Dhaka ০২:২৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ :
ডিসেম্বরের মধ্যে নতুন মজুরি কাঠামো চূড়ান্ত, শ্রমিকদের বেতন জানুয়ারি থেকে কার্যকর বড়দিন উদযাপনে খ্রিষ্টান কল্যাণ ট্রাস্টকে ৩ কোটি টাকা অনুদান দিলেন প্রধানমন্ত্রী কারখানা বন্ধের চক্রান্ত ও উসকানিকারীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে: সালাহউদ্দিন আহমদ পোশাকশিল্পে টানা অস্থিতিশীলতায় চরম উদ্বিগ্ন উদ্যোক্তারা দেশে কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর ৮৪ শতাংশ অনানুষ্ঠানিক খাতে নিয়োজিত: বিশ্বব্যাংক ভ্যাটসহ প্রতি ভরি ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম দাঁড়াল ২ লাখ ২০ হাজার ৮৫৮ টাকা ডলারের বিনিময় হারে ঊর্ধ্বগতি, ব্যাংকের এমডিদের সতর্ক করলেন গভর্নর উদ্যোক্তাদের অনীহায় বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি কমে ৪.১৭ শতাংশে চার মাসে রেমিট্যান্স প্রবাহে ১৪.৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি নবায়নযোগ্য জ্বালানি এখন আর শুধু সম্ভাবনা নয়, অনিবার্য বাস্তবতা: প্রধানমন্ত্রী

ময়মনসিংহে মারামারিতে লিপ্ত সেই দুই শিক্ষক বদলি

  • সর্বশেষ হালনাগাদ : ১২:৩২:৫০ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬
  • ১৫ বার দেখা হয়েছে

ময়মনসিংহের ফুলবাড়ীয়া উপজেলার রাঙামাটিয়া ইউনিয়নের অন্তর্ভুক্ত আকতা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান কার্যালয়ে এক অপ্রীতিকর ও লজ্জিত মারামারির ঘটনায় জড়িয়ে পড়া সেই শিক্ষক দম্পতির বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা হিসেবে এবার প্রধান শিক্ষককেও বদলি করা হয়েছে। এর পূর্বে অভিযুক্ত সহকারী শিক্ষককে অন্য প্রতিষ্ঠানে বদলি করা হলেও, সর্বশেষ বিভাগীয় আদেশের ফলে প্রধান শিক্ষককেও অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হলো।

জানা গেছে, মারামারির ঘটনায় জড়িত সহকারী শিক্ষক আসমা খাতুনকে ইতোপূর্বে ফুলবাড়ীয়া উপজেলার একদম সর্ব দক্ষিণাঞ্চলের কাহালগাঁও দক্ষিণ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বদলি করা হয়েছিল। পরবর্তীতে সর্বশেষ গত শনিবার (১৭ অক্টোবর) ময়মনসিংহ বিভাগীয় উপপরিচালক মুহাম্মদ রফিকুল ইসলাম তালুকদার বিদ্যালয়টির অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক আফজালপুর রহমানকে ওই একই উপজেলার একেবারে সর্ব উত্তরের প্রান্তিক অঞ্চল বৈদ্যবাড়ি পশ্চিমপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বদলির আনুষ্ঠানিক আদেশ প্রদান করেন।

এর আগে গত বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) প্রধান শিক্ষকের নিজ স্ত্রী ও উক্ত বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আছমা খাতুনের বিরুদ্ধে অফিসিয়াল বিভাগীয় মামলা দায়ের করে তাকে অবিলম্বে কাহালগাঁও দক্ষিণপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বদলি করেছিলেন জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. শফিকুল ইসলাম।

উল্লেখ্য, গত ৫ অক্টোবর আকতা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান কার্যালয়ে কর্মরত ওই শিক্ষক দম্পতির নিজেদের মধ্যে হাতাহাতি ও মারামারির একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত ভাইরাল হয়ে ছড়িয়ে পড়েছিল। এই অপ্রত্যাশিত ঘটনার পর শিক্ষা বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সুনির্দিষ্ট নির্দেশে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মোহা. ইকবাল হোসেন সরেজমিন ঘটনাটির গভীর তদন্ত সম্পন্ন করেন। তদন্তে শিক্ষক দম্পতির মারামারির সত্যতা প্রমাণিত হওয়ায় তাঁদের দুজনের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করে প্রতিবেদন দাখিল করা হয়েছিল।

সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা যায়, আকতা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এবং সহকারী শিক্ষক আছমা খাতুনের মধ্যে দীর্ঘ প্রায় এক যুগ ধরে পারিবারিক কলহ ও দ্বন্দ্ব চলে আসছিল। একপর্যায়ে তাঁদের সেই দীর্ঘদিনের পারিবারিক কোন্দল কর্মক্ষেত্র অর্থাৎ বিদ্যালয় ভবনেও প্রভাব বিস্তার করে। প্রায়শই তাঁরা বিদ্যালয়ের কর্মঘণ্টায় প্রকাশ্যে বড় ধরনের ঝগড়া ও তর্কে জড়িয়ে পড়তেন। শিক্ষক দম্পতির এমন অনৈতিক ও অপেশাদার আচরণে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে উপস্থিত কোমলমতি শিক্ষার্থী, উদ্বিগ্ন অভিভাবক এবং এলাকার স্থানীয় বাসিন্দাদের মাঝে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষের সৃষ্টি হয়েছিল।

শিক্ষকদের এমন বিশৃঙ্খল আচরণ ও কলহের কারণে বিদ্যালয়টির শিক্ষা পরিবেশ মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হয়, যার ফলে প্রতিষ্ঠানে নতুন শিক্ষার্থী ভর্তির হার দিন দিন আশঙ্কাজনক হারে কমতে শুরু করে। চরম অসন্তুষ্ট অনেক অভিভাবক তাঁদের সন্তানদের ওই বিদ্যালয় থেকে ছাড়পত্র নিয়ে অন্যত্র অন্য কোনো ভালো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে গিয়ে ভর্তি করাতে বাধ্য হন।

সার্বিক বিষয়ে মন্তব্য জানতে চাইলে ফুলবাড়ীয়া উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মোহা. ইকবাল হোসেন গণমাধ্যমকে জানান, আকতা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক আফজালপুর রহমানকে প্রশাসনিক আদেশে বৈদ্যবাড়ি পশ্চিমপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বদলি করা হয়েছে। এর আগে শৃঙ্খলা ভঙ্গের সুনির্দিষ্ট অভিযোগে সহকারী শিক্ষক আছমা খাতুনের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা রুজু করা হয় এবং তাঁকেও দ্রুত অন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বদলি করা হয়েছে।

জনপ্রিয়

পুলিশকে মাত্রাতিরিক্ত শক্তি প্রয়োগের সংস্কৃতি থেকে বের করে আনা হয়েছে: তথ্য উপদেষ্টা

ময়মনসিংহে মারামারিতে লিপ্ত সেই দুই শিক্ষক বদলি

সর্বশেষ হালনাগাদ : ১২:৩২:৫০ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬

ময়মনসিংহের ফুলবাড়ীয়া উপজেলার রাঙামাটিয়া ইউনিয়নের অন্তর্ভুক্ত আকতা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান কার্যালয়ে এক অপ্রীতিকর ও লজ্জিত মারামারির ঘটনায় জড়িয়ে পড়া সেই শিক্ষক দম্পতির বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা হিসেবে এবার প্রধান শিক্ষককেও বদলি করা হয়েছে। এর পূর্বে অভিযুক্ত সহকারী শিক্ষককে অন্য প্রতিষ্ঠানে বদলি করা হলেও, সর্বশেষ বিভাগীয় আদেশের ফলে প্রধান শিক্ষককেও অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হলো।

