চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রেলপথে থাকা ৭৭টি ঝুঁকিপূর্ণ লেভেল ক্রসিংয়ের মধ্যে ৫৬টিতেই কোনো গেটম্যান নেই। ফলে এসব ক্রসিংয়ে প্রতিনিয়ত বাড়ছে দুর্ঘটনা ও প্রাণহানি। প্রতিদিন চরম ঝুঁকি নিয়েই এই পথে ট্রেন চলাচল করছে।
রেলওয়ে সূত্রে জানা গেছে, ১৫২ কিলোমিটার দীর্ঘ এই রেলপথে বৈধ লেভেল ক্রসিং রয়েছে ৯৯টি, যার বিপরীতে অবৈধ ক্রসিংয়ের সংখ্যা ৭৭টি। আবার বৈধ ক্রসিংগুলোর মধ্যে ৫৬টিতেই কোনো গেটম্যান নিয়োজিত নেই। বিশেষ করে নবনির্মিত দোহাজারী-কক্সবাজার অংশে নিরাপত্তার ঘাটতি সবচেয়ে বেশি দেখা গেছে। এই অংশে ৭২টি বৈধ লেভেল ক্রসিং থাকলেও অনেক স্থানে ট্রেন চলাচলের সময় যানবাহন ও পথচারী পারাপার ঠেকানোর জন্য কোনো কার্যকর ব্যারিয়ার নেই। অথচ এই পথেই চলছে দ্রুতগতির যাত্রীবাহী ট্রেন।
রেলওয়ের হিসাব অনুযায়ী, চট্টগ্রাম-দোহাজারী অংশে বৈধ লেভেল ক্রসিং ২৭টি এবং অবৈধ ৪৭টি। অন্যদিকে দোহাজারী-কক্সবাজার অংশে বৈধ ৭২টি ও অবৈধ ৩০টি ক্রসিং রয়েছে। দুই অংশ মিলিয়ে মোট অবৈধ ক্রসিংয়ের সংখ্যা ৭৭টি। ইতোমধ্যে ২২টি অবৈধ ক্রসিং বন্ধ করা হলেও আরও ৩৫টি বন্ধের প্রক্রিয়া চলছে। ট্রেনের গতি ও সংখ্যা বাড়লেও সেই অনুপাতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা না বাড়ায় আধুনিক যোগাযোগের এই পথটি এখন ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। রেলওয়ে পুলিশের তথ্যমতে, ২০২৫ সালে এই রেলপথে দুর্ঘটনায় ৪৩ জন এবং ২০২৬ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত আরও ৩১ জন নিহত হয়েছেন। অর্থাৎ গত দুই বছরেরও কম সময়ে এখানে ৭৪ জন প্রাণ হারিয়েছেন।
চট্টগ্রাম রেলওয়ে থানার ওসি সুজন কান্তি দে জানান, গত ২০ সেপ্টেম্বর সাতকানিয়ার কালিয়াইশ ইউনিয়নের কাঠগড় লেভেল ক্রসিংয়ে পর্যটক এক্সপ্রেসের ধাক্কায় একটি অটোরিকশার চালক ও এক যাত্রী নিহত হন। এর আগে ৩ জুন সাতকানিয়ার ঢেমশা এলাকায় ট্রেনে কাটা পড়ে এক নারীর মৃত্যু হয়। এছাড়া ২১ সেপ্টেম্বর পটিয়ার একটি অননুমোদিত লেভেল ক্রসিংয়ে ট্রেনের সঙ্গে কাভার্ড ভ্যানের সংঘর্ষে বগি লাইনচ্যুত হয়ে কয়েক ঘণ্টা ট্রেন চলাচল বন্ধ ছিল।
রেলওয়ে কর্মকর্তাদের দাবি, স্থানীয় বাসিন্দারা নিজেদের সুবিধার জন্য রেললাইনের ওপর দিয়ে এসব অবৈধ পথ তৈরি করেছেন এবং অসতর্কতার কারণেই মূলত দুর্ঘটনাগুলো ঘটছে। রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের বিভাগীয় রেলওয়ে ম্যানেজার মোস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া বলেন, রেললাইনে চলাচলের ক্ষেত্রে সাধারণ মানুষকে আরও সতর্ক হতে হবে। দুর্ঘটনা এড়াতে ঝুঁকিপূর্ণ ক্রসিংগুলো চিহ্নিত করে সেখানে গেটম্যান, ব্যারিয়ার ও সতর্কসংকেতের ব্যবস্থা করা জরুরি।


























