স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে বাংলাদেশের টেকসই ও মসৃণ উত্তরণ নিশ্চিত করতে সরকার এক মহাপরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। এই পরিকল্পনায় দেশের জনগণ, বেসরকারি খাত, জাতিসংঘ, উন্নয়ন সহযোগী এবং বহুপক্ষীয় উন্নয়ন সংস্থাসহ মোট পাঁচ পক্ষকে সম্পৃক্ত করে ব্যাপক সংস্কার কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হবে। এলডিসি উত্তরণের জন্য প্রাপ্ত বাড়তি সময়কে কেবল সময়ক্ষেপণ না করে, অর্থনীতির কাঠামোগত রূপান্তর, উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি, নতুন বাজার সৃষ্টি এবং দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়নের মজবুত ভিত্তি তৈরিতে কাজে লাগানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
রবিবার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর এসব কথা জানান। তিনি বলেন, বিগত সরকারের উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া ভঙ্গুর অর্থনীতি, মধ্যপ্রাচ্য সংকটের বাহ্যিক চাপ এবং পূর্বপ্রস্তুতির অভাবের মতো অভ্যন্তরীণ ও বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জগুলোকে মাথায় রেখেই সরকার এলডিসি গ্র্যাজুয়েশনকে ‘ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি’তে রূপান্তরের একটি টেকসই সুযোগ হিসেবে দেখছে।
উপদেষ্টা তিতুমীর আরও বলেন, এই মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ), বিশ্বব্যাংক ও এডিবির মতো গুরুত্বপূর্ণ সংস্থাসহ পাঁচ পক্ষকে যুক্ত করে জনগণের ম্যান্ডেটের ভিত্তিতে কাজ শুরু হয়েছে। এর ফলে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের মধ্যেও এক নতুন আস্থার পরিবেশ সৃষ্টি হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
তিনি উল্লেখ করেন, স্বল্পোন্নত দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ সবচেয়ে বড় অর্থনীতি। তাই অর্থনীতির বহুমুখীকরণ, প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়ানো এবং উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির জন্য বড় ধরনের সংস্কার অপরিহার্য। প্রস্তুতির সময় বাড়ানোর কারণ ব্যাখ্যা করে উপদেষ্টা জানান, সরকার এই সময়কে সামগ্রিক অর্থনৈতিক কৌশলের অংশ হিসেবে বিবেচনা করছে। এক্ষেত্রে তিনটি প্রধান বিষয় গুরুত্ব পেয়েছে: বিগত সরকারের দুর্বল অর্থনীতির কারণে সৃষ্ট অভ্যন্তরীণ ভঙ্গুরতা, মধ্যপ্রাচ্য সংকটের ফলে সৃষ্ট বাহ্যিক চাপ ও অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা, এবং এসব পরিস্থিতি মোকাবিলায় আগে থেকে পর্যাপ্ত প্রস্তুতি না থাকা। এসব বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়েই বর্তমান সরকার কাজ শুরু করেছে, তবে সরকার শুরু থেকেই এলডিসি উত্তরণের পক্ষে।
সংস্কারের অগ্রাধিকার সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টা জানান, ব্যাংকিং খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে এনে বিনিয়োগের জন্য অর্থায়ন নিশ্চিত করা সরকারের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। পাশাপাশি জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদার, বিনিয়োগের নতুন বাজার অনুসন্ধান এবং রপ্তানিপণ্যের তালিকা সম্প্রসারণেও কাজ করা হবে।


























