Dhaka ১২:৪০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ :
ডিসেম্বরের মধ্যে নতুন মজুরি কাঠামো চূড়ান্ত, শ্রমিকদের বেতন জানুয়ারি থেকে কার্যকর বড়দিন উদযাপনে খ্রিষ্টান কল্যাণ ট্রাস্টকে ৩ কোটি টাকা অনুদান দিলেন প্রধানমন্ত্রী কারখানা বন্ধের চক্রান্ত ও উসকানিকারীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে: সালাহউদ্দিন আহমদ পোশাকশিল্পে টানা অস্থিতিশীলতায় চরম উদ্বিগ্ন উদ্যোক্তারা দেশে কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর ৮৪ শতাংশ অনানুষ্ঠানিক খাতে নিয়োজিত: বিশ্বব্যাংক ভ্যাটসহ প্রতি ভরি ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম দাঁড়াল ২ লাখ ২০ হাজার ৮৫৮ টাকা ডলারের বিনিময় হারে ঊর্ধ্বগতি, ব্যাংকের এমডিদের সতর্ক করলেন গভর্নর উদ্যোক্তাদের অনীহায় বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি কমে ৪.১৭ শতাংশে চার মাসে রেমিট্যান্স প্রবাহে ১৪.৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি নবায়নযোগ্য জ্বালানি এখন আর শুধু সম্ভাবনা নয়, অনিবার্য বাস্তবতা: প্রধানমন্ত্রী

মেধাতালিকায় ১৭তম হয়েও চাকরি পেলেন না মিশন, কারণ বসতভিটা নেই

  • সর্বশেষ হালনাগাদ : ০৫:১৮:৪৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২ অক্টোবর ২০২৬
  • ১৩ বার দেখা হয়েছে

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) সাবেক শিক্ষার্থী মিশন আচার্য সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পদে নিয়োগের জন্য মেধাতালিকায় ১৭তম স্থান অর্জন করেও শেষ পর্যন্ত চাকরি পাননি। নিজের নামে বসতভিটা না থাকায় তাকে নিয়োগ থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন তিনি।

মিশন আচার্য ইবির ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগের ২০১৩-১৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। ঝিনাইদহ সদর উপজেলার কলাবাগান এলাকার বাসিন্দা তিনি। জন্মলগ্ন থেকে ওই এলাকায় বসবাস করলেও তার নিজের নামে কোনো বসতভিটা নেই। তার বাবা বহু বছর আগে পরিবার ছেড়ে চলে যান এবং মা বাসাবাড়িতে কাজ করে তাকে বড় করেছেন। মায়ের সঙ্গে কলাবাগান এলাকায় ভাড়া বাসায় থেকেই তার বেড়ে ওঠা।

মিশন জানান, সরকারি চাকরির ক্ষেত্রে জমির কাগজপত্র প্রয়োজন হতে পারে এমন ধারণা থেকে তার খালু তার নামে দুই শতক জমি লিখে দেন। তবে ওই জমিতে কোনো বসতবাড়ি নেই। পুলিশি তদন্তের সময় তিনি জমিটির দলিল জমা দেন। কিন্তু স্থায়ী ঠিকানায় বসতভিটা না থাকার কারণে তাকে নিয়োগ প্রক্রিয়া থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ তার।

তার ভাষ্যমতে, সহকারী শিক্ষক পদে মোট ১৮২ জনকে নিয়োগের জন্য সুপারিশ করা হয়েছিল। এর মধ্যে ১৮০ জন নিয়োগপত্র পেয়েছেন। বাকি দুজনের একজনের বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে এবং অন্যজন তিনি। উপজেলা পর্যায়ে মেধাতালিকায় তার অবস্থান ছিল ১৭তম।

নিয়োগ থেকে বাদ পড়ার বিষয়ে মিশন আচার্য কয়েকটি সংবাদমাধ্যমকে বলেন, “আমার কী দোষ? ভাড়া বাসায় জন্মেছি, এটাই কি আমার দোষ? রাষ্ট্র আমার ভোট নিচ্ছে, আমাকে খাওয়াচ্ছে, পড়াচ্ছে; কিন্তু চাকরি দিচ্ছে না। মনে হচ্ছে, রাষ্ট্রের কাছে আমার মেধা ও পরিশ্রমের চেয়ে জমিজমার মূল্য বেশি।”

তিনি আরও বলেন, পুলিশকে ভূমিহীন সনদের বিষয়ে জানতে চাইলে তাকে জমির দলিল জমা দিলেই হবে বলে জানানো হয়েছিল। পরে তিনি ওই দলিল জমা দেন। কিন্তু পরবর্তী সময়ে স্থায়ী ঠিকানায় বসতভিটা না থাকার বিষয়টি সামনে আসে এবং তাকে নিয়োগ প্রক্রিয়া থেকে বাদ দেওয়া হয়।

