নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) ৮১তম অধিবেশনে অংশগ্রহণ ও পাঁচ দিনের ব্যস্ত সরকারি সফর সফলভাবে শেষ করে দেশে ফিরেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। রবিবার (২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬) সকাল ৮টা ৪০ মিনিটে তাকে বহনকারী বিমানটি হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। এ সময় তার সঙ্গে সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান ও অন্যান্য সফরসঙ্গীরাও দেশে ফেরেন।
নিউইয়র্ক অবস্থানকালে প্রধানমন্ত্রী অত্যন্ত ব্যস্ত সময় পার করেন এবং ৩০টি সরকারি কর্মসূচিতে সরাসরি অংশ নেন। এর মধ্যে ১১টি দেশের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে অত্যন্ত ফলপ্রসূ দ্বিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সাধারণ বিতর্কে প্রথমবারের মতো ঐতিহাসিক ভাষণ দেওয়ার পাশাপাশি তিনি শান্তি, গণতন্ত্র, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা, মানবিক সংকট নিরসন এবং টেকসই উন্নয়নের মতো বাংলাদেশের জাতীয় ও আন্তর্জাতিক অগ্রাধিকার বিষয়গুলো বিশ্ববাসীর সামনে জোরালোভাবে তুলে ধরেন। প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন ঢাকা ফেরার পূর্বে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এই তথ্য নিশ্চিত করেন।
ব্রিফিংয়ে জানানো হয় যে, প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশন-সংশ্লিষ্ট আটটি কর্মসূচি, ইউএনজিএর সাইডলাইনে আয়োজিত চারটি উচ্চপর্যায়ের অনুষ্ঠান এবং ১১টি দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে অংশ নেন। এছাড়া তিনি বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রধান ও বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গের সঙ্গেও গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে মিলিত হন। এসব দ্বিপক্ষীয় ও বহুপক্ষীয় বৈঠকে বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থ রক্ষা, বৈদেশিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণ, জনশক্তি রপ্তানি জোরদারকরণ, জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, আঞ্চলিক সহযোগিতা বৃদ্ধি, রোহিঙ্গা সংকট সমাধান, উন্নত স্বাস্থ্যসেবা এবং জলবায়ু পরিবর্তনজনিত চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার বিষয়গুলো অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে আলোচিত হয়।
অন্যদিকে, প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হিসেবে তার সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমানও অত্যন্ত সফলভাবে আটটি উচ্চপর্যায়ের কর্মসূচিতে অংশ নেন। যার মধ্যে চারটি গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠানে তিনি স্বয়ং বক্তব্য প্রদান করেন। তার এই বিশেষ কর্মসূচির মধ্যে ছিল—জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ‘প্ল্যাটফর্ম অব উইমেন লিডার্স’, ‘ফার্স্ট স্পাউসেস’ ডায়ালগ’ এবং মাতৃ ও শিশু স্বাস্থ্য ও মিডওয়াইফারি বিষয়ক একটি উচ্চপর্যায়ের বিশেষ অনুষ্ঠান। এই সফল যুক্তরাষ্ট্র সফর দেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক এবং আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশের সম্মান ও অবস্থানকে আরও সুদৃঢ় করবে বলে আশা প্রকাশ করা হচ্ছে।






















