Dhaka ০৭:৩৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ :
ডিসেম্বরের মধ্যে নতুন মজুরি কাঠামো চূড়ান্ত, শ্রমিকদের বেতন জানুয়ারি থেকে কার্যকর বড়দিন উদযাপনে খ্রিষ্টান কল্যাণ ট্রাস্টকে ৩ কোটি টাকা অনুদান দিলেন প্রধানমন্ত্রী কারখানা বন্ধের চক্রান্ত ও উসকানিকারীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে: সালাহউদ্দিন আহমদ পোশাকশিল্পে টানা অস্থিতিশীলতায় চরম উদ্বিগ্ন উদ্যোক্তারা দেশে কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর ৮৪ শতাংশ অনানুষ্ঠানিক খাতে নিয়োজিত: বিশ্বব্যাংক ভ্যাটসহ প্রতি ভরি ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম দাঁড়াল ২ লাখ ২০ হাজার ৮৫৮ টাকা ডলারের বিনিময় হারে ঊর্ধ্বগতি, ব্যাংকের এমডিদের সতর্ক করলেন গভর্নর উদ্যোক্তাদের অনীহায় বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি কমে ৪.১৭ শতাংশে চার মাসে রেমিট্যান্স প্রবাহে ১৪.৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি নবায়নযোগ্য জ্বালানি এখন আর শুধু সম্ভাবনা নয়, অনিবার্য বাস্তবতা: প্রধানমন্ত্রী

জনতা ব্যাংকের ইউএই শাখার ৩০৪ কোটি টাকার ঋণ নিয়ে জটিলতা

  • সর্বশেষ হালনাগাদ : ১০:০৪:২৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৫ অক্টোবর ২০২৬
  • ১৭ বার দেখা হয়েছে

রাষ্ট্রায়ত্ত বাণিজ্যিক ব্যাংক জনতা ব্যাংকের সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) শাখা পরিচালনার হিসাব এবং তিনশ কোটি টাকার বেশি পরিমাণের একটি পুরোনো দেনা পরিশোধের প্রক্রিয়া নিয়ে ব্যাংকটির শীর্ষ ব্যবস্থাপনা ও নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ ব্যাংকের মধ্যে এক ধরনের বড় ধরনের মতপার্থক্য ও পরস্পরবিরোধী অবস্থান তৈরি হয়েছে। সম্প্রতি এ বিষয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দিতে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে একটি জরুরি সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে ব্যাংকের পক্ষ থেকে ইউএই কার্যক্রমের নানা দিক তুলে ধরা হলেও, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সাম্প্রতিক একটি বিশেষ পরিদর্শন প্রতিবেদনে এই শাখায় বিশাল অংকের ঋণ অবলোপন ও আর্থিক ব্যবস্থাপনায় ব্যাপক অনিয়মের তথ্য সামনে এসেছে। ফলে এই পুরোনো নিষ্পত্তি নিয়ে জনসমক্ষে গভীর প্রশ্ন ও নানা সন্দেহের সৃষ্টি হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে জনতা ব্যাংকের চেয়ারম্যান মুহ. ফজলুর রহমান দৃঢ়তার সঙ্গে দাবি করেন যে, সংবাদমাধ্যমে ইউএই কার্যক্রম নিয়ে যেসব তথ্য প্রচার করা হয়েছে সেগুলোতে বেশ কিছু তথ্যাগত অসঙ্গতি ও বিভ্রান্তি রয়েছে। তার ভাষ্যমতে, শেখ খলিফা গ্রুপের সহযোগী প্রতিষ্ঠান ‘ফাইন্যান্স মরিস’ এবং ‘মেট্রোপলিটন এন্টারপ্রাইজ’-এর নামে নেওয়া এই ঋণটি অনেক পুরোনো। দীর্ঘদিনের বকেয়া অর্থ উদ্ধার, কূটনৈতিক প্রচেষ্টা, আন্তর্জাতিক আইনগত লড়াই এবং সালিসি আদালতের সমস্ত প্রক্রিয়া সফলভাবে সম্পন্ন করার পর দুই দেশের সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের সম্মতিতে ২০০৩ সালেই এই ঋণটি নিয়মতান্ত্রিকভাবে চূড়ান্তভাবে নিষ্পত্তি করা হয়েছিল। ব্যাংক কর্তৃপক্ষ আরও স্পষ্ট করে জানায় যে, গণমাধ্যমে প্রয়াত ইউএই প্রেসিডেন্ট শেখ খলিফা বিন জায়েদ আল নাহিয়ানের ছবি ভুলবশত ব্যবহার করা হলেও প্রকৃত ঋণগ্রহীতা ছিলেন সম্পূর্ণ ভিন্ন ব্যক্তি—শেখ খলিফা বিন মোহাম্মদ আল নাহিয়ান। দীর্ঘদিনের সংরক্ষিত নথিপত্র পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, ১৯৮৯ সালের সালিসি আদালতের স্পষ্ট নির্দেশনা এবং প্রশাসনিক অনুমোদনের মাধ্যমেই ২০০৩ সালে এই দেনা সম্পূর্ণ আইনগত উপায়ে চুকিয়ে দেওয়া হয়েছিল এবং এই প্রক্রিয়ায় কোনো ব্যত্যয় ঘটেনি।

