রাজধানীর মিরপুর-১ নম্বরে রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাট এবং ইসিবি চত্বর এলাকায় কনটেন্ট নির্মাতা সালমান মুক্তাদিরের ‘ব্রাউনফিশ’ স্টুডিওতে তাণ্ডবের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ ও তীব্র নিন্দা জানিয়েছে মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটি (এইচআরএসএস)। সংগঠনটি এসব ঘটনাকে জননিরাপত্তা, স্বাস্থ্যসেবা পাওয়ার মৌলিক অধিকার, সম্পত্তির অধিকার এবং আইনের শাসনের ওপর মারাত্মক আঘাত হিসেবে অভিহিত করেছে।
রোববার সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক ইজাজুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে এই নিন্দা ও উদ্বেগ জানানো হয়।
বিবৃতিতে বলা হয়, বিভিন্ন সংবাদ ও মামলার তথ্যসূত্রে জানা যায়, মিরপুরের রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে গভীর রাতে দুই শতাধিক মুখোশধারী দুর্বৃত্ত তাণ্ডব চালায়। তারা নিরাপত্তাকর্মীদের জিম্মি ও মারধর করে কেন্দ্র থেকে বিভিন্ন ওষুধ, সরকারি টিকা, টিকাদান রেজিস্টার, পরিবার পরিকল্পনা সামগ্রী ও চিকিৎসা সরঞ্জাম লুট করে নেয়। পরবর্তীতে ভারী যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে একটি স্থায়ী ও তিনটি সেমিপাকা ভবন গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়, যার আনুমানিক ক্ষতির পরিমাণ দেড় কোটি টাকা বলে দাবি করা হয়েছে।
অন্যদিকে, ইসিবি চত্বরে কনটেন্ট নির্মাতা সালমান মুক্তাদিরের ‘ব্রাউনফিশ’ স্টুডিওতেও একদল সংঘবদ্ধ দুর্বৃত্ত হামলা চালিয়ে ভাঙচুর, মালামাল লুটপাট ও উপস্থিত ব্যক্তিদের ভয়ভীতি প্রদর্শন করে।
এইচআরএসএস আরও জানায়, রাড্ডা কেন্দ্রটি দীর্ঘদিন ধরে নিম্ন আয়ের সুবিধাবঞ্চিত মানুষ, নারী ও শিশুদের প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা ও গুরুত্বপূর্ণ টিকাদান সেবা দিয়ে আসছিল। এই হামলায় সরকারি টিকা ও গুরুত্বপূর্ণ রেজিস্টার নষ্ট হওয়ায় শিশুদের টিকাদান কর্মসূচি ও জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে। সংগঠনটি এটিকে কেবল কোনো জমি বা স্থাপনা সংক্রান্ত বিরোধ নয়, বরং জনস্বাস্থ্যের ওপর সরাসরি আক্রমণ হিসেবে দেখছে।
ঘটনাস্থলে পুলিশের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে মানবাধিকার সংগঠনটি। সিসিটিভি ফুটেজে পুলিশের উপস্থিতিতে মালামাল ট্রাকে তোলার দৃশ্য দেখা যাওয়ায় দায়িত্বে অবহেলা বা যোগসাজশ রয়েছে কি না, সে বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেছে এইচআরএসএস।
বিবৃতিতে ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত, জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার, লুট হওয়া টিকা ও স্বাস্থ্য-নথি উদ্ধার এবং কেন্দ্রটি দ্রুত পুনর্নির্মাণ করে সেবা চালুর জোর দাবি জানানো হয়েছে। একই সাথে সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে হামলার বিচার এবং ভবিষ্যতে জোরপূর্বক দখল বা ভাঙচুর বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়েছে।


