এ বিষয়ে ঝিনাইদহের জেলা প্রশাসক মো. নোমান হোসেন জানান, মিশন আচার্যের নিয়োগের ক্ষেত্রে স্থায়ী ঠিকানা নিয়ে একটি জটিলতা তৈরি হয়েছে। তিনি গতকাল বিষয়টি সমাধানের জন্য আবেদন করেছেন। জেলা প্রশাসক বলেন, “ওনার সঙ্গে আমি নিয়মিত যোগাযোগ করছি। প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর বরাবর আবেদন করা হয়েছে বিষয়টি নিয়ে। আমরা আশা করছি, এই বিষয়টি মানবিকতার সঙ্গে সমাধান করা হবে।”

জনপ্রিয়

মোংলা বন্দরে দুটি আধুনিক কন্টেইনার জেটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন প্রধানমন্ত্রী

মেধাতালিকায় ১৭তম হয়েও চাকরি পেলেন না মিশন, কারণ বসতভিটা নেই

সর্বশেষ হালনাগাদ : ০৫:১৮:৪৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২ অক্টোবর ২০২৬

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) সাবেক শিক্ষার্থী মিশন আচার্য সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পদে নিয়োগের জন্য মেধাতালিকায় ১৭তম স্থান অর্জন করেও শেষ পর্যন্ত চাকরি পাননি। নিজের নামে বসতভিটা না থাকায় তাকে নিয়োগ থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন তিনি।

মিশন আচার্য ইবির ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগের ২০১৩-১৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। ঝিনাইদহ সদর উপজেলার কলাবাগান এলাকার বাসিন্দা তিনি। জন্মলগ্ন থেকে ওই এলাকায় বসবাস করলেও তার নিজের নামে কোনো বসতভিটা নেই। তার বাবা বহু বছর আগে পরিবার ছেড়ে চলে যান এবং মা বাসাবাড়িতে কাজ করে তাকে বড় করেছেন। মায়ের সঙ্গে কলাবাগান এলাকায় ভাড়া বাসায় থেকেই তার বেড়ে ওঠা।

মিশন জানান, সরকারি চাকরির ক্ষেত্রে জমির কাগজপত্র প্রয়োজন হতে পারে এমন ধারণা থেকে তার খালু তার নামে দুই শতক জমি লিখে দেন। তবে ওই জমিতে কোনো বসতবাড়ি নেই। পুলিশি তদন্তের সময় তিনি জমিটির দলিল জমা দেন। কিন্তু স্থায়ী ঠিকানায় বসতভিটা না থাকার কারণে তাকে নিয়োগ প্রক্রিয়া থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ তার।

তার ভাষ্যমতে, সহকারী শিক্ষক পদে মোট ১৮২ জনকে নিয়োগের জন্য সুপারিশ করা হয়েছিল। এর মধ্যে ১৮০ জন নিয়োগপত্র পেয়েছেন। বাকি দুজনের একজনের বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে এবং অন্যজন তিনি। উপজেলা পর্যায়ে মেধাতালিকায় তার অবস্থান ছিল ১৭তম।

নিয়োগ থেকে বাদ পড়ার বিষয়ে মিশন আচার্য কয়েকটি সংবাদমাধ্যমকে বলেন, “আমার কী দোষ? ভাড়া বাসায় জন্মেছি, এটাই কি আমার দোষ? রাষ্ট্র আমার ভোট নিচ্ছে, আমাকে খাওয়াচ্ছে, পড়াচ্ছে; কিন্তু চাকরি দিচ্ছে না। মনে হচ্ছে, রাষ্ট্রের কাছে আমার মেধা ও পরিশ্রমের চেয়ে জমিজমার মূল্য বেশি।”

তিনি আরও বলেন, পুলিশকে ভূমিহীন সনদের বিষয়ে জানতে চাইলে তাকে জমির দলিল জমা দিলেই হবে বলে জানানো হয়েছিল। পরে তিনি ওই দলিল জমা দেন। কিন্তু পরবর্তী সময়ে স্থায়ী ঠিকানায় বসতভিটা না থাকার বিষয়টি সামনে আসে এবং তাকে নিয়োগ প্রক্রিয়া থেকে বাদ দেওয়া হয়।

এ বিষয়ে ঝিনাইদহের জেলা প্রশাসক মো. নোমান হোসেন জানান, মিশন আচার্যের নিয়োগের ক্ষেত্রে স্থায়ী ঠিকানা নিয়ে একটি জটিলতা তৈরি হয়েছে। তিনি গতকাল বিষয়টি সমাধানের জন্য আবেদন করেছেন। জেলা প্রশাসক বলেন, “ওনার সঙ্গে আমি নিয়মিত যোগাযোগ করছি। প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর বরাবর আবেদন করা হয়েছে বিষয়টি নিয়ে। আমরা আশা করছি, এই বিষয়টি মানবিকতার সঙ্গে সমাধান করা হবে।”