জানা গেছে, মারামারির ঘটনায় জড়িত সহকারী শিক্ষক আসমা খাতুনকে ইতোপূর্বে ফুলবাড়ীয়া উপজেলার একদম সর্ব দক্ষিণাঞ্চলের কাহালগাঁও দক্ষিণ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বদলি করা হয়েছিল। পরবর্তীতে সর্বশেষ গত শনিবার (১৭ অক্টোবর) ময়মনসিংহ বিভাগীয় উপপরিচালক মুহাম্মদ রফিকুল ইসলাম তালুকদার বিদ্যালয়টির অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক আফজালপুর রহমানকে ওই একই উপজেলার একেবারে সর্ব উত্তরের প্রান্তিক অঞ্চল বৈদ্যবাড়ি পশ্চিমপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বদলির আনুষ্ঠানিক আদেশ প্রদান করেন।

এর আগে গত বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) প্রধান শিক্ষকের নিজ স্ত্রী ও উক্ত বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আছমা খাতুনের বিরুদ্ধে অফিসিয়াল বিভাগীয় মামলা দায়ের করে তাকে অবিলম্বে কাহালগাঁও দক্ষিণপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বদলি করেছিলেন জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. শফিকুল ইসলাম।

উল্লেখ্য, গত ৫ অক্টোবর আকতা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান কার্যালয়ে কর্মরত ওই শিক্ষক দম্পতির নিজেদের মধ্যে হাতাহাতি ও মারামারির একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত ভাইরাল হয়ে ছড়িয়ে পড়েছিল। এই অপ্রত্যাশিত ঘটনার পর শিক্ষা বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সুনির্দিষ্ট নির্দেশে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মোহা. ইকবাল হোসেন সরেজমিন ঘটনাটির গভীর তদন্ত সম্পন্ন করেন। তদন্তে শিক্ষক দম্পতির মারামারির সত্যতা প্রমাণিত হওয়ায় তাঁদের দুজনের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করে প্রতিবেদন দাখিল করা হয়েছিল।

সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা যায়, আকতা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এবং সহকারী শিক্ষক আছমা খাতুনের মধ্যে দীর্ঘ প্রায় এক যুগ ধরে পারিবারিক কলহ ও দ্বন্দ্ব চলে আসছিল। একপর্যায়ে তাঁদের সেই দীর্ঘদিনের পারিবারিক কোন্দল কর্মক্ষেত্র অর্থাৎ বিদ্যালয় ভবনেও প্রভাব বিস্তার করে। প্রায়শই তাঁরা বিদ্যালয়ের কর্মঘণ্টায় প্রকাশ্যে বড় ধরনের ঝগড়া ও তর্কে জড়িয়ে পড়তেন। শিক্ষক দম্পতির এমন অনৈতিক ও অপেশাদার আচরণে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে উপস্থিত কোমলমতি শিক্ষার্থী, উদ্বিগ্ন অভিভাবক এবং এলাকার স্থানীয় বাসিন্দাদের মাঝে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষের সৃষ্টি হয়েছিল।

শিক্ষকদের এমন বিশৃঙ্খল আচরণ ও কলহের কারণে বিদ্যালয়টির শিক্ষা পরিবেশ মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হয়, যার ফলে প্রতিষ্ঠানে নতুন শিক্ষার্থী ভর্তির হার দিন দিন আশঙ্কাজনক হারে কমতে শুরু করে। চরম অসন্তুষ্ট অনেক অভিভাবক তাঁদের সন্তানদের ওই বিদ্যালয় থেকে ছাড়পত্র নিয়ে অন্যত্র অন্য কোনো ভালো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে গিয়ে ভর্তি করাতে বাধ্য হন।

সার্বিক বিষয়ে মন্তব্য জানতে চাইলে ফুলবাড়ীয়া উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মোহা. ইকবাল হোসেন গণমাধ্যমকে জানান, আকতা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক আফজালপুর রহমানকে প্রশাসনিক আদেশে বৈদ্যবাড়ি পশ্চিমপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বদলি করা হয়েছে। এর আগে শৃঙ্খলা ভঙ্গের সুনির্দিষ্ট অভিযোগে সহকারী শিক্ষক আছমা খাতুনের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা রুজু করা হয় এবং তাঁকেও দ্রুত অন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বদলি করা হয়েছে।