Dhaka ০১:৪৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ :
ডিসেম্বরের মধ্যে নতুন মজুরি কাঠামো চূড়ান্ত, শ্রমিকদের বেতন জানুয়ারি থেকে কার্যকর বড়দিন উদযাপনে খ্রিষ্টান কল্যাণ ট্রাস্টকে ৩ কোটি টাকা অনুদান দিলেন প্রধানমন্ত্রী কারখানা বন্ধের চক্রান্ত ও উসকানিকারীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে: সালাহউদ্দিন আহমদ পোশাকশিল্পে টানা অস্থিতিশীলতায় চরম উদ্বিগ্ন উদ্যোক্তারা দেশে কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর ৮৪ শতাংশ অনানুষ্ঠানিক খাতে নিয়োজিত: বিশ্বব্যাংক ভ্যাটসহ প্রতি ভরি ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম দাঁড়াল ২ লাখ ২০ হাজার ৮৫৮ টাকা ডলারের বিনিময় হারে ঊর্ধ্বগতি, ব্যাংকের এমডিদের সতর্ক করলেন গভর্নর উদ্যোক্তাদের অনীহায় বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি কমে ৪.১৭ শতাংশে চার মাসে রেমিট্যান্স প্রবাহে ১৪.৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি নবায়নযোগ্য জ্বালানি এখন আর শুধু সম্ভাবনা নয়, অনিবার্য বাস্তবতা: প্রধানমন্ত্রী

প্রকৃতিপ্রেমী রাতুলের সবুজ বাগান

  • সর্বশেষ হালনাগাদ : ১১:০০:২২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬
  • ১৫ বার দেখা হয়েছে

ছোটবেলা থেকেই গাছপালা, ফুল, ফল আর পাখির প্রতি গভীর ভালোবাসা ছিল রাতুলের। অন্য ছেলেমেয়েরা যখন খেলাধুলায় ব্যস্ত থাকত, তখন সে গাছের নিচে বসে পাখির ডাক শুনত এবং নতুন চারাগাছ লাগানোর স্বপ্ন দেখত। তার বিশ্বাস ছিল, একটি গাছ মানে একটি নতুন জীবন আর সবুজ বাগান মানেই একটি সুন্দর পৃথিবী। বাড়ির আঙিনার খালি জায়গাটিতে সে নিজ হাতে একটি ছোট্ট বাগান গড়ে তোলে। মাটি পরিষ্কার করে ছোট চারা রোপণ করার মাধ্যমে তার এই বাগানযাত্রার শুরু হয়। প্রতিদিন ভোরে ঘুম থেকে উঠে সে নিয়ম করে গাছে পানি দিত এবং পরম যত্নে তাদের পরিচর্যা করত।

রাতুলের এই কাজে তার বাবা-মাও পূর্ণ সহায়তা করতেন। তার বাবা ভালো মানের ফলের চারা এনে দিতেন এবং মা রান্নাঘরের সবজির খোসা, শুকনো পাতা ও গোবর দিয়ে জৈব সার তৈরি করে দিতেন। রাসায়নিক সারের পরিবর্তে এই প্রাকৃতিক সার ব্যবহারের ফলে গাছ যেমন সুস্থ থাকত, তেমনি পরিবেশও সুরক্ষিত থাকত। তার বাগানে আম, জাম, কাঁঠাল, লিচু, পেয়ারা, আতা, আমড়া, লেবু, পেঁপে ও কলার মতো নানা ফলের গাছ ধীরে ধীরে বড় হয়ে ওঠে। গরু-ছাগল বা অন্য কোনো প্রাণীর হাত থেকে গাছগুলো রক্ষা করতে সে চারপাশে বাঁশের খুঁটি দিয়ে বেড়া তৈরি করে দিয়েছিল।

শুধু ফলের গাছই নয়, রাতুলের বাগানে নানা ধরনের ঔষধি গাছেরও সমাহার ছিল। নিম, তুলসী, অ্যালোভেরা, বাসক, পুদিনা, আদা, হলুদ ও কালোজিরার মতো ঔষধি গাছ সে পরম যত্নে লালন করত। দাদুর কাছে সে শিখেছিল যে নিমগাছ বাতাস বিশুদ্ধ করে, তুলসী সর্দি-কাশিতে উপকার করে এবং অ্যালোভেরা ত্বকের যত্নে কাজে লাগে। এসব গুণের কথা জেনেই সে ঔষধি গাছের প্রতি আরও বেশি আগ্রহী হয়ে ওঠে।