তবে জনতা ব্যাংকের এই দাবির সম্পূর্ণ উল্টো চিত্র তুলে ধরা হয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাম্প্রতিক বিশেষ পরিদর্শন প্রতিবেদনে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ওই তথ্যানুযায়ী, ইউএইর চারটি ভিন্ন শাখায় ২৩ জন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের নামে থাকা প্রায় ৪৩৯ কোটি ৭২ লাখ টাকা বা ২০ কোটি ৫১ লাখ দিরহাম সমপরিমাণ ঋণ সম্পূর্ণ নিয়মবহির্ভূতভাবে অবলোপন করা হয়েছে। যার মধ্যে কেবল শেখ খলিফা-সংশ্লিষ্ট বিতর্কিত ঋণটির পরিমাণই প্রায় ১৪ কোটি ২৮ লাখ ৮০ হাজার দিরহাম বা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৩০৪ কোটি টাকা। শুধু তাই নয়, প্রতিবেদনে প্রায় ৬৪ কোটি টাকার আরেকটি ভিন্ন ঋণ ভুলবশত অবলোপন করা হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে, যা ইউএই শাখার সার্বিক হিসাব রক্ষণাবেক্ষণ ও স্বচ্ছতা নিয়ে গভীর সন্দেহের উদ্রেক করেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদনে কেবল ঋণ অবলোপন নয়, বরং দৈনন্দিন হিসাব পরিচালনার ক্ষেত্রেও গুরুতর অভ্যন্তরীণ দুর্বলতার কথা বলা হয়েছে। বিশেষ করে শারজাহ শাখার সান্ড্রি ডিপোজিট এবং সান্ড্রি অ্যাসেটের হিসাবের মধ্যে বিশাল অঙ্কের পার্থক্য এবং দুবাই শাখার বিভিন্ন হিসাবের গরমিল ব্যাংকিং খাতের সংশ্লিষ্টদের বিস্মিত করেছে। অন্যদিকে, ইউএই সিইও কার্যালয়ের ছয়টি বহুমূল্যবান ল্যাপটপের ব্যবহার নিয়ে প্রশ্ন তোলা হলে ব্যাংক জানিয়েছে যে ডিভাইসগুলো সশরীরে বিদ্যমান রয়েছে এবং সম্পূর্ণ বৈধভাবে দাপ্তরিক কাজেই ব্যবহার করা হচ্ছে। এছাড়া তিনজন ভারতীয় নাগরিককে কর্মী হিসেবে নিয়োগ প্রসঙ্গে ব্যাংকটি পরিষ্কার করেছে যে, ওই অঞ্চলে স্থানীয় কর্মী নিয়োগের ক্ষেত্রে ১৯৮২ সালের নির্দিষ্ট বিধিমালা কঠোরভাবে অনুসরণ করা হয়েছে এবং এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংকের পূর্বানুমতি নেওয়ার কোনো আইনগত বাধ্যবাধকতা ছিল না। পাশাপাশি, ইতালির জনতা এক্সচেঞ্জ কোম্পানি বা জেইসি এসআরএল নামের আর্থিক প্রতিষ্ঠানটি বন্ধ না রাখার যৌক্তিকতা তুলে ধরে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে যে, প্রবাসীদের রেমিট্যান্স প্রবাহ সচল রাখা এবং দেশের ভাবমূর্তি অক্ষুণ্ন রাখার স্বার্থেই আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সুনির্দিষ্ট নির্দেশনার ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠানটি বর্তমানে চালু রাখা হয়েছে।

