দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার মিলনস্থল বা কৌশলগত সংযোগস্থল হিসেবে বঙ্গোপসাগরের অনন্য ভৌগোলিক অবস্থানকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের ভূরাজনৈতিক গুরুত্ব দিন দিন উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। সম্প্রতি জাপানের রাজধানী টোকিওতে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির মধ্যে অনুষ্ঠিত অত্যন্ত ফলপ্রসূ শীর্ষ বৈঠকে জাপানি অর্থায়নে চলমান ‘বিগ-বি’ (বে অব বেঙ্গল ইন্ডাস্ট্রিয়াল গ্রোথ বেল্ট বা বঙ্গোপসাগর শিল্প প্রবৃদ্ধি বলয়) উদ্যোগটি সর্বোচ্চ বিশেষ প্রাধান্য লাভ করেছে।
মূলত কক্সবাজারের মহেশখালীর মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দরকে কেন্দ্র করে সমন্বিত লজিস্টিকস ব্যবস্থা, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ, জ্বালানি এবং আধুনিক শিল্পাঞ্চল গড়ে তোলাই এই বৃহত্তর মেগা প্রকল্পের প্রধান লক্ষ্য।
আন্তর্জাতিক ভূরাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, জাপানের নিজস্ব ‘ফ্রি অ্যান্ড ওপেন ইন্দো-প্যাসিফিক’ (এফওআইপি) বা মুক্ত ও অবাধ ভারত-প্রশান্ত মহাসাগরীয় কৌশলী নীতির প্রত্যক্ষ অধীন এই ‘বিগ-বি’ উদ্যোগ বাংলাদেশকে কেবল একটি আঞ্চলিক বাণিজ্যিক কেন্দ্র হিসেবেই প্রতিষ্ঠিত করবে না; বরং সমগ্র ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের সাপ্লাই চেইন বা সরবরাহ ব্যবস্থার অন্যতম প্রধান প্রবেশদ্বারে রূপান্তরিত করবে।
দেশের বিশিষ্ট সাবেক রাষ্ট্রদূত মাহফুজুর রহমান এবং প্রখ্যাত আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষক ড. রহমত উল্লাহর মতে, বঙ্গোপসাগরের শীর্ষভাগে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূগোলে অবস্থানের কারণে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নেতৃত্ব দেওয়ার এক দারুণ সুবর্ণ সুযোগ লাভ করেছে। তবে বিশ্বমঞ্চে বর্তমান সময়ে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যকার তীব্র অর্থনৈতিক প্রতিযোগিতা এবং জটিল আঞ্চলিক ভূরাজনৈতিক হিসাব-নিকাশ অত্যন্ত সতর্কতার সাথে মূল্যায়ন করে জাতীয় স্বার্থকে সর্বাগ্রে অগ্রাধিকার দিয়ে একটি সম্পূর্ণ ভারসাম্যপূর্ণ কূটনৈতিক কৌশল বজায় রাখাটাই এখন সরকারের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।






















