জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির পর চট্টগ্রামে সকাল থেকেই এর প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। বাড়তি জ্বালানি খরচের সঙ্গে সমন্বয়ের কথা বলে গণপরিবহনগুলোতে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করছেন চালকেরা। বাস, টেম্পু, লেগুনা, রাইড-শেয়ারিংসহ বিভিন্ন গণপরিবহনে আগের তুলনায় হঠাৎ ভাড়া বেড়ে যাওয়ায় বিপাকে পড়েছেন কর্মজীবী ও নিম্নআয়ের মানুষ। ভাড়া নিয়ে যাত্রী ও চালকদের মধ্যে বাকবিতণ্ডাও করতে দেখা গেছে।
সোমবার নগরীর টাইগারপাস, জিইসি, মুরাদপুর ও ২ নম্বর গেটসহ বিভিন্ন ব্যস্ততম মোড় ঘুরে এই চিত্র দেখা যায়। চালকরা বলছেন, আগের ভাড়ায় গাড়ি চালালে খরচ উঠবে না।
আগ্রাবাদ থেকে জামালখান পর্যন্ত ডিজেলচালিত টেম্পুগুলোর স্বাভাবিক ভাড়া ২০ টাকা হলেও সোমবার সকাল থেকে ৫ টাকা অতিরিক্ত আদায় করা হচ্ছে। জিইসি মোড় থেকে নতুন সেতুর ভাড়া ২৫ টাকা হলেও নতুন জ্বালানি তেলের দামের সঙ্গে সমন্বয় করে চালকরা এখন ৩০ টাকা দাবি করছেন। একইভাবে নগরীর বিভিন্ন রুটে বাড়তি ভাড়া আদায়ের অভিযোগ পাওয়া গেছে।
বেসরকারি হাসপাতালে চাকরিজীবী যাত্রী আমজাদ হোসেন জানান, সকালে অফিসে যাওয়ার সময়ই বাড়তি ভাড়া দিতে হয়েছে। এখন কোনো নির্দিষ্ট ভাড়ার তালিকা ছাড়াই অতিরিক্ত ভাড়া দাবি করা হচ্ছে। তিনি বলেন, ‘আমাদের মতো নির্দিষ্ট বেতনে চাকরি করা মানুষের আয় তো বাড়ছে না। প্রতিদিন যাতায়াতেই যদি বাড়তি টাকা খরচ হয়, তাহলে সংসারের অন্য খরচ মেটানো কঠিন হবে।’
চট্টগ্রাম নগরীর আগ্রাবাদ থেকে জামালখান রুটে ছয় বছর ধরে ডিজেলচালিত সাদা টেম্পু চালান সাইফুল ইসলাম। তিনি জানান, ‘নির্দিষ্ট ভাড়ার তালিকা না থাকলেও আমাদের সকাল থেকেই নতুন দামে তেল কিনতে হচ্ছে। আগের ভাড়ায় গাড়ি চালালে খরচ উঠবে না। এতে যাত্রীদের সঙ্গে কথা-কাটাকাটিও হচ্ছে।’ তিনি আরও জানান, আগে প্রতিদিন প্রায় ১ হাজার ৬০০ টাকার ডিজেলেই গাড়ি চালানো যেত। এখন একইভাবে গাড়ি চালাতে প্রায় ২ হাজার টাকার তেল প্রয়োজন হবে। এতে প্রতিদিন জ্বালানি বাবদ বাড়তি ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা খরচ হবে।
অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ে পিছিয়ে নেই গ্যাসচালিত গণপরিবহনগুলোও। বাসচালক রহমত উল্লাহ জানান, ‘গাড়ি গ্যাসচালিত হলেও ইঞ্জিন চালু রাখা, জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা সচল রাখা এবং জরুরি প্রয়োজনে বিকল্প জ্বালানি হিসেবে পেট্রোল বা অকটেনের প্রয়োজন হয়। দীর্ঘ সময় শুধু গ্যাসে চললে ইঞ্জিনের কিছু যন্ত্রাংশে অতিরিক্ত তাপ ও ঘর্ষণের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।’


