সার্বিক এই পরিস্থিতিতে প্রশ্ন উঠেছে, ৩০৪ কোটি টাকার এই বিশাল অঙ্কের ঋণ কি সত্যিই অতীতের একটি আইনিভাবে মীমাংসিত বিষয়, নাকি এর পেছনে লুকিয়ে আছে ইউএই কার্যক্রমের অন্য কোনো হিসাবের গরমিল? একদিকে জনতা ব্যাংক একে পুরোনো ও নিষ্পত্তি হওয়া বিষয় বলছে, অন্যদিকে বাংলাদেশ ব্যাংকের বিশেষ প্রতিবেদনে বড় অঙ্কের ঋণ অবলোপন ও হিসাবের মারাত্মক অসঙ্গতির চিত্র ফুটে উঠেছে। পুরোনো নথিপত্র এবং বর্তমান হিসাবের খতিয়ান নিরপেক্ষভাবে যাচাই-বাছাই করা না হলে প্রকৃত সত্য উদঘাটিত হওয়া কঠিন হবে।

জনপ্রিয়

মোংলা বন্দরে দুটি আধুনিক কন্টেইনার জেটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন প্রধানমন্ত্রী

জনতা ব্যাংকের ইউএই শাখার ৩০৪ কোটি টাকার ঋণ নিয়ে জটিলতা

সর্বশেষ হালনাগাদ : ১০:০৪:২৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৫ অক্টোবর ২০২৬

রাষ্ট্রায়ত্ত বাণিজ্যিক ব্যাংক জনতা ব্যাংকের সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) শাখা পরিচালনার হিসাব এবং তিনশ কোটি টাকার বেশি পরিমাণের একটি পুরোনো দেনা পরিশোধের প্রক্রিয়া নিয়ে ব্যাংকটির শীর্ষ ব্যবস্থাপনা ও নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ ব্যাংকের মধ্যে এক ধরনের বড় ধরনের মতপার্থক্য ও পরস্পরবিরোধী অবস্থান তৈরি হয়েছে। সম্প্রতি এ বিষয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দিতে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে একটি জরুরি সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে ব্যাংকের পক্ষ থেকে ইউএই কার্যক্রমের নানা দিক তুলে ধরা হলেও, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সাম্প্রতিক একটি বিশেষ পরিদর্শন প্রতিবেদনে এই শাখায় বিশাল অংকের ঋণ অবলোপন ও আর্থিক ব্যবস্থাপনায় ব্যাপক অনিয়মের তথ্য সামনে এসেছে। ফলে এই পুরোনো নিষ্পত্তি নিয়ে জনসমক্ষে গভীর প্রশ্ন ও নানা সন্দেহের সৃষ্টি হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে জনতা ব্যাংকের চেয়ারম্যান মুহ. ফজলুর রহমান দৃঢ়তার সঙ্গে দাবি করেন যে, সংবাদমাধ্যমে ইউএই কার্যক্রম নিয়ে যেসব তথ্য প্রচার করা হয়েছে সেগুলোতে বেশ কিছু তথ্যাগত অসঙ্গতি ও বিভ্রান্তি রয়েছে। তার ভাষ্যমতে, শেখ খলিফা গ্রুপের সহযোগী প্রতিষ্ঠান ‘ফাইন্যান্স মরিস’ এবং ‘মেট্রোপলিটন এন্টারপ্রাইজ’-এর নামে নেওয়া এই ঋণটি অনেক পুরোনো। দীর্ঘদিনের বকেয়া অর্থ উদ্ধার, কূটনৈতিক প্রচেষ্টা, আন্তর্জাতিক আইনগত লড়াই এবং সালিসি আদালতের সমস্ত প্রক্রিয়া সফলভাবে সম্পন্ন করার পর দুই দেশের সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের সম্মতিতে ২০০৩ সালেই এই ঋণটি নিয়মতান্ত্রিকভাবে চূড়ান্তভাবে নিষ্পত্তি করা হয়েছিল। ব্যাংক কর্তৃপক্ষ আরও স্পষ্ট করে জানায় যে, গণমাধ্যমে প্রয়াত ইউএই প্রেসিডেন্ট শেখ খলিফা বিন জায়েদ আল নাহিয়ানের ছবি ভুলবশত ব্যবহার করা হলেও প্রকৃত ঋণগ্রহীতা ছিলেন সম্পূর্ণ ভিন্ন ব্যক্তি—শেখ খলিফা বিন মোহাম্মদ আল নাহিয়ান। দীর্ঘদিনের সংরক্ষিত নথিপত্র পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, ১৯৮৯ সালের সালিসি আদালতের স্পষ্ট নির্দেশনা এবং প্রশাসনিক অনুমোদনের মাধ্যমেই ২০০৩ সালে এই দেনা সম্পূর্ণ আইনগত উপায়ে চুকিয়ে দেওয়া হয়েছিল এবং এই প্রক্রিয়ায় কোনো ব্যত্যয় ঘটেনি।

