Dhaka ০৪:৩০ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ :
ডিসেম্বরের মধ্যে নতুন মজুরি কাঠামো চূড়ান্ত, শ্রমিকদের বেতন জানুয়ারি থেকে কার্যকর বড়দিন উদযাপনে খ্রিষ্টান কল্যাণ ট্রাস্টকে ৩ কোটি টাকা অনুদান দিলেন প্রধানমন্ত্রী কারখানা বন্ধের চক্রান্ত ও উসকানিকারীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে: সালাহউদ্দিন আহমদ পোশাকশিল্পে টানা অস্থিতিশীলতায় চরম উদ্বিগ্ন উদ্যোক্তারা দেশে কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর ৮৪ শতাংশ অনানুষ্ঠানিক খাতে নিয়োজিত: বিশ্বব্যাংক ভ্যাটসহ প্রতি ভরি ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম দাঁড়াল ২ লাখ ২০ হাজার ৮৫৮ টাকা ডলারের বিনিময় হারে ঊর্ধ্বগতি, ব্যাংকের এমডিদের সতর্ক করলেন গভর্নর উদ্যোক্তাদের অনীহায় বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি কমে ৪.১৭ শতাংশে চার মাসে রেমিট্যান্স প্রবাহে ১৪.৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি নবায়নযোগ্য জ্বালানি এখন আর শুধু সম্ভাবনা নয়, অনিবার্য বাস্তবতা: প্রধানমন্ত্রী

ইউসিবিতে একক শেয়ার ধারণের সীমা ৩০ শতাংশে উন্নীত: সুশাসন নিয়ে প্রশ্ন বিশেষজ্ঞদের

  • সর্বশেষ হালনাগাদ : ১০:১৬:৫১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬
  • ১৩ বার দেখা হয়েছে

ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংকের (ইউসিবি) শেয়ার ধারণের ক্ষেত্রে বিশেষ ছাড় দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এখন থেকে ব্যাংকটির পরিশোধিত মূলধনের সর্বোচ্চ ৩০ শতাংশ পর্যন্ত শেয়ার কোনো ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান, কোম্পানি বা একই পরিবারের সদস্যরা প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে একক বা যৌথভাবে ধারণ করতে পারবেন। সাধারণত, ব্যাংক কোম্পানি আইনে ১০ শতাংশের বেশি শেয়ার ধারণ করা যায় না। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এই সিদ্ধান্তের যৌক্তিকতা এবং ব্যাংক খাতের সুশাসনের ওপর এর প্রভাব নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

সোমবার বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে এ-সংক্রান্ত একটি সার্কুলার জারি করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, ইউসিবির মূলধন কাঠামো শক্তিশালী করার উদ্দেশ্যে ব্যাংক কোম্পানি আইন, ১৯৯১-এর ১৪ক (১) ধারার বিধান থেকে ব্যাংকটিকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, কৌশলগত বিনিয়োগকারী আনার সুযোগ তৈরি করতেই এ ছাড় দেওয়া হয়েছে। তবে আর্থিক খাতের বিশেষজ্ঞরা এই সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তাদের মতে, কোনো নির্দিষ্ট প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীর আর্থিক সক্ষমতা, গ্রহণযোগ্যতা এবং ব্যাংকটির বর্তমান পরিচালনা পর্ষদের সঙ্গে তার সম্পর্ক যাচাই করার পরই এ ধরনের ছাড় দেওয়া উচিত।

বিশ্বব্যাংকের ঢাকা কার্যালয়ের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ জাহিদ হোসেন বলেন, ব্যাংকের শেয়ার ধারণের সীমা নির্ধারণের মূল উদ্দেশ্য হলো কোনো ব্যক্তি বা পরিবারের হাতে ব্যাংকের মালিকানা ও নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রীভূত হওয়া ঠেকানো। ব্যাংক পরিচালিত হয় আমানতকারীদের অর্থ দিয়ে। ফলে কোনো একক পরিবার ব্যাংকের ওপর অতিরিক্ত নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করলে আমানতকারীদের অর্থ ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।

