Dhaka ০৪:৫৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ :
ডিসেম্বরের মধ্যে নতুন মজুরি কাঠামো চূড়ান্ত, শ্রমিকদের বেতন জানুয়ারি থেকে কার্যকর বড়দিন উদযাপনে খ্রিষ্টান কল্যাণ ট্রাস্টকে ৩ কোটি টাকা অনুদান দিলেন প্রধানমন্ত্রী কারখানা বন্ধের চক্রান্ত ও উসকানিকারীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে: সালাহউদ্দিন আহমদ পোশাকশিল্পে টানা অস্থিতিশীলতায় চরম উদ্বিগ্ন উদ্যোক্তারা দেশে কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর ৮৪ শতাংশ অনানুষ্ঠানিক খাতে নিয়োজিত: বিশ্বব্যাংক ভ্যাটসহ প্রতি ভরি ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম দাঁড়াল ২ লাখ ২০ হাজার ৮৫৮ টাকা ডলারের বিনিময় হারে ঊর্ধ্বগতি, ব্যাংকের এমডিদের সতর্ক করলেন গভর্নর উদ্যোক্তাদের অনীহায় বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি কমে ৪.১৭ শতাংশে চার মাসে রেমিট্যান্স প্রবাহে ১৪.৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি নবায়নযোগ্য জ্বালানি এখন আর শুধু সম্ভাবনা নয়, অনিবার্য বাস্তবতা: প্রধানমন্ত্রী

জাহাজ নির্মাণ শিল্পে অপার সম্ভাবনা সত্ত্বেও পিছিয়ে পড়ছে বাংলাদেশ

  • সর্বশেষ হালনাগাদ : ১১:২৮:২০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬
  • ১৫ বার দেখা হয়েছে

বিশ্বজুড়ে বর্তমানে জাহাজ নির্মাণ শিল্পে এক বিশাল অর্থনৈতিক জোয়ার চলছে। চীন, দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপানের মতো দেশগুলো এই খাত থেকে শত শত কোটি ডলার মুনাফা অর্জন করছে। নতুন বাণিজ্যিক রুটের প্রসার, জাহাজের আধুনিকায়ন, কঠোর পরিবেশগত বিধিমালা এবং ধনী শিপিং কোম্পানিগুলোর ক্রমবর্ধমান চাহিদাকে কাজে লাগিয়ে তারা এগিয়ে যাচ্ছে। অথচ বাংলাদেশের দীর্ঘ উপকূলীয় এলাকা, সুলভ শ্রম এবং জাহাজ নির্মাণের সমৃদ্ধ ঐতিহ্য থাকা সত্ত্বেও আমরা এই বিশাল অর্থনৈতিক সুযোগ পুরোপুরি হাতছাড়া করছি।

প্রায় দুই দশক আগেই বাংলাদেশ যে বিশ্বমানের বাণিজ্যিক জাহাজ তৈরি করতে সক্ষম, তা আন্তর্জাতিক বাজারে প্রমাণিত হয়েছিল। দেশের জন্য বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের এক দারুণ সম্ভাবনা তৈরি হলেও পুরো খাতটি পরবর্তীতে অতিরিক্ত ঋণ, অব্যবস্থাপনা এবং প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতির চক্রে জড়িয়ে পড়ে। কার্যকর তদারকির অভাবে সঠিক ব্যবসায়িক ক্ষতি এবং আর্থিক অনিয়মের সীমারেখা অস্পষ্ট হয়ে যাওয়ায় ব্যাংক খাতের ওপর নেমে আসে পাহাড়সম ঋণের বোঝা।

বিশ্ববাজারের সার্বিক পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, বাংলাদেশ কতটা বড় সুযোগ হারাচ্ছে। বিশ্বজুড়ে জাহাজ নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠানগুলোতে বর্তমানে কোটি কোটি টন ক্ষমতার জাহাজের বড় বড় অর্ডার জমা রয়েছে। যার সিংহভাগ অংশীদারিত্বই রয়েছে চীনের দখলে, এবং বাকি অর্ধেকের কাছাকাছি রয়েছে দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপানের হাতে। নতুন অর্ডারের একটি বিশাল অংশ চীন একাই নিজেদের কব্জায় নিয়েছে।

