ভারতের সঙ্গে প্রয়োজনীয় সমঝোতা হলেই লালমনিরহাটের দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকা মোগলহাট স্থলবন্দরটি পুনরায় চালু হবে। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু এবং নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী রাজিব আহসান লালমনিরহাটবাসীকে এই আশ্বাস দিয়েছেন।
রোববার, লালমনিরহাটের মোগলহাট স্থলবন্দর এলাকা পরিদর্শন শেষে স্থানীয়দের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী এই আশ্বাসের কথা জানান। জেলা প্রশাসনের আয়োজনে মোগলহাট জিরো পয়েন্টে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়।
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু এ সময় বলেন, মোগলহাট স্থলবন্দর একটি আন্তর্জাতিক স্থলবন্দর। তাই পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতের সঙ্গে আমাদের চুক্তি করতে হবে। আর আমাদের এখানে যে অবকাঠামো সংস্কার করতে হবে তা আমাদের অভ্যন্তরীণ বিষয়।
ত্রাণমন্ত্রী আরও বলেন, এ অঞ্চলের মানুষ হতদরিদ্র ও গরিব। এখানে কর্মহীন মানুষের সংখ্যাই বেশি। স্থলবন্দরটি চালু হলে এখানে অর্থনৈতিক কর্মচাঞ্চল্য সৃষ্টি হবে। আন্তর্জাতিক মানের বাণিজ্য শুরু হলে উভয় দেশের অর্থনীতিকে মজবুত করবে।
নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী রাজিব আহসান বলেন, মোগলহাট স্থলবন্দর পুনরায় চালুর বিষয়ে স্থানীয় মানুষের দাবির সঙ্গে সরকার একমত। বাংলাদেশের অংশে বন্দর চালুর জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো ও জনবল প্রস্তুতের সক্ষমতা রয়েছে। ইতোমধ্যে স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান এলাকা পরিদর্শন করে একটি প্রতিবেদন তৈরি করেছেন।
তিনি বলেন, বন্দরটি আন্তর্জাতিক হওয়ায় শুধু বাংলাদেশের প্রস্তুতি থাকলেই হবে না, ভারতের পক্ষেও স্থলবন্দর কার্যক্রম পরিচালনার বিষয়ে প্রয়োজনীয় সমঝোতা থাকতে হবে। এ বিষয়ে অগ্রগতি হলে মোগলহাট স্থলবন্দর পুনরায় সচল করার উদ্যোগ এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে।
বন্দরটি চালুর ক্ষেত্রে নদীর ওপর প্রয়োজনীয় সেতু, সড়ক যোগাযোগ, শুল্ক স্টেশনসহ অন্যান্য অবকাঠামো গড়ে তোলার বিষয়টি বিবেচনা করা হবে বলে উল্লেখ করেন নৌ প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, মোগলহাট স্থলবন্দর চালু হলে লালমনিরহাটসহ উত্তরাঞ্চলের ব্যবসা-বাণিজ্য ও আমদানি-রপ্তানিতে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হবে।
এর আগে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু মোগলহাট স্থলবন্দর এলাকা পরিদর্শন করেন। পরে তিনি বলেন, মোগলহাট স্থলবন্দর চালু করা এ এলাকার মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি। কীভাবে অল্প সময়ের মধ্যে বন্দরটি চালু করা যায়, সে বিষয়ে সম্ভাব্যতা যাচাই করা হবে। তবে এটি আন্তর্জাতিক বন্দর হওয়ায় প্রথমে ভারতের সঙ্গে প্রয়োজনীয় চুক্তি ও সমঝোতা করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে মোগলহাট স্থলবন্দর চালুর বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে চুক্তির কথা শোনা গেলেও বাস্তবে কোনো চুক্তি হয়নি। বর্তমান সরকার বিষয়টি নিয়ে ভারতের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেবে।
সভায় মোগলহাট স্থলবন্দর পুনঃচালুর সম্ভাব্যতা যাচাই, অবকাঠামোগত উন্নয়ন, যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং বন্দরটি চালু হলে স্থানীয় ও আঞ্চলিক অর্থনীতিতে এর সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে আলোচনা করা হয়।
সভায় সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ মনজারুল মান্নান। এ সময় লালমনিরহাটের জেলা প্রশাসক মুহা. রাশেদুল হক প্রধান, জেলা পরিষদ প্রশাসক এ কে এম মমিনুল হকসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।


























