ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) সার্বিক কার্যক্রম আরও শৃঙ্খলিত করতে নতুন নির্দেশিকা তৈরি করেছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। নতুন এই নীতিমালা বাস্তবায়িত হলে আগের সব পরিপত্র বাতিল হয়ে যাবে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, ফ্যামিলি কার্ডধারীরা আগের মতোই প্রতি মাসে ভর্তুকি মূল্যে ভোজ্যতেল, মসুর ডাল ও চিনি পাবেন। পাশাপাশি রমজান মাসে খেজুর ও ছোলা সরবরাহ করা হবে। তবে সবচেয়ে বড় পরিবর্তন হলো, এই খাদ্যসামগ্রীর পাশাপাশি সুগন্ধি সাবান, গুঁড়ো সাবান, লন্ড্রি সাবান, লবণ, চা, আটা ও বিভিন্ন মসলাকে ‘ঐচ্ছিক পণ্য’ হিসেবে রাখা হয়েছে। ফ্যামিলি কার্ডধারীদের পাশাপাশি যেকোনো সাধারণ নাগরিকও নির্ধারিত সাশ্রয়ী দামে ডিলারদের কাছ থেকে এসব ঐচ্ছিক পণ্য কিনতে পারবেন। জরুরি প্রয়োজনে সরকারের অনুমতি নিয়ে আলু ও পেঁয়াজের মতো পণ্যও বিক্রি করতে পারবে সংস্থাটি।
এ বিষয়ে বাণিজ্যসচিব আতাউর রহমান খান জানান, টিসিবির পণ্য বিতরণ প্রক্রিয়াকে সাধারণ মানুষের জন্য আরও বেশি স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক ও জনবান্ধব করার উদ্দেশ্যেই এই সমন্বিত নির্দেশিকা প্রণয়ন করা হয়েছে।
বরাদ্দ অনুযায়ী নিবন্ধিত প্রতিটি পরিবার প্রতি মাসে ২ লিটার ভোজ্যতেল, ২ কেজি ডাল, ১ কেজি চিনি এবং খাদ্য মন্ত্রণালয়ের বরাদ্দ পাওয়া সাপেক্ষে ৫ কেজি চাল পাবে। তবে ভর্তুকির চাপ কমাতে যুক্ত করা ‘ঐচ্ছিক পণ্য’ ক্রয়ে কোনো ফ্যামিলি কার্ডধারীকে বাধ্য করা যাবে না। ডিলাররা কার্ডধারী ছাড়াও সাধারণ বাজারে সাধারণ ভোক্তাদের কাছে এসব সামগ্রী বিক্রি করতে পারবেন। সরকার চাইলে পরবর্তীতে এই তালিকায় নতুন কোনো পণ্য যুক্ত করতে পারবে।
নতুন নীতিমালায় টিসিবি কার্ড পাওয়ার ক্ষেত্রে প্রকৃত হতদরিদ্র, দিনমজুর, ভূমিহীন কৃষক, চা-শ্রমিক, নদীভাঙনে সর্বস্বান্ত ও কাজ করতে অক্ষম ব্যক্তিদের অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। এছাড়া বিধবা, স্বামীপরিত্যক্তা কিংবা পরিবারে প্রতিবন্ধী সন্তান রয়েছে—এমন পরিবারগুলো অগ্রাধিকার পাবে। অন্যদিকে সরকারি অন্য কোনো সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় সুবিধা পান বা সচ্ছল—এমন পরিবার কোনোভাবেই এই কার্ড পাবে না। একই পরিবারের একাধিক ব্যক্তি যেমন স্বামী, স্ত্রী বা সন্তানের নামে একাধিক কার্ড দেওয়া পুরোপুরি নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এবার থেকে কার্ড পাওয়ার সময় অঙ্গীকারনামাও জমা দিতে হবে।
বিতরণে পূর্ণাঙ্গ স্বচ্ছতা নিশ্চিতে ‘টিসিবি সেবা অ্যাপস’-এর ডাটাবেজে জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি), জীবনসঙ্গীর এনআইডি এবং নিজস্ব নামে নিবন্ধিত সচল মোবাইল নম্বর দিয়ে তথ্য যাচাই করা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। কার্ড হারিয়ে গেলে নির্দিষ্ট ফি জমা দিয়ে অ্যাপের মাধ্যমে পুনঃঅ্যাক্টিভেশন সম্পন্ন করতে হবে।
ডিলারদের জন্য নির্ধারিত বিক্রয় কেন্দ্র বা দোকানে পণ্যের দামের তালিকা এবং টিসিবির অফিশিয়াল ব্যানার ঝুলিয়ে রাখা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। মালামাল হস্তান্তরের সময় পয়েন্ট অব সেলস (POS) যন্ত্র বা স্মার্ট কার্ড স্ক্যান করে তবেই পণ্য দেওয়া যাবে। যেকোনো আর্থিক অনিয়ম থামাতে নির্দিষ্ট টিসিবি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ছাড়া অন্য কোনো মাধ্যমে নগদ লেনদেন নিষিদ্ধ করা হয়েছে। ডিজিটাল এপিআই (API)-এর মাধ্যমে ব্যাংকে টাকা জমা নিশ্চিত হওয়ার পরই গুদাম থেকে ডিলারদের পণ্য ছাড়পত্রের কাগজ দেওয়া হবে।
মাঠপর্যায়ে অনিয়ম রুখতে বহুমাত্রিক মনিটরিং কমিটি গঠন করা হচ্ছে। সিটি করপোরেশনে মেয়র, জেলা পর্যায়ে জেলা প্রশাসক (ডিসি), উপজেলা পর্যায়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) এবং ইউনিয়ন পর্যায়ে চেয়ারম্যানেরা এই কমিটির নেতৃত্ব দেবেন। পাশাপাশি প্রতিটি ওয়ার্ডে থাকবে ‘ট্যাগ টিম’, যাদের সরাসরি উপস্থিতিতে ডিলাররা পণ্যের মান ও সঠিক ওজন বজায় রেখে গুদাম থেকে মালামাল খালাস ও বণ্টন করবেন। আইনশৃঙ্খলা ও সার্বিক নিরাপত্তা বজায় রাখতে বিক্রয় কেন্দ্রগুলোতে প্রয়োজন অনুযায়ী পুলিশ দল ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ব্রেকিং নিউজ :
টিসিবির ‘ঐচ্ছিক পণ্য’ পাবেন সাধারণ মানুষও
জনপ্রিয়


























