগের তুলনায় দাম বাড়ার গতি মন্থর হওয়া। তাই সাম্প্রতিক এই নিম্নমুখী ধারা বজায় রেখে খাদ্য ও খাদ্যবহির্ভূত উভয় খাতে স্বস্তি ধরে রাখাই এখন অর্থনীতির প্রধান চ্যালেঞ্জ।

জনপ্রিয়

মোংলা বন্দরে দুটি আধুনিক কন্টেইনার জেটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন প্রধানমন্ত্রী

১০ মাসের মধ্যে সর্বনিম্নে মূল্যস্ফীতি: আগস্টে সার্বিক হার কমে ৮.২৬ শতাংশে

সর্বশেষ হালনাগাদ : ০৭:০৯:৪০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

কয়েক মাসের চড়া মূল্যস্ফীতির চাপ কাটিয়ে দেশের অর্থনীতিতে মূল্যচাপ কমার প্রবণতা অব্যাহত রয়েছে। টানা তিন মাস কমে চলতি বছরের আগস্টে সার্বিক মূল্যস্ফীতি নেমে এসেছে ৮.২৬ শতাংশে, যা গত ১০ মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন। একই সময়ে খাদ্য মূল্যস্ফীতি কমে ৭ শতাংশের ঘরে নেমে আসায় বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের আকাশচুম্বী দাম বৃদ্ধির গতি মন্থর হওয়ার স্পষ্ট ইঙ্গিত মিলছে।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) সর্বশেষ প্রকাশিত তথ্যানুযায়ী, জুনে মূল্যস্ফীতি ৯.১৬ শতাংশ এবং মে মাসে সর্বোচ্চ ৯.৪২ শতাংশে পৌঁছানোর পর তা ধারাবাহিকভাবে কমতে শুরু করে। মে মাসের তুলনায় গত তিন মাসে সার্বিক মূল্যস্ফীতি কমেছে ১.১৬ শতাংশীয় পয়েন্ট। এর আগে ২০২৫ সালের নভেম্বরে এ হার ছিল ৮.২৯ শতাংশ, যা ডিসেম্বরে বেড়ে ৮.৪৯ শতাংশ এবং চলতি বছরের জানুয়ারিতে ৮.৫৮ শতাংশে দাঁড়ায়। ফেব্রুয়ারি ও এপ্রিলে তা যথাক্রমে ৯.১৩ ও ৯.০৪ শতাংশে ওঠানামার পর মে মাসে সর্বোচ্চ চূড়ায় পৌঁছায়।

সার্বিক মূল্যস্ফীতি প্রশমিত করতে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রেখেছে খাদ্যপণ্যের দাম বাড়ার গতি কমে আসা। আগস্টে খাদ্য মূল্যস্ফীতি কমে ৭.০২ শতাংশে নেমেছে, যা জুলাইয়ে ছিল ৭.১৬ শতাংশ এবং গত বছরের আগস্টে ছিল ৭.৬০ শতাংশ। আঞ্চলিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, আগস্টে গ্রাম ও শহর উভয় এলাকাতেই মূল্যস্ফীতি হ্রাস পেয়েছে। গ্রামে সার্বিক মূল্যস্ফীতি জুলাইয়ের ৮.৩৬ শতাংশ থেকে কমে আগস্টে ৮.৩১ শতাংশ এবং শহরে ৮.২৪ শতাংশ থেকে কমে ৮.২০ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।

অর্থনীতিবিদ ও সংশ্লিষ্টদের মতে, বাজারে নিত্যপণ্যের সরবরাহ পরিস্থিতির উন্নতির পাশাপাশি সরকারের নীতিগত সিদ্ধান্ত ও কৌশলগত হস্তক্ষেপ এই মূল্যচাপ কমাতে সহায়ক ভূমিকা রাখছে। বিশেষ করে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে ৬০টি অত্যাবশ্যকীয় পণ্যের ওপর উৎসে কর কমানো হয়েছে। এর পাশাপাশি নিম্ন আয়ের মানুষের সুরক্ষায় খাদ্যবান্ধব কর্মসূচি ও খোলা বাজারে বিক্রয় (ওএমএস) কার্যক্রম সম্প্রসারণ এবং টিসিবির মাধ্যমে সাশ্রয়ী মূল্যে পণ্য সরবরাহের উদ্যোগ বাজারে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনছে।

সরকার ২০২৬-২৭ অর্থবছরে সার্বিক মূল্যস্ফীতি ৭.৫ শতাংশে নামিয়ে আনার রূপরেখা নির্ধারণ করেছে, আগস্টের পরিসংখ্যান সেই লক্ষ্যের দিকে অগ্রগতির ইতিবাচক বার্তা দিচ্ছে। তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করিয়ে দিয়েছেন, মূল্যস্ফীতি কমার অর্থ বিদ্যমান পণ্যের দাম কমে যাওয়া নয়; বরং আগের তুলনায় দাম বাড়ার গতি মন্থর হওয়া। তাই সাম্প্রতিক এই নিম্নমুখী ধারা বজায় রেখে খাদ্য ও খাদ্যবহির্ভূত উভয় খাতে স্বস্তি ধরে রাখাই এখন অর্থনীতির প্রধান চ্যালেঞ্জ।