দ্রুত শ্রমিক স্বার্থের প্রকৃত প্রতিনিধি নিয়ে নতুন মজুরি বোর্ড গঠন, গণতান্ত্রিক শ্রম বিধিমালা প্রণয়ন, সহজ ও হয়রানিমুক্ত ট্রেড ইউনিয়ন নিবন্ধন এবং সব ধরনের অসৎ শ্রম আচরণ বন্ধের চার দফা দাবিতে রাজধানীতে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে ‘বাংলাদেশ গার্মেন্ট শ্রমিক সংহতি’।
শুক্রবার (৯ অক্টোবর) বিকেলে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে সংগঠনটির কেন্দ্রীয় কমিটির উদ্যোগে এই প্রতিবাদী কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। অনলাইন সংবাদমাধ্যম ‘বাংলা ট্রিবিউন’-এর এক প্রতিবেদনে এ খবর জানানো হয়েছে।
সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন গার্মেন্ট শ্রমিক সংহতির সভাপ্রধান ও শ্রম সংস্কার কমিশনের সদস্য তাসলিমা আখতার। সংগঠনের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহীম চৌধুরীর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন কেন্দ্রীয় সহ-সভাপ্রধান এফ এম নুরুল ইসলাম, কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক হযরত বিল্লাল, সদস্য মামুন, সাহিদা আক্তার ও আকলিমা আক্তারসহ অন্য নেতৃবৃন্দ। এ ছাড়া সমাবেশে একাত্মতা প্রকাশ করে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ আউটসোর্সিং কল্যাণ পরিষদের নেতা নুরুল হক নুর, ঢাকা প্রাইভেট কার ইউনিয়নের সহ-সভাপতি আক্কাস মিয়া এবং বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন ফেডারেশনের সদস্য সোহেলা রুমি।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, ‘শ্রম আইন ২০২৬’-এর নতুন ১৩৯(৬) ধারায় শিল্প সেক্টরে মজুরি পুনর্নির্ধারণের সময়সীমা ৫ বছরের পরিবর্তে ৩ বছর করা হয়েছে। আইন সংশোধন ও শ্রমিকদের ধারাবাহিক আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে চলতি মাসের মধ্যেই নতুন মজুরি বোর্ড গঠনের বিষয়ে শ্রমমন্ত্রীর সাম্প্রতিক ঘোষণাকে আইনি ব্যবস্থার প্রতি শ্রদ্ধাশীল ও ইতিবাচক পদক্ষেপ বলে অভিহিত করেন নেতারা। তাঁরা উল্লেখ করেন, বিগত তিন বছরে গ্যাস, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির ফলে শ্রমিকদের জীবনযাত্রা চরম স্থবির হয়ে পড়েছে, ফলে নতুন সাশ্রয়ী ও মর্যাদাপূর্ণ মজুরি কাঠামোর আর কোনো বিকল্প নেই।
বিগত সরকারের আমলের তিনটি মজুরি বোর্ডে নিরপেক্ষ প্রতিনিধিদের ‘পুতুল’ বানিয়ে কেবল মালিকপক্ষের সুবিধাজনক সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়া হয়েছিল উল্লেখ করে নেতৃবৃন্দ তাগিদ দেন, গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী বর্তমান সরকারকে পুরোনো বিতর্কিত পথ পরিহার করে খাঁটি শ্রমিক প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে নিরপেক্ষ ও কার্যকর বোর্ড গঠন করতে হবে।
কর্মসূচিতে ইউনিয়ন নিবন্ধন প্রক্রিয়া সহজীকরণের বিষয়টি তুলে ধরে নেতারা বলেন, ২০২৬ সালের সংশোধিত শ্রম আইনে ইউনিয়ন নিবন্ধনের জন্য প্রতিষ্ঠানে ২০ বা ৩০ শতাংশ শ্রমিকের বাধ্যবাধকতার পরিবর্তে সর্বনিম্ন ২০ জন থেকে শুরুর যে বিধান করা হয়েছে, তা তৈরি পোশাক খাতের শ্রমিকদের জন্য একটি বড় অর্জন। তবে ইউনিয়ন গঠন ও অধিকার আদায়ের আন্দোলনে যুক্ত থাকার কারণে কারখানাগুলোতে শ্রমিক ছাঁটাই, বরখাস্ত ও ভয়ভীতি দেখানোর মতো অসৎ আচরণ এখনো বিদ্যমান। শ্রমিকের চাকরি সুরক্ষায় এ ধরনের হয়রানি বন্ধে সরকারের প্রতি দ্রুত হস্তক্ষেপের জোর দাবি জানান বক্তারা।


























