পটুয়াখালী জেলার কলাপাড়া উপজেলায় অলৌকিক ঝাড়ফুঁকের চিকিৎসার আড়ালে এক কিশোরীর সঙ্গে বলপ্রয়োগ ও প্রতারণার মাধ্যমে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন এবং পরবর্তীতে সেই গোপন অন্তরঙ্গ মুহূর্তের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল করে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে ব্ল্যাকমেইল করার গুরুতর অভিযোগে চাঞ্চল্যকর কবিরাজ তাইজুল ইসলাম মুসাকে আটক করেছে বিশেষ বাহিনী ‘স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন’ (এসআরবি)।
গত মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে কলাপাড়া পৌর শহরের ১ নম্বর ওয়ার্ডের চায়না গার্ডেন এলাকার ঠিক সামনে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সুনির্দিষ্ট অভিযান চালিয়ে এসআরবি-৮-এর পটুয়াখালী ক্যাম্পের একটি চৌকস দল তাঁকে আটক করতে সক্ষম হয়। পরবর্তীতে আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার জন্য ওই দিন সন্ধ্যায় তাঁকে কলাপাড়া থানায় আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করা হয়।
এর আগে গত ৩১ অক্টোবর সংঘটিত এই জঘন্য অপরাধের ঘটনায় ভুক্তভোগী কিশোরীর সৎবাবা মেহেদী হাসান রিয়াজ বাদী হয়ে কলাপাড়া থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন এবং পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করেন। দায়েরকৃত ওই মামলার প্রধান এজাহারভুক্ত আসামি করা হয়েছে অভিযুক্ত কবিরাজ তাইজুল ইসলাম মুসাকে। এ ছাড়া মামলার বিবরণীতে তাঁর স্ত্রী ফাহিমা বেগমসহ মোট সাতজন সুনির্দিষ্ট ব্যক্তির নাম উল্লেখ করা হয়েছে এবং অজ্ঞাতপরিচয় হিসেবে আরও দুই থেকে তিনজনকে আসামি করা হয়েছে। পুলিশের তথ্যানুযায়ী, আটককৃত মুসা পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার ডালবুগঞ্জ ইউনিয়নের মনসাতলী এলাকার স্থায়ী বাসিন্দা।
মামলার প্রাথমিক এজাহার সূত্রে বিস্তারিত জানা যায় যে, মামলার বাদী মেহেদী হাসান রিয়াজ তাঁর পেশাগত কর্মস্থলের সুবাদে বর্তমানে বরিশালের রূপাতলী এলাকায় বসবাস করে আসছেন। অন্যদিকে তাঁর স্ত্রী ও কিশোরী মেয়ে কলাপাড়া পৌরসভার নাচনাপাড়া মদিনাবাগ এলাকার আবদুল ওয়াদুদের মালিকাধীন একটি ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন। ভুক্তভোগী এই কিশোরী মূলত বাদীর প্রথম পক্ষের ঘরের সন্তান। প্রায় ১৪ বছর পূর্বে দ্বিতীয় বিয়ে করার পর থেকেই ওই কিশোরী তার সৎমায়ের সঙ্গে কলাপাড়ার এই বাসায় থাকত এবং বাদী রিয়াজও কাজের ফাঁকে মাঝেমধ্যে সেই বাসায় যাতায়াত করতেন।
এজাহারে আরও প্রকাশ পায় যে, কিশোরী দীর্ঘদিন ধরে শারীরিকভাবে অসুস্থ থাকায় তার পরিবার বিভিন্ন মাধ্যমে সুচিকিৎসার চেষ্টা চালিয়ে আসছিল। এই অসুস্থতার সুবাদেই পূর্বপরিচিত এক ব্যক্তি অসীম গাজীর মাধ্যমে কবিরাজ তাইজুল ইসলাম মুসার সঙ্গে তাদের পরিবারের যোগাযোগ ও পরিচয় ঘটে।
অভিযোগপত্রে সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, কবিরাজ মুসা চিকিৎসার অভিনয় ও নানা কায়দাকানুন দেখিয়ে কিশোরীকে বিভিন্নভাবে ফুসলিয়ে একপর্যায়ে বিয়ের মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দেয়। এই সুযোগে সে কিশোরীর সঙ্গে অনৈতিকভাবে শারীরিক সম্পর্কে লিপ্ত হয়। এ সময় অত্যন্ত চতুরতার সঙ্গে সে নিজের মোবাইল ফোনে তাদের গোপন অন্তরঙ্গ মুহূর্তের একাধিক ভিডিও চিত্র ও ছবি গোপনে ধারণ করে রাখে। পরবর্তীতে এই অডিও-ভিডিও ক্লিপগুলোকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে মুসা ওই কিশোরীকে একাধিকবার ব্ল্যাকমেইল করে জোরপূর্বক শারীরিক সম্পর্কে লিপ্ত হতে বাধ্য করে বলে গুরুতর অভিযোগ রয়েছে।
পরবর্তী সময়ে কিশোরী ও তার পরিবার বিষয়টি বুঝতে পেরে মুসা ও অসীমকে বিয়ের জন্য তীব্র চাপ সৃষ্টি করে। এই চাপের মুখে আসামিরা ক্ষিপ্ত হয়ে মোবাইল ফোনে গোপনে ধারণ করা সেই আপত্তিকর ভিডিওগুলো একটি পেনড্রাইভে সংরক্ষণ করে সরাসরি কিশোরীর বাড়িতে দলবেঁধে হাজির হয়।
মামলার বিবরণে আরও বলা হয়, কবিরাজ ও তার সহযোগীরা বাড়িতে গিয়ে কিশোরী এবং তার মাকে স্পষ্ট ভাষায় হুমকি দেয় যে, এই সম্পর্কের কথা যেন তারা সম্পূর্ণ গোপন রাখে। যদি তারা কখনো মুখ খোলে, তবে সঙ্গে সঙ্গে ওই অন্তরঙ্গ মুহূর্তের সমস্ত ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হবে। এই চরম হুমকির মুখে ভুক্তভোগী পুরো পরিবারটি মারাত্মকভাবে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে এবং চরম নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে দিন কাটাতে বাধ্য হয় বলে কিশোরীর বাবা তাঁর অভিযোগে উল্লেখ করেছেন।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে কলাপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নজরুল ইসলাম গণমাধ্যমকে জানান, এসআরবি-৮-এর পটুয়াখালী শাখার সদস্যরা সুনির্দিষ্ট অভিযאן পরিচালনা করে অভিযুক্ত কবিরাজ মুসাকে আটক করে রা thা থানায় হস্তান্তর করেছেন। আইনি প্রক্রিয়া অনুযায়ী খুব দ্রুতই তাঁকে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হবে।


