তবে জনতা ব্যাংকের এই দাবির সম্পূর্ণ উল্টো চিত্র তুলে ধরা হয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাম্প্রতিক বিশেষ পরিদর্শন প্রতিবেদনে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ওই তথ্যানুযায়ী, ইউএইর চারটি ভিন্ন শাখায় ২৩ জন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের নামে থাকা প্রায় ৪৩৯ কোটি ৭২ লাখ টাকা বা ২০ কোটি ৫১ লাখ দিরহাম সমপরিমাণ ঋণ সম্পূর্ণ নিয়মবহির্ভূতভাবে অবলোপন করা হয়েছে। যার মধ্যে কেবল শেখ খলিফা-সংশ্লিষ্ট বিতর্কিত ঋণটির পরিমাণই প্রায় ১৪ কোটি ২৮ লাখ ৮০ হাজার দিরহাম বা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৩০৪ কোটি টাকা। শুধু তাই নয়, প্রতিবেদনে প্রায় ৬৪ কোটি টাকার আরেকটি ভিন্ন ঋণ ভুলবশত অবলোপন করা হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে, যা ইউএই শাখার সার্বিক হিসাব রক্ষণাবেক্ষণ ও স্বচ্ছতা নিয়ে গভীর সন্দেহের উদ্রেক করেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদনে কেবল ঋণ অবলোপন নয়, বরং দৈনন্দিন হিসাব পরিচালনার ক্ষেত্রেও গুরুতর অভ্যন্তরীণ দুর্বলতার কথা বলা হয়েছে। বিশেষ করে শারজাহ শাখার সান্ড্রি ডিপোজিট এবং সান্ড্রি অ্যাসেটের হিসাবের মধ্যে বিশাল অঙ্কের পার্থক্য এবং দুবাই শাখার বিভিন্ন হিসাবের গরমিল ব্যাংকিং খাতের সংশ্লিষ্টদের বিস্মিত করেছে। অন্যদিকে, ইউএই সিইও কার্যালয়ের ছয়টি বহুমূল্যবান ল্যাপটপের ব্যবহার নিয়ে প্রশ্ন তোলা হলে ব্যাংক জানিয়েছে যে ডিভাইসগুলো সশরীরে বিদ্যমান রয়েছে এবং সম্পূর্ণ বৈধভাবে দাপ্তরিক কাজেই ব্যবহার করা হচ্ছে। এছাড়া তিনজন ভারতীয় নাগরিককে কর্মী হিসেবে নিয়োগ প্রসঙ্গে ব্যাংকটি পরিষ্কার করেছে যে, ওই অঞ্চলে স্থানীয় কর্মী নিয়োগের ক্ষেত্রে ১৯৮২ সালের নির্দিষ্ট বিধিমালা কঠোরভাবে অনুসরণ করা হয়েছে এবং এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংকের পূর্বানুমতি নেওয়ার কোনো আইনগত বাধ্যবাধকতা ছিল না। পাশাপাশি, ইতালির জনতা এক্সচেঞ্জ কোম্পানি বা জেইসি এসআরএল নামের আর্থিক প্রতিষ্ঠানটি বন্ধ না রাখার যৌক্তিকতা তুলে ধরে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে যে, প্রবাসীদের রেমিট্যান্স প্রবাহ সচল রাখা এবং দেশের ভাবমূর্তি অক্ষুণ্ন রাখার স্বার্থেই আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সুনির্দিষ্ট নির্দেশনার ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠানটি বর্তমানে চালু রাখা হয়েছে।

সার্বিক এই পরিস্থিতিতে প্রশ্ন উঠেছে, ৩০৪ কোটি টাকার এই বিশাল অঙ্কের ঋণ কি সত্যিই অতীতের একটি আইনিভাবে মীমাংসিত বিষয়, নাকি এর পেছনে লুকিয়ে আছে ইউএই কার্যক্রমের অন্য কোনো হিসাবের গরমিল? একদিকে জনতা ব্যাংক একে পুরোনো ও নিষ্পত্তি হওয়া বিষয় বলছে, অন্যদিকে বাংলাদেশ ব্যাংকের বিশেষ প্রতিবেদনে বড় অঙ্কের ঋণ অবলোপন ও হিসাবের মারাত্মক অসঙ্গতির চিত্র ফুটে উঠেছে। পুরোনো নথিপত্র এবং বর্তমান হিসাবের খতিয়ান নিরপেক্ষভাবে যাচাই-বাছাই করা না হলে প্রকৃত সত্য উদঘাটিত হওয়া কঠিন হবে।