জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদকে বৈশ্বিক কূটনীতির মহাসমাবেশ হিসেবে গণ্য করা হয়, যেখানে বিশ্বনেতারা তাদের নীতি, অবস্থান ও বৈশ্বিক সংকটের কথা তুলে ধরেন। বর্তমানে নিউ ইয়র্কের ম্যানহাটনে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশন চলছে। গত ৮ সেপ্টেম্বর আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হওয়া এই অধিবেশনে বিশ্বের ১৯৩টি সদস্য রাষ্ট্রের মধ্যে শতাধিক রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধান সশরীরে যোগ দিয়েছেন বলে সংস্থাটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের উচ্চপর্যায়ের সাধারণ বিতর্ক বা জেনারেল ডিবেট ২২ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হয়ে ২৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চলবে। ৮১তম অধিবেশনটির মেয়াদ এক বছর এবং ২০২৭ সালের ৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ অব্যাহত থাকবে।
এবারের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সবচেয়ে বড় ঐতিহাসিক বৈশিষ্ট্য হলো, বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান সাধারণ পরিষদের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। দীর্ঘ চার দশক পর কোনো বাংলাদেশি এই মর্যাদাপূর্ণ বৈশ্বিক পদে দায়িত্ব পেলেন। এবারের অধিবেশনের মূল প্রতিপাদ্য হলো—‘আস্থা পুনরুদ্ধার ও রূপান্তর ব্যবস্থাপনা: সবার জন্য কার্যকর একটি জাতিসংঘ’। বর্তমান ভূরাজনৈতিক বিরোধ ও বিভাজন দূর করে জাতিসংঘের ওপর বিশ্ববাসীর আস্থা ফিরিয়ে আনার ওপর এতে জোর দেওয়া হচ্ছে। চলমান অধিবেশনে মধ্যপ্রাচ্য সংকট (ইরান-ইসরাইল-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাত, গাজা যুদ্ধ), ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ পরিস্থিতি, জলবায়ু পরিবর্তনের তীব্র সমস্যা ও সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) এবং আধুনিক প্রযুক্তির জবাবদিহিমূলক ব্যবহারের বৈশ্বিক নীতিমালা তৈরির বিষয়ে আলোচনা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ উল্লেখযোগ্য বিষয় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
এবারের জাতিসংঘ অধিবেশনে এক ভিন্ন ও গৌরবময় বাংলাদেশ উপস্থাপিত হয়েছে। সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে বাংলাদেশ সভাপতির গৌরবজনক উপলক্ষ হওয়ার পাশাপাশি এবার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তার প্রথম ভাষণ দিয়েছেন। জিয়া পরিবারের তৃতীয় সদস্য হিসেবে তার এই ভাষণ জাতিসংঘের ইতিহাসে এক অনন্য অধ্যায় সৃষ্টি করেছে। এছাড়া, সাধারণ পরিষদের সভাপতির ৪০ সদস্যের প্রভাবশালী আন্তর্জাতিক নির্বাহী কার্যালয়ে ছয়জন বাংলাদেশি কর্মকর্তার নিয়োগ বাংলাদেশের জন্য এক বিরল ঘটনা হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।






















