Dhaka ০৩:৩১ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ :
ডিসেম্বরের মধ্যে নতুন মজুরি কাঠামো চূড়ান্ত, শ্রমিকদের বেতন জানুয়ারি থেকে কার্যকর বড়দিন উদযাপনে খ্রিষ্টান কল্যাণ ট্রাস্টকে ৩ কোটি টাকা অনুদান দিলেন প্রধানমন্ত্রী কারখানা বন্ধের চক্রান্ত ও উসকানিকারীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে: সালাহউদ্দিন আহমদ পোশাকশিল্পে টানা অস্থিতিশীলতায় চরম উদ্বিগ্ন উদ্যোক্তারা দেশে কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর ৮৪ শতাংশ অনানুষ্ঠানিক খাতে নিয়োজিত: বিশ্বব্যাংক ভ্যাটসহ প্রতি ভরি ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম দাঁড়াল ২ লাখ ২০ হাজার ৮৫৮ টাকা ডলারের বিনিময় হারে ঊর্ধ্বগতি, ব্যাংকের এমডিদের সতর্ক করলেন গভর্নর উদ্যোক্তাদের অনীহায় বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি কমে ৪.১৭ শতাংশে চার মাসে রেমিট্যান্স প্রবাহে ১৪.৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি নবায়নযোগ্য জ্বালানি এখন আর শুধু সম্ভাবনা নয়, অনিবার্য বাস্তবতা: প্রধানমন্ত্রী

‘ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি’ গড়তে এলডিসি উত্তরণকে সুযোগ হিসেবে দেখছে সরকার; পাঁচ পক্ষকে নিয়ে ব্যাপক সংস্কারের ঘোষণা

  • সর্বশেষ হালনাগাদ : ০৮:৪১:১৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ১ নভেম্বর ২০২৬
  • ১০ বার দেখা হয়েছে

স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে বাংলাদেশের টেকসই ও মসৃণ উত্তরণ নিশ্চিত করতে সরকার এক মহাপরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। এই পরিকল্পনায় দেশের জনগণ, বেসরকারি খাত, জাতিসংঘ, উন্নয়ন সহযোগী এবং বহুপক্ষীয় উন্নয়ন সংস্থাসহ মোট পাঁচ পক্ষকে সম্পৃক্ত করে ব্যাপক সংস্কার কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হবে। এলডিসি উত্তরণের জন্য প্রাপ্ত বাড়তি সময়কে কেবল সময়ক্ষেপণ না করে, অর্থনীতির কাঠামোগত রূপান্তর, উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি, নতুন বাজার সৃষ্টি এবং দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়নের মজবুত ভিত্তি তৈরিতে কাজে লাগানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

রবিবার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর এসব কথা জানান। তিনি বলেন, বিগত সরকারের উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া ভঙ্গুর অর্থনীতি, মধ্যপ্রাচ্য সংকটের বাহ্যিক চাপ এবং পূর্বপ্রস্তুতির অভাবের মতো অভ্যন্তরীণ ও বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জগুলোকে মাথায় রেখেই সরকার এলডিসি গ্র্যাজুয়েশনকে ‘ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি’তে রূপান্তরের একটি টেকসই সুযোগ হিসেবে দেখছে।

উপদেষ্টা তিতুমীর আরও বলেন, এই মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ), বিশ্বব্যাংক ও এডিবির মতো গুরুত্বপূর্ণ সংস্থাসহ পাঁচ পক্ষকে যুক্ত করে জনগণের ম্যান্ডেটের ভিত্তিতে কাজ শুরু হয়েছে। এর ফলে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের মধ্যেও এক নতুন আস্থার পরিবেশ সৃষ্টি হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

তিনি উল্লেখ করেন, স্বল্পোন্নত দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ সবচেয়ে বড় অর্থনীতি। তাই অর্থনীতির বহুমুখীকরণ, প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়ানো এবং উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির জন্য বড় ধরনের সংস্কার অপরিহার্য। প্রস্তুতির সময় বাড়ানোর কারণ ব্যাখ্যা করে উপদেষ্টা জানান, সরকার এই সময়কে সামগ্রিক অর্থনৈতিক কৌশলের অংশ হিসেবে বিবেচনা করছে। এক্ষেত্রে তিনটি প্রধান বিষয় গুরুত্ব পেয়েছে: বিগত সরকারের দুর্বল অর্থনীতির কারণে সৃষ্ট অভ্যন্তরীণ ভঙ্গুরতা, মধ্যপ্রাচ্য সংকটের ফলে সৃষ্ট বাহ্যিক চাপ ও অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা, এবং এসব পরিস্থিতি মোকাবিলায় আগে থেকে পর্যাপ্ত প্রস্তুতি না থাকা। এসব বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়েই বর্তমান সরকার কাজ শুরু করেছে, তবে সরকার শুরু থেকেই এলডিসি উত্তরণের পক্ষে।

সংস্কারের অগ্রাধিকার সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টা জানান, ব্যাংকিং খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে এনে বিনিয়োগের জন্য অর্থায়ন নিশ্চিত করা সরকারের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। পাশাপাশি জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদার, বিনিয়োগের নতুন বাজার অনুসন্ধান এবং রপ্তানিপণ্যের তালিকা সম্প্রসারণেও কাজ করা হবে।

জনপ্রিয়

মোংলা বন্দরে দুটি আধুনিক কন্টেইনার জেটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন প্রধানমন্ত্রী

‘ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি’ গড়তে এলডিসি উত্তরণকে সুযোগ হিসেবে দেখছে সরকার; পাঁচ পক্ষকে নিয়ে ব্যাপক সংস্কারের ঘোষণা

সর্বশেষ হালনাগাদ : ০৮:৪১:১৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ১ নভেম্বর ২০২৬

স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে বাংলাদেশের টেকসই ও মসৃণ উত্তরণ নিশ্চিত করতে সরকার এক মহাপরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। এই পরিকল্পনায় দেশের জনগণ, বেসরকারি খাত, জাতিসংঘ, উন্নয়ন সহযোগী এবং বহুপক্ষীয় উন্নয়ন সংস্থাসহ মোট পাঁচ পক্ষকে সম্পৃক্ত করে ব্যাপক সংস্কার কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হবে। এলডিসি উত্তরণের জন্য প্রাপ্ত বাড়তি সময়কে কেবল সময়ক্ষেপণ না করে, অর্থনীতির কাঠামোগত রূপান্তর, উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি, নতুন বাজার সৃষ্টি এবং দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়নের মজবুত ভিত্তি তৈরিতে কাজে লাগানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

রবিবার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর এসব কথা জানান। তিনি বলেন, বিগত সরকারের উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া ভঙ্গুর অর্থনীতি, মধ্যপ্রাচ্য সংকটের বাহ্যিক চাপ এবং পূর্বপ্রস্তুতির অভাবের মতো অভ্যন্তরীণ ও বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জগুলোকে মাথায় রেখেই সরকার এলডিসি গ্র্যাজুয়েশনকে ‘ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি’তে রূপান্তরের একটি টেকসই সুযোগ হিসেবে দেখছে।

উপদেষ্টা তিতুমীর আরও বলেন, এই মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ), বিশ্বব্যাংক ও এডিবির মতো গুরুত্বপূর্ণ সংস্থাসহ পাঁচ পক্ষকে যুক্ত করে জনগণের ম্যান্ডেটের ভিত্তিতে কাজ শুরু হয়েছে। এর ফলে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের মধ্যেও এক নতুন আস্থার পরিবেশ সৃষ্টি হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

তিনি উল্লেখ করেন, স্বল্পোন্নত দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ সবচেয়ে বড় অর্থনীতি। তাই অর্থনীতির বহুমুখীকরণ, প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়ানো এবং উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির জন্য বড় ধরনের সংস্কার অপরিহার্য। প্রস্তুতির সময় বাড়ানোর কারণ ব্যাখ্যা করে উপদেষ্টা জানান, সরকার এই সময়কে সামগ্রিক অর্থনৈতিক কৌশলের অংশ হিসেবে বিবেচনা করছে। এক্ষেত্রে তিনটি প্রধান বিষয় গুরুত্ব পেয়েছে: বিগত সরকারের দুর্বল অর্থনীতির কারণে সৃষ্ট অভ্যন্তরীণ ভঙ্গুরতা, মধ্যপ্রাচ্য সংকটের ফলে সৃষ্ট বাহ্যিক চাপ ও অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা, এবং এসব পরিস্থিতি মোকাবিলায় আগে থেকে পর্যাপ্ত প্রস্তুতি না থাকা। এসব বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়েই বর্তমান সরকার কাজ শুরু করেছে, তবে সরকার শুরু থেকেই এলডিসি উত্তরণের পক্ষে।

সংস্কারের অগ্রাধিকার সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টা জানান, ব্যাংকিং খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে এনে বিনিয়োগের জন্য অর্থায়ন নিশ্চিত করা সরকারের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। পাশাপাশি জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদার, বিনিয়োগের নতুন বাজার অনুসন্ধান এবং রপ্তানিপণ্যের তালিকা সম্প্রসারণেও কাজ করা হবে।