বৈশ্বিক এই জাহাজ নির্মাণ খাতের রমরমা অবস্থার পেছনে বেশ কিছু জোরালো কারণ রয়েছে। এর মধ্যে শিপিং কোম্পানিগুলোর রেকর্ড মুনাফা অর্জন, ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার কারণে সমুদ্রপথে জাহাজ চলাচলের দূরত্ব বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক সংস্থার পরিবেশবান্ধব নতুন বিধিমালা প্রবর্তন অন্যতম প্রধান নিয়ামক হিসেবে কাজ করছে।

জনপ্রিয়

মোংলা বন্দরে দুটি আধুনিক কন্টেইনার জেটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন প্রধানমন্ত্রী

জাহাজ নির্মাণ শিল্পে অপার সম্ভাবনা সত্ত্বেও পিছিয়ে পড়ছে বাংলাদেশ

সর্বশেষ হালনাগাদ : ১১:২৮:২০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬

বিশ্বজুড়ে বর্তমানে জাহাজ নির্মাণ শিল্পে এক বিশাল অর্থনৈতিক জোয়ার চলছে। চীন, দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপানের মতো দেশগুলো এই খাত থেকে শত শত কোটি ডলার মুনাফা অর্জন করছে। নতুন বাণিজ্যিক রুটের প্রসার, জাহাজের আধুনিকায়ন, কঠোর পরিবেশগত বিধিমালা এবং ধনী শিপিং কোম্পানিগুলোর ক্রমবর্ধমান চাহিদাকে কাজে লাগিয়ে তারা এগিয়ে যাচ্ছে। অথচ বাংলাদেশের দীর্ঘ উপকূলীয় এলাকা, সুলভ শ্রম এবং জাহাজ নির্মাণের সমৃদ্ধ ঐতিহ্য থাকা সত্ত্বেও আমরা এই বিশাল অর্থনৈতিক সুযোগ পুরোপুরি হাতছাড়া করছি।

প্রায় দুই দশক আগেই বাংলাদেশ যে বিশ্বমানের বাণিজ্যিক জাহাজ তৈরি করতে সক্ষম, তা আন্তর্জাতিক বাজারে প্রমাণিত হয়েছিল। দেশের জন্য বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের এক দারুণ সম্ভাবনা তৈরি হলেও পুরো খাতটি পরবর্তীতে অতিরিক্ত ঋণ, অব্যবস্থাপনা এবং প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতির চক্রে জড়িয়ে পড়ে। কার্যকর তদারকির অভাবে সঠিক ব্যবসায়িক ক্ষতি এবং আর্থিক অনিয়মের সীমারেখা অস্পষ্ট হয়ে যাওয়ায় ব্যাংক খাতের ওপর নেমে আসে পাহাড়সম ঋণের বোঝা।

বিশ্ববাজারের সার্বিক পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, বাংলাদেশ কতটা বড় সুযোগ হারাচ্ছে। বিশ্বজুড়ে জাহাজ নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠানগুলোতে বর্তমানে কোটি কোটি টন ক্ষমতার জাহাজের বড় বড় অর্ডার জমা রয়েছে। যার সিংহভাগ অংশীদারিত্বই রয়েছে চীনের দখলে, এবং বাকি অর্ধেকের কাছাকাছি রয়েছে দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপানের হাতে। নতুন অর্ডারের একটি বিশাল অংশ চীন একাই নিজেদের কব্জায় নিয়েছে।

বৈশ্বিক এই জাহাজ নির্মাণ খাতের রমরমা অবস্থার পেছনে বেশ কিছু জোরালো কারণ রয়েছে। এর মধ্যে শিপিং কোম্পানিগুলোর রেকর্ড মুনাফা অর্জন, ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার কারণে সমুদ্রপথে জাহাজ চলাচলের দূরত্ব বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক সংস্থার পরিবেশবান্ধব নতুন বিধিমালা প্রবর্তন অন্যতম প্রধান নিয়ামক হিসেবে কাজ করছে।