আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থার জিজ্ঞাসাবাদে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়েছেন সাবেক এই সেনা কর্মকর্তা; জানিয়েছেন শেখ হাসিনার সঙ্গে তার সাক্ষাতের কথাও।
তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে হত্যার পর চট্টগ্রাম সার্কিট হাউস থেকে তার মরদেহ পাহাড়ে নিয়ে গিয়েছিলেন মেজর (সাবেক) মোজাফফর হোসেন। ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তার নির্দেশে তিনি এই কাজ করেছিলেন বলে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর তানভীর হাসান জোহা জানিয়েছেন। সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) প্রসিকিউটর জানান, ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থার কাছে জিজ্ঞাসাবাদে মোজাফফর নিজেই এসব চাঞ্চল্যকর তথ্য স্বীকার করেছেন।
প্রসিকিউটর তানভীর হাসান জানান, গত ১৩ সেপ্টেম্বর মোজাফফরকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। সেখানে তিনি জানান, জিয়াউর রহমানকে হত্যার পর সাবেক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মতিউর রহমান তাকে রাষ্ট্রপতির লাশ পাহাড় থেকে ফেলে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন। সেই নির্দেশ পেয়ে সকাল ১০টার দিকে সৈনিকদের নিয়ে সার্কিট হাউসে যান মোজাফফর এবং লাশ নিয়ে পাহাড়ের দিকে রওনা হন। তবে নির্দেশ অনুযায়ী লাশটি পাহাড় থেকে ফেলে না দিয়ে তিনি স্থানীয় একজন ইমামকে ডেকে আনেন। এরপর জিয়াউর রহমানসহ মোট তিনজনের লাশ একটি কবরে দাফন করেন তারা। দাফনের সময় ওই ইমামকে ঘুণাক্ষরেও জানানো হয়নি যে সেখানে রাষ্ট্রপতির লাশ রয়েছে।
জিজ্ঞাসাবাদে মোজাফফর হোসেনের নামে বাংলাদেশের বৈধ জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) এবং পাসপোর্ট থাকার বিষয়টিও উঠে এসেছে। প্রসিকিউটর জোহা আরও জানান, ১৯৯৭ বা ১৯৯৮ সালের দিকে দেশে ফিরে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে দেখাও করেছিলেন মোজাফফর। দীর্ঘ সময় সাক্ষাতের চেষ্টা করে ব্যর্থ হওয়ার পর সিরাজগঞ্জের সাবেক সংসদ সদস্য হাবিবে মিল্লাতের মাধ্যমে একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে তাদের এই সাক্ষাতের সুযোগ তৈরি হয়।
বিয়ের ওই অনুষ্ঠানে শেখ হাসিনাকে স্যালুট দিয়ে মোজাফফর নিজের ভবিষ্যৎ করণীয় সম্পর্কে জানতে চান। তখন শেখ হাসিনা তাকে সেনাবাহিনীতে আত্মসমর্পণ এবং পুনরায় যোগ দেওয়ার পরামর্শ দেন। সেই পরামর্শ অনুযায়ী মোজাফফর আত্মসমর্পণ করলে সেনাসদর থেকে একটি চিঠিও ইস্যু হয়। কিন্তু কোনো এক অজানা কারণে তার যোগদান প্রক্রিয়া বিলম্বিত বা বাতিল হয়ে যায়। এরপর তিনি দেশেই সাধারণ ব্যবসা-বাণিজ্যের সঙ্গে যুক্ত হন।
উল্লেখ্য, ১৯৮১ সালের ৩০ মে ভোরে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে বিপথগামী কিছু সেনা কর্মকর্তার হাতে নির্মমভাবে নিহত হন তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। ওই নির্মম হত্যাকাণ্ডের ৪৫ বছর পর সম্প্রতি (গত ১৫ জুলাই) রাজধানীর বনানী এলাকা থেকে মেজর মোজাফফর হোসেনকে গ্রেফতার করে পুলিশ।






















