Dhaka ০৭:৩৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ :
ডিসেম্বরের মধ্যে নতুন মজুরি কাঠামো চূড়ান্ত, শ্রমিকদের বেতন জানুয়ারি থেকে কার্যকর বড়দিন উদযাপনে খ্রিষ্টান কল্যাণ ট্রাস্টকে ৩ কোটি টাকা অনুদান দিলেন প্রধানমন্ত্রী কারখানা বন্ধের চক্রান্ত ও উসকানিকারীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে: সালাহউদ্দিন আহমদ পোশাকশিল্পে টানা অস্থিতিশীলতায় চরম উদ্বিগ্ন উদ্যোক্তারা দেশে কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর ৮৪ শতাংশ অনানুষ্ঠানিক খাতে নিয়োজিত: বিশ্বব্যাংক ভ্যাটসহ প্রতি ভরি ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম দাঁড়াল ২ লাখ ২০ হাজার ৮৫৮ টাকা ডলারের বিনিময় হারে ঊর্ধ্বগতি, ব্যাংকের এমডিদের সতর্ক করলেন গভর্নর উদ্যোক্তাদের অনীহায় বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি কমে ৪.১৭ শতাংশে চার মাসে রেমিট্যান্স প্রবাহে ১৪.৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি নবায়নযোগ্য জ্বালানি এখন আর শুধু সম্ভাবনা নয়, অনিবার্য বাস্তবতা: প্রধানমন্ত্রী

মিরসরাই শিল্পাঞ্চলে নেই পূর্ণাঙ্গ হাসপাতাল, ঝুঁকিতে নিরাপত্তা

  • সর্বশেষ হালনাগাদ : ১০:১৫:১২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর ২০২৬
  • ২২ বার দেখা হয়েছে

চট্টগ্রামের মিরসরাই অর্থনৈতিক অঞ্চলে বিপুল কর্মসংস্থানের লক্ষ্য নিয়ে ১৭টি বড় কারখানা পুরোদমে চালু হলেও সেখানে নেই কোনো পূর্ণাঙ্গ হাসপাতাল বা বিশেষায়িত চিকিৎসাকেন্দ্র। বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের (বেজা) তথ্যমতে, বর্তমানে এসব কারখানায় প্রায় ২৫ হাজার শ্রমিক-কর্মচারী কর্মরত আছেন এবং আরও ২৪টি কারখানার নির্মাণকাজ চলছে।

শিল্পাঞ্চলকে কেন্দ্র করে স্থানীয় জনসংখ্যা ও নাগরিক সেবার চাহিদা দ্রুত বাড়লেও জরুরি চিকিৎসাসেবা ও নিরাপত্তার অবকাঠামো এখনও গড়ে ওঠেনি। পুরো এলাকায় কোনো ট্রমা বা বার্ন ইউনিট না থাকায় বড় কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে আশঙ্কাজনক রোগীদের প্রায় ৮৫ কিলোমিটার দূরে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে পাঠাতে হচ্ছে।

সম্প্রতি গত ২৮ সেপ্টেম্বর মিরসরাই অর্থনৈতিক অঞ্চলের ‘ফার্মিক স্টিল লিমিটেড’ কারখানায় গলিত লোহা ছিটকে পড়ে এক চীনা প্রকৌশলীসহ চারজন দগ্ধ হন। চিকিৎসাধীন অবস্থায় এদের মধ্যে চীনা প্রকৌশলী জেংলিং হং, শ্রমিক শরিফুল ইসলাম ও মনির হোসেন মারা যান। অন্য এক শ্রমিক চমেক হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

উদ্যোক্তা ও বিশেষজ্ঞদের মতে, এই দুর্ঘটনাটি বিশাল এই শিল্পাঞ্চলে কর্মরত হাজার হাজার শ্রমিক এবং আশপাশের ছয়টি ইউনিয়নের বাসিন্দাদের জরুরি চিকিৎসাসেবার অভাবকে স্পষ্ট করে তুলেছে। দুর্ঘটনাস্থল থেকে উপজেলা সদরের দূরত্ব ২৫ কিলোমিটার এবং চমেক হাসপাতালের দূরত্ব প্রায় ৮৫ কিলোমিটার, যা যানজটের কারণে মুমূর্ষু রোগীদের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।

চিকিৎসকদের মতে, গুরুতর দগ্ধ বা আঘাতপ্রাপ্তদের ক্ষেত্রে দুর্ঘটনাস্থলেই প্রাথমিক চিকিৎসা ও বার্ন সেবা দেওয়া সম্ভব হলে অনেক জীবন বাঁচানো যেত। শিল্প পুলিশ ও সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, শিল্পাঞ্চলের পরিধি ও দুর্ঘটনা বৃদ্ধির বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে এখানে দ্রুত একটি পূর্ণাঙ্গ হাসপাতাল স্থাপন করা জরুরি।

বেজার পরিচালক (উন্নয়ন) সালেহ আহমদ জানান, হাসপাতালের জন্য নির্ধারিত জায়গায় সীমানাপ্রাচীর ও চাইল্ড হেলথ কেয়ার ভবন নির্মাণ করা হলেও প্রয়োজনীয় সম্পদ ও সময়ের সীমাবদ্ধতার কারণে এখনও তা চালু করা সম্ভব হয়নি।

জনপ্রিয়

মোংলা বন্দরে দুটি আধুনিক কন্টেইনার জেটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন প্রধানমন্ত্রী

মিরসরাই শিল্পাঞ্চলে নেই পূর্ণাঙ্গ হাসপাতাল, ঝুঁকিতে নিরাপত্তা

সর্বশেষ হালনাগাদ : ১০:১৫:১২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর ২০২৬

চট্টগ্রামের মিরসরাই অর্থনৈতিক অঞ্চলে বিপুল কর্মসংস্থানের লক্ষ্য নিয়ে ১৭টি বড় কারখানা পুরোদমে চালু হলেও সেখানে নেই কোনো পূর্ণাঙ্গ হাসপাতাল বা বিশেষায়িত চিকিৎসাকেন্দ্র। বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের (বেজা) তথ্যমতে, বর্তমানে এসব কারখানায় প্রায় ২৫ হাজার শ্রমিক-কর্মচারী কর্মরত আছেন এবং আরও ২৪টি কারখানার নির্মাণকাজ চলছে।

শিল্পাঞ্চলকে কেন্দ্র করে স্থানীয় জনসংখ্যা ও নাগরিক সেবার চাহিদা দ্রুত বাড়লেও জরুরি চিকিৎসাসেবা ও নিরাপত্তার অবকাঠামো এখনও গড়ে ওঠেনি। পুরো এলাকায় কোনো ট্রমা বা বার্ন ইউনিট না থাকায় বড় কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে আশঙ্কাজনক রোগীদের প্রায় ৮৫ কিলোমিটার দূরে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে পাঠাতে হচ্ছে।

সম্প্রতি গত ২৮ সেপ্টেম্বর মিরসরাই অর্থনৈতিক অঞ্চলের ‘ফার্মিক স্টিল লিমিটেড’ কারখানায় গলিত লোহা ছিটকে পড়ে এক চীনা প্রকৌশলীসহ চারজন দগ্ধ হন। চিকিৎসাধীন অবস্থায় এদের মধ্যে চীনা প্রকৌশলী জেংলিং হং, শ্রমিক শরিফুল ইসলাম ও মনির হোসেন মারা যান। অন্য এক শ্রমিক চমেক হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

উদ্যোক্তা ও বিশেষজ্ঞদের মতে, এই দুর্ঘটনাটি বিশাল এই শিল্পাঞ্চলে কর্মরত হাজার হাজার শ্রমিক এবং আশপাশের ছয়টি ইউনিয়নের বাসিন্দাদের জরুরি চিকিৎসাসেবার অভাবকে স্পষ্ট করে তুলেছে। দুর্ঘটনাস্থল থেকে উপজেলা সদরের দূরত্ব ২৫ কিলোমিটার এবং চমেক হাসপাতালের দূরত্ব প্রায় ৮৫ কিলোমিটার, যা যানজটের কারণে মুমূর্ষু রোগীদের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।

চিকিৎসকদের মতে, গুরুতর দগ্ধ বা আঘাতপ্রাপ্তদের ক্ষেত্রে দুর্ঘটনাস্থলেই প্রাথমিক চিকিৎসা ও বার্ন সেবা দেওয়া সম্ভব হলে অনেক জীবন বাঁচানো যেত। শিল্প পুলিশ ও সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, শিল্পাঞ্চলের পরিধি ও দুর্ঘটনা বৃদ্ধির বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে এখানে দ্রুত একটি পূর্ণাঙ্গ হাসপাতাল স্থাপন করা জরুরি।

বেজার পরিচালক (উন্নয়ন) সালেহ আহমদ জানান, হাসপাতালের জন্য নির্ধারিত জায়গায় সীমানাপ্রাচীর ও চাইল্ড হেলথ কেয়ার ভবন নির্মাণ করা হলেও প্রয়োজনীয় সম্পদ ও সময়ের সীমাবদ্ধতার কারণে এখনও তা চালু করা সম্ভব হয়নি।