দেশের পুঁজিবাজারে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের শেয়ার কেনার প্রবণতা এবং সামগ্রিক লেনদেন উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বৃদ্ধি পেয়েছে। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, চলতি সেপ্টেম্বর মাসের প্রথম ২৪ দিনের ১৬ কার্যদিবসের মধ্যে ১৩ দিনই বিদেশি বিনিয়োগকারীদের শেয়ার বিক্রির তুলনায় কেনার পরিমাণ বেশি ছিল। এই সময়ে তারা প্রায় ২৫০ কোটি টাকার শেয়ার ক্রয়ের বিপরীতে প্রায় ১৮০ কোটি টাকার শেয়ার বিক্রি করেছেন, যার ফলে তাদের নিট বিনিয়োগ দাঁড়িয়েছে প্রায় ৭০ কোটি টাকা। পূর্ববর্তী মাসগুলোর তুলনায় সেপ্টেম্বরের প্রথম ২৪ দিনেই বিদেশিদের মোট লেনদেন ৪০০ কোটি টাকার মাইলফলক অতিক্রম করেছে, যা দেশের শেয়ারবাজারের প্রতি তাদের আস্থার ইতিবাচক পরিবর্তনের স্পষ্ট ইঙ্গিত বহন করছে।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, পুঁজিবাজারের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের নেওয়া বিভিন্ন নীতিগত উদ্যোগ বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য বাজারের পরিবেশকে যথেষ্ট সহজ ও অনুকূল করেছে। বিশেষ করে, শেয়ারের দীর্ঘমেয়াদি ফ্লোর প্রাইস প্রত্যাহার, ভালো মৌলিক ভিত্তিসম্পন্ন ও বিদেশি কোম্পানিগুলোকে সরাসরি তালিকাভুক্ত করার নতুন বিধিমালার খসড়া তৈরি এবং মার্জিন ঋণসংক্রান্ত নিয়ম সহজ করার পদক্ষেপগুলো বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করেছে। এর পাশাপাশি, আন্তর্জাতিক সূচক সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান এমএসসিআই (MSCI) ঘোষণা দিয়েছে যে ২০২৩ সালের ফ্লোর প্রাইসসংক্রান্ত জটিলতার কারণে ‘বিশেষ নজরদারিতে’ রাখা বাংলাদেশকে আগামী নভেম্বর থেকে পুনরায় নিয়মিত পর্যালোচনার আওতায় আনা হবে, যা আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের কাছে অত্যন্ত ইতিবাচক বার্তা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
বিনিয়োগের অর্থ সহজে নিজ দেশে বা বিদেশে প্রত্যাবাসনের ক্ষেত্রেও নিয়মনীতিতে বড় ধরনের শিথিলতা আনা হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংক বিদেশি বিনিয়োগকারীদের শেয়ার বিক্রির অর্থ বিদেশে পাঠানোর জন্য পূর্বেকার ১০ কোটি টাকার অনুমোদনসীমা বাড়িয়ে ১০০ কোটি টাকায় উন্নীত করেছে। একই সঙ্গে প্রতিটি লেনদেনের ক্ষেত্রে চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট (সিএ) প্রতিষ্ঠানের বাধ্যতামূলক সনদ নেওয়ার নিয়ম বাতিল করে ব্যাংকগুলোকে সরাসরি কর কেটে অর্থ পাঠানোর অনুমতি দেওয়া হয়েছে, যা প্রশাসনিক জটিলতা ও সময় উভয়ই উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস করেছে। বর্তমানে দেশের শেয়ারবাজারে প্রায় ১৩ হাজার কোটি টাকার বিদেশি বিনিয়োগ রয়েছে এবং তালিকাভুক্ত প্রায় ৩৬০টি কোম্পানির মধ্যে ১৩২টিতে বিদেশিদের শেয়ার রয়েছে, যার মধ্যে ব্র্যাক ব্যাংক ও অলিম্পিক ইন্ডাস্ট্রিজ শীর্ষ অবস্থানে রয়েছে। সেন্ট্রাল ডিপোজিটরি বাংলাদেশ লিমিটেডের (সিডিবিএল) তথ্য অনুযায়ী বর্তমানে বিদেশি ও প্রবাসী বাংলাদেশিদের (এনআরবি) নামে ৪১ হাজার ৯৩৭টি বিও হিসাব রয়েছে।

























