‘আপনার ভাইকে ১৪ টুকরা করার ক্ষমতা আছে’—সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এমন একটি অডিও ছড়িয়ে পড়ার মাত্র চার ঘণ্টা পর কক্সবাজারের চকরিয়ায় মহাসড়কের পাশ থেকে কাকারা ইউনিয়ন ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ইসফাতুল ইসলাম জিসানের হাত-পা বাঁধা লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
পরিবারের অভিযোগ, গতকাল রবিবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার কাকারা মাঝের স্টেশন এলাকার একটি দোকানের সামনে থেকে সাদা রঙের একটি মাইক্রোবাসে করে জিসানকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যাওয়া হয়।
মৃত জিসান চকরিয়া উপজেলার কাকারা ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের দক্ষিণ লোটনী এলাকার নাজেম উদ্দিনের ছেলে।
পরিবারের পক্ষ থেকে আরও অভিযোগ করা হয়েছে যে, জিসানকে অপহরণের কয়েক দিন আগে আওয়ামী লীগের পরিচয় দেওয়া এক যুবক তাকে প্রকাশ্যে হত্যার হুমকি দিয়েছিলেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ওই অডিওতে এক ব্যক্তিকে বলতে শোনা যায়, “আমি আওয়ামী লীগ করা মানুষ। আমার ক্ষমতাও আছে, টাকাও আছে। টাকা থাকার কারণেই চকরিয়ার স্টেশনের মতো জায়গায় বাড়ি করতে পেরেছি।” অডিওতে জিসানের ভাইকে উদ্দেশ্য করে ওই ব্যক্তি আরও বলেন, “আপনার ভাইকে ১৪ টুকরা করার ক্ষমতা আছে। তাকে ৫০ জন খুঁজতেছে।”
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রবিবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে জিসান কাকারা মাঝের স্টেশনের একটি দোকানের সামনে অবস্থান করছিলেন। এ সময় সাদা রঙের একটি মাইক্রোবাস সেখানে থামে এবং গাড়ি থেকে নেমে কতিপয় ব্যক্তি তাকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যায়।
স্বজনদের অভিযোগ, অপহরণের পর জিসানকে চকরিয়া পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের সবুজবাগ এলাকার ‘কবির টাওয়ারে’ নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তার ওপর অমানুষিক নির্যাতন চালিয়ে হত্যা করার পর দুর্বৃত্তরা লাশ মহাসড়কের পাশে ফেলে রেখে পালিয়ে যায়।
চকরিয়া থানার অপারেশন অফিসার ইসমাইল হোসেন জানিয়েছেন, জিসানের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া ও ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
তবে কারা জিসানকে অপহরণ করেছে, কোথায় তাকে হত্যা করা হয়েছে এবং এই হত্যাকাণ্ডের মূল রহস্য কী—এ বিষয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি। ঘটনাটি তদন্তে কাজ করছে পুলিশ।

























