কক্সবাজারের টেকনাফে ২০১৮ সালে কথিত ‘বন্দুকযুদ্ধের’ নামে কাউন্সিলর একরামুল হককে হত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় বিগত সরকারের প্রধানমন্ত্রী হাসিনাসহ ১১ আসামির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের শুনানির জন্য আজ মঙ্গলবার দিন ধার্য রয়েছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেলে এ মামলার শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে। প্যানেলের অপর দুই সদস্য হলেন বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবির।
এ মামলায় চার আসামি বর্তমানে গ্রেপ্তার রয়েছেন। তারা হলেন কক্সবাজার-৪ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য বদিউর রহমান বদি, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মিফতাহ উদ্দিন আহমেদ, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মাহবুব আলম এবং অবসরপ্রাপ্ত কর্নেল আনোয়ার লতিফ খান তুষার। হাসিনা ছাড়াও অন্য পলাতক আসামিরা হলেন সাবেক সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদ, অবসরপ্রাপ্ত মেজর রুহুল আমিন, লেফটেন্যান্ট কমান্ডার আশিকুর রহমান এবং প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তরের (ডিজিএফআই) সাবেক কর্মকর্তা স্কোয়াড্রন লিডার নাজমুস মাহমুদ। এর আগে গত ২৬ জুলাই ১১ আসামির বিরুদ্ধে প্রসিকিউশনের দাখিল করা আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নেয় ট্রাইব্যুনাল এবং পলাতক আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে।
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ২০১৮ সালের ২৬ মে রাতে টেকনাফের কিরণতলী থেকে একরামুল হককে তুলে নেওয়ার পরদিন ভোরে মেরিন ড্রাইভের সাগরতীরে র্যাবের কথিত ‘বন্দুকযুদ্ধে’ তিনি নিহত হন। একরামুল হক টেকনাফ পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর এবং উপজেলা যুবলীগের সভাপতি ছিলেন। আসামিদের বিরুদ্ধে একরামুলকে বেআইনিভাবে আটক, কথিত ‘বন্দুকযুদ্ধের’ নাটক সাজিয়ে হত্যা এবং হত্যার নির্দেশ দেওয়ার মতো গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে।


