বাগানটির সৌন্দর্য আরও বাড়াতে সে বিভিন্ন ফুলের গাছও রোপণ করেছিল। কদম, গোলাপ, রজনীগন্ধা, জবা, গাঁদা, বেলি ও শিউলি ফুল ফুটে উঠলে পুরো আঙিনা এক সুমধুর গন্ধে ভরে উঠত। সকালে শিশিরভেজা ফুলগুলো দেখে তার মন আনন্দে ভরে যেত এবং সে কখনো অকারণে ফুল না ছিঁড়ে গাছে ফুটিয়ে রেখেই আনন্দ পেত। প্রকৃতির এই সবুজ ছোঁয়ায় রাতুলের দিনগুলো বেশ কাটছিল।

জনপ্রিয়

পোশাক খাতের শ্রমিক আন্দোলনে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নাশকতার প্রমাণ মিলল

প্রকৃতিপ্রেমী রাতুলের সবুজ বাগান

সর্বশেষ হালনাগাদ : ১১:০০:২২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬

ছোটবেলা থেকেই গাছপালা, ফুল, ফল আর পাখির প্রতি গভীর ভালোবাসা ছিল রাতুলের। অন্য ছেলেমেয়েরা যখন খেলাধুলায় ব্যস্ত থাকত, তখন সে গাছের নিচে বসে পাখির ডাক শুনত এবং নতুন চারাগাছ লাগানোর স্বপ্ন দেখত। তার বিশ্বাস ছিল, একটি গাছ মানে একটি নতুন জীবন আর সবুজ বাগান মানেই একটি সুন্দর পৃথিবী। বাড়ির আঙিনার খালি জায়গাটিতে সে নিজ হাতে একটি ছোট্ট বাগান গড়ে তোলে। মাটি পরিষ্কার করে ছোট চারা রোপণ করার মাধ্যমে তার এই বাগানযাত্রার শুরু হয়। প্রতিদিন ভোরে ঘুম থেকে উঠে সে নিয়ম করে গাছে পানি দিত এবং পরম যত্নে তাদের পরিচর্যা করত।

রাতুলের এই কাজে তার বাবা-মাও পূর্ণ সহায়তা করতেন। তার বাবা ভালো মানের ফলের চারা এনে দিতেন এবং মা রান্নাঘরের সবজির খোসা, শুকনো পাতা ও গোবর দিয়ে জৈব সার তৈরি করে দিতেন। রাসায়নিক সারের পরিবর্তে এই প্রাকৃতিক সার ব্যবহারের ফলে গাছ যেমন সুস্থ থাকত, তেমনি পরিবেশও সুরক্ষিত থাকত। তার বাগানে আম, জাম, কাঁঠাল, লিচু, পেয়ারা, আতা, আমড়া, লেবু, পেঁপে ও কলার মতো নানা ফলের গাছ ধীরে ধীরে বড় হয়ে ওঠে। গরু-ছাগল বা অন্য কোনো প্রাণীর হাত থেকে গাছগুলো রক্ষা করতে সে চারপাশে বাঁশের খুঁটি দিয়ে বেড়া তৈরি করে দিয়েছিল।

শুধু ফলের গাছই নয়, রাতুলের বাগানে নানা ধরনের ঔষধি গাছেরও সমাহার ছিল। নিম, তুলসী, অ্যালোভেরা, বাসক, পুদিনা, আদা, হলুদ ও কালোজিরার মতো ঔষধি গাছ সে পরম যত্নে লালন করত। দাদুর কাছে সে শিখেছিল যে নিমগাছ বাতাস বিশুদ্ধ করে, তুলসী সর্দি-কাশিতে উপকার করে এবং অ্যালোভেরা ত্বকের যত্নে কাজে লাগে। এসব গুণের কথা জেনেই সে ঔষধি গাছের প্রতি আরও বেশি আগ্রহী হয়ে ওঠে।

বাগানটির সৌন্দর্য আরও বাড়াতে সে বিভিন্ন ফুলের গাছও রোপণ করেছিল। কদম, গোলাপ, রজনীগন্ধা, জবা, গাঁদা, বেলি ও শিউলি ফুল ফুটে উঠলে পুরো আঙিনা এক সুমধুর গন্ধে ভরে উঠত। সকালে শিশিরভেজা ফুলগুলো দেখে তার মন আনন্দে ভরে যেত এবং সে কখনো অকারণে ফুল না ছিঁড়ে গাছে ফুটিয়ে রেখেই আনন্দ পেত। প্রকৃতির এই সবুজ ছোঁয়ায় রাতুলের দিনগুলো বেশ কাটছিল।