Dhaka ০১:৪৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ :
ডিসেম্বরের মধ্যে নতুন মজুরি কাঠামো চূড়ান্ত, শ্রমিকদের বেতন জানুয়ারি থেকে কার্যকর বড়দিন উদযাপনে খ্রিষ্টান কল্যাণ ট্রাস্টকে ৩ কোটি টাকা অনুদান দিলেন প্রধানমন্ত্রী কারখানা বন্ধের চক্রান্ত ও উসকানিকারীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে: সালাহউদ্দিন আহমদ পোশাকশিল্পে টানা অস্থিতিশীলতায় চরম উদ্বিগ্ন উদ্যোক্তারা দেশে কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর ৮৪ শতাংশ অনানুষ্ঠানিক খাতে নিয়োজিত: বিশ্বব্যাংক ভ্যাটসহ প্রতি ভরি ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম দাঁড়াল ২ লাখ ২০ হাজার ৮৫৮ টাকা ডলারের বিনিময় হারে ঊর্ধ্বগতি, ব্যাংকের এমডিদের সতর্ক করলেন গভর্নর উদ্যোক্তাদের অনীহায় বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি কমে ৪.১৭ শতাংশে চার মাসে রেমিট্যান্স প্রবাহে ১৪.৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি নবায়নযোগ্য জ্বালানি এখন আর শুধু সম্ভাবনা নয়, অনিবার্য বাস্তবতা: প্রধানমন্ত্রী

কিশোরগঞ্জে মাঠ হারিয়ে গেম ও অনলাইন জুয়ায় আসক্ত হচ্ছে শিশু-কিশোররা

  • সর্বশেষ হালনাগাদ : ১০:৩৩:০৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ৩৪ বার দেখা হয়েছে

খেলাধুলা ছেড়ে গেম ও অনলাইন জুয়ার দিকে ঝুঁকছে কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলার শিশু-কিশোরেরা। এর ফলে এলাকায় শিশু অপরাধের প্রবণতা আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে। একসময় বিকেল হলেই গ্রামের মাঠগুলো প্রাণবন্ত হয়ে উঠত। কোথাও চলত ফুটবল বা ক্রিকেটের লড়াই, আবার কোথাও গোল্লাছুট, হাডুডু কিংবা দাঁড়িয়াবান্দার মতো গ্রামীণ খেলা। কিন্তু সেই চেনা চিত্র এখন আর দেখা যায় না। মাঠের জায়গা দখল করে নিয়েছে স্মার্টফোনের ছোট পর্দা। অনেক সময় দুর্বল নেটওয়ার্কের কারণে ইন্টারনেটের সন্ধানে কিশোরদের গাছের ডালে বা বাঁশের মাচায় বসে ঘণ্টার পর ঘণ্টা মোবাইলে বুঁদ হয়ে থাকতে দেখা যায়।

কটিয়াদী উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে এখন এই দৃশ্য নিত্যদিনের। দল বেঁধে গাছের নিচে কিংবা উঁচুতে বসে মোবাইল নিয়ে ব্যস্ত থাকে তরুণ ও কিশোরেরা। কেউ মেতে থাকে অনলাইন গেমে, কেউ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে, আবার কেউ জড়িয়ে পড়ছে সর্বনাশা অনলাইন জুয়ায়। স্থানীয়দের মতে, অবসর সময়ের সঙ্গী হিসেবে মাঠের জায়গা পুরোপুরি দখল করে নিয়েছে আধুনিক প্রযুক্তি। খেলার মাঠের সংকট, পড়াশোনার অতিরিক্ত চাপ, অভিভাবকদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ এবং সহজে ইন্টারনেট পাওয়ার সুযোগের কারণেই শিশু-কিশোরেরা আজ ঘরবন্দি। আর এই অলস সময়ের প্রায় পুরোটাই কাটছে মোবাইলের স্ক্রিনে।

উপজেলার মসূয়া ইউনিয়নের পং মসূয়া গ্রামের প্রবীণ বাসিন্দা মোমতাজ উদ্দিন জানান, আগে বিকেলে ছেলেরা দল বেঁধে মাঠে যেত এবং খেলাধুলা শেষে সন্ধ্যায় বাড়ি ফিরত। অথচ এখন মাঠে তাদের উপস্থিতি নামমাত্র, বরং মোবাইল হাতেই তাদের বেশি দেখা যায়। একই গ্রামের কিশোর জিসান বলে, সে মাঝে মাঝে ফুটবল খেলে, তবে গোল্লাছুট বা দাঁড়িয়াবান্দার মতো ঐতিহ্যবাহী খেলার নাম শুনলেও কখনো দেখেনি বা খেলেনি। অভিভাবকদের বড় অভিযোগ, মোবাইলের প্রতি এই মাত্রাতিরিক্ত আসক্তির কারণে শিশুদের পড়াশোনায় মনোযোগ তলানিতে ঠেকেছে। অনেক শিশু তো মোবাইল ছাড়া খেতেই চায় না বা পড়তে বসে না। আবার কৌতূহলী কিশোরেরা গেম ও অনলাইন জুয়ায় টাকা খরচ করায় সংসারে প্রতিনিয়ত অশান্তি ও দুশ্চিন্তা বাড়ছে।

জনপ্রিয়

পোশাক খাতের শ্রমিক আন্দোলনে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নাশকতার প্রমাণ মিলল

কিশোরগঞ্জে মাঠ হারিয়ে গেম ও অনলাইন জুয়ায় আসক্ত হচ্ছে শিশু-কিশোররা

সর্বশেষ হালনাগাদ : ১০:৩৩:০৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

খেলাধুলা ছেড়ে গেম ও অনলাইন জুয়ার দিকে ঝুঁকছে কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলার শিশু-কিশোরেরা। এর ফলে এলাকায় শিশু অপরাধের প্রবণতা আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে। একসময় বিকেল হলেই গ্রামের মাঠগুলো প্রাণবন্ত হয়ে উঠত। কোথাও চলত ফুটবল বা ক্রিকেটের লড়াই, আবার কোথাও গোল্লাছুট, হাডুডু কিংবা দাঁড়িয়াবান্দার মতো গ্রামীণ খেলা। কিন্তু সেই চেনা চিত্র এখন আর দেখা যায় না। মাঠের জায়গা দখল করে নিয়েছে স্মার্টফোনের ছোট পর্দা। অনেক সময় দুর্বল নেটওয়ার্কের কারণে ইন্টারনেটের সন্ধানে কিশোরদের গাছের ডালে বা বাঁশের মাচায় বসে ঘণ্টার পর ঘণ্টা মোবাইলে বুঁদ হয়ে থাকতে দেখা যায়।

কটিয়াদী উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে এখন এই দৃশ্য নিত্যদিনের। দল বেঁধে গাছের নিচে কিংবা