আগামী ৩১ অক্টোবর ঢাকা-কুষ্টিয়া লংমার্চ সফল করার লক্ষ্যে যশোরে এক মতবিনিময় সভার আয়োজন করেছে ১১-দলীয় ঐক্য। বুধবার দুপুরে প্রেসক্লাব যশোর মিলনায়তনে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় সংগঠনের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও যশোর-খুলনা-কুষ্টিয়া অঞ্চলের পরিচালক মোবারক হোসাইন বলেন, নিত্যপণ্যের দাম সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে গেছে। গ্যাস ও বিদ্যুতের তীব্র সংকট চলছে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতি ঘটেছে। তিনি অভিযোগ করেন, জুলাই বিপ্লবে শত শত শহীদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত জুলাই সনদ বাস্তবায়নে বর্তমান সরকার ব্যর্থতার পরিচয় দিচ্ছে, যা জনগণের সঙ্গে একধরনের বিশ্বাসঘাতকতা।
মোবারক হোসাইন আরও বলেন, সরকারের মেয়াদ এক বছর পূর্ণ না হতেই মানুষের মধ্যে অনাস্থা প্রকাশ পেতে শুরু করেছে। এ কারণে জামায়াতসহ সমমনা দলগুলোর সাত দফা দাবি এখন দেশের ১৮ কোটি মানুষের দাবিতে পরিণত হয়েছে।
লংমার্চের রূপরেখা তুলে ধরে মোবারক হোসাইন জানান, এই লংমার্চ ঢাকা থেকে শুরু হয়ে খুলনা, যশোর ও কুষ্টিয়া পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। ৩১ অক্টোবর বিকেলে যশোরের রাজঘাট থেকে বারবাজার পর্যন্ত প্রায় ৭০ হাজার মানুষ সড়কে অবস্থান করবেন। লংমার্চের বহর শহরের মুড়লী মোড়ে পৌঁছালে সেখানে আড়াই লাখ মানুষের গণজমায়েত হবে।
তিনি আরও জানান, এরপর লংমার্চ মণিহার মোড়, হাইকোর্ট মোড় এবং উপশহর-পালবাড়ি সড়ক হয়ে কুষ্টিয়ার দিকে অগ্রসর হবে। তবে সাধারণ মানুষের যাতায়াত ও যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক রাখতে চাঁচড়া চেকপোস্ট থেকে পালবাড়ি পর্যন্ত সড়ক উন্মুক্ত রাখা হবে।
সভায় জানানো হয়, লংমার্চের শৃঙ্খলা রক্ষায় ৬০০ স্বেচ্ছাসেবক, অ্যাম্বুলেন্স, মেডিকেল টিম, পানি সরবরাহকারী দল ও সাংস্কৃতিক কর্মীরা নিয়োজিত থাকবেন। এ সময় মোবারক হোসাইন লংমার্চ সফল করতে সর্বস্তরের জনগণের প্রতি অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান।
মতবিনিময় সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন যশোর জেলা জামায়াতের আমির ও সংসদ সদস্য অধ্যাপক গোলাম রছুল, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের যুগ্ম সম্পাদক মুফতি রাশেদুল ইসলাম, এনসিপির যশোর জেলা আহ্বায়ক নুরুজ্জামান, সদস্য সচিব নুরুজ্জামান রিপন, সাংগঠনিক সম্পাদক রবিউল ইসলাম এবং জামায়াতের প্রচার সেক্রেটারি শাহাবুদ্দিন বিশ্বাস।


























