জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বিশ্বশান্তি, মানবতা, গণতন্ত্র, মানবাধিকার এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নের পক্ষে বাংলাদেশের অবস্থান সুদৃঢ়ভাবে উপস্থাপন করেছেন বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন। স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে আয়োজিত এক জনাকীর্ণ সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা জানান।
প্রধানমন্ত্রীর ২০ মিনিটেরও বেশি সময়ব্যাপী দেওয়া ভাষণ প্রসঙ্গে উপদেষ্টা মাহদী আমিন বলেন, সেখানে যেমন বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ উন্নয়ন পরিকল্পনার চিত্র ছিল, তেমনই ছিল বিশ্বশান্তি, ফিলিস্তিনিদের অধিকার সুরক্ষা এবং জাতিসংঘের মাধ্যমে বৈশ্বিক সমৃদ্ধি ও ঐক্য প্রতিষ্ঠার শক্তিশালী তাগিদ। ভাষণে শিশু, নারী, তরুণ ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সার্বিক কল্যাণে সরকারের গৃহীত ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড ও ই-হেলথ কার্ড চালুর পাশাপাশি ভবিষ্যতে ইউনিভার্সাল কার্ড প্রবর্তনের দূরদর্শী পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করা হয়। এছাড়া স্বাস্থ্য, শিক্ষা, কৃষি, কর্মসংস্থান, তথ্যপ্রযুক্তি ও পরিবেশ রক্ষা সহ জনকল্যাণমুখী রাষ্ট্র গঠনের বিভিন্ন রূপরেখা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সামনে উপস্থাপন করা হয়েছে।
জাতিসংঘ সফরের সময়সীমা ও বিভিন্ন কর্মসূচির বিস্তারিত তুলে ধরে তিনি জানান, সফরের তৃতীয় দিনে প্রধানমন্ত্রী বহুপাক্ষিক ও উচ্চপর্যায়ের একাধিক বৈঠকে অংশ নিয়ে আঞ্চলিক সহযোগিতা, পরিবেশ রক্ষা, জনস্বাস্থ্য ও বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে বাংলাদেশের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন। বিশেষ করে পাকিস্তান ও থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রীদের সঙ্গে পৃথক দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে সমতা, ন্যায্যতা ও পারস্পরিক মর্যাদার ভিত্তিতে অর্থনৈতিক ও সামাজিক সম্পর্ক পুনর্গঠনের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি ও জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধি ১ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে ধরে রাখার লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী ৪টি সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব পেশ করেন। পাশাপাশি দেশের পরিবেশ সুরক্ষায় আগামী ৫ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ, ২০ হাজার কিলোমিটারের বেশি খাল পুনঃখনন এবং তিস্তা মহাপরিকল্পনা ও পদ্মা ব্যারাজ বাস্তবায়নের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। স্বাস্থ্যবিষয়ক উচ্চপর্যায়ের সভায় মাতৃ ও শিশু মৃত্যুর হার হ্রাস এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর দোরগোড়ায় আধুনিক চিকিৎসা সেবা পৌঁছে দিতে আগামী কয়েক বছরে ১ লাখ নতুন স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের ঘোষণা দেওয়া হয়; যার মধ্যে ৮০ হাজার নারী এবং মিডওয়াইফারি খাতে ২৫ হাজার নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা হবে।
সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়, জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠকটি অত্যন্ত ফলপ্রসূ হয়েছে। বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে মানবিক আশ্রয় প্রদান এবং বিশ্বজুড়ে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশি বাহিনীর গৌরবোজ্জ্বল ভূমিকার জন্য বাংলাদেশ সরকারের প্রতি বিশেষ কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন জাতিসংঘ মহাসচিব।
সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যের মধ্যে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির, শামা ওবায়েদ ইসলাম, প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী, অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমনসহ প্রেস উইংয়ের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।






