তিনি আরও বলেন, কৌশলগত বিনিয়োগকারী আনার কথা বলে আইনি সীমা শিথিল করা হলেও এর পেছনে সুনির্দিষ্ট ও যৌক্তিক কারণ থাকা প্রয়োজন। ব্যাংক খাতের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে যেসব সতর্কতামূলক বিধান করা হয়েছে, সেগুলো থেকে অব্যাহতি দেওয়ার ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট ঘটনা ও বাস্তবভিত্তিক যুক্তি থাকা জরুরি। স্পষ্ট ও যৌক্তিক ভিত্তি ছাড়া এ ধরনের ছাড় দেওয়া হলে আইনের গ্রহণযোগ্যতা ক্ষুণ্ণ হয়। এটি সুশাসন ও আইনের শাসনের নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। এমন সিদ্ধান্ত ব্যাংক খাতের বর্তমান ও ভবিষ্যতের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

জনপ্রিয়

মোংলা বন্দরে দুটি আধুনিক কন্টেইনার জেটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন প্রধানমন্ত্রী

ইউসিবিতে একক শেয়ার ধারণের সীমা ৩০ শতাংশে উন্নীত: সুশাসন নিয়ে প্রশ্ন বিশেষজ্ঞদের

সর্বশেষ হালনাগাদ : ১০:১৬:৫১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬

ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংকের (ইউসিবি) শেয়ার ধারণের ক্ষেত্রে বিশেষ ছাড় দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এখন থেকে ব্যাংকটির পরিশোধিত মূলধনের সর্বোচ্চ ৩০ শতাংশ পর্যন্ত শেয়ার কোনো ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান, কোম্পানি বা একই পরিবারের সদস্যরা প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে একক বা যৌথভাবে ধারণ করতে পারবেন। সাধারণত, ব্যাংক কোম্পানি আইনে ১০ শতাংশের বেশি শেয়ার ধারণ করা যায় না। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এই সিদ্ধান্তের যৌক্তিকতা এবং ব্যাংক খাতের সুশাসনের ওপর এর প্রভাব নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

সোমবার বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে এ-সংক্রান্ত একটি সার্কুলার জারি করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, ইউসিবির মূলধন কাঠামো শক্তিশালী করার উদ্দেশ্যে ব্যাংক কোম্পানি আইন, ১৯৯১-এর ১৪ক (১) ধারার বিধান থেকে ব্যাংকটিকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, কৌশলগত বিনিয়োগকারী আনার সুযোগ তৈরি করতেই এ ছাড় দেওয়া হয়েছে। তবে আর্থিক খাতের বিশেষজ্ঞরা এই সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তাদের মতে, কোনো নির্দিষ্ট প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীর আর্থিক সক্ষমতা, গ্রহণযোগ্যতা এবং ব্যাংকটির বর্তমান পরিচালনা পর্ষদের সঙ্গে তার সম্পর্ক যাচাই করার পরই এ ধরনের ছাড় দেওয়া উচিত।

বিশ্বব্যাংকের ঢাকা কার্যালয়ের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ জাহিদ হোসেন বলেন, ব্যাংকের শেয়ার ধারণের সীমা নির্ধারণের মূল উদ্দেশ্য হলো কোনো ব্যক্তি বা পরিবারের হাতে ব্যাংকের মালিকানা ও নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রীভূত হওয়া ঠেকানো। ব্যাংক পরিচালিত হয় আমানতকারীদের অর্থ দিয়ে। ফলে কোনো একক পরিবার ব্যাংকের ওপর অতিরিক্ত নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করলে আমানতকারীদের অর্থ ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।

তিনি আরও বলেন, কৌশলগত বিনিয়োগকারী আনার কথা বলে আইনি সীমা শিথিল করা হলেও এর পেছনে সুনির্দিষ্ট ও যৌক্তিক কারণ থাকা প্রয়োজন। ব্যাংক খাতের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে যেসব সতর্কতামূলক বিধান করা হয়েছে, সেগুলো থেকে অব্যাহতি দেওয়ার ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট ঘটনা ও বাস্তবভিত্তিক যুক্তি থাকা জরুরি। স্পষ্ট ও যৌক্তিক ভিত্তি ছাড়া এ ধরনের ছাড় দেওয়া হলে আইনের গ্রহণযোগ্যতা ক্ষুণ্ণ হয়। এটি সুশাসন ও আইনের শাসনের নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। এমন সিদ্ধান্ত ব্যাংক খাতের বর্তমান ও ভবিষ্যতের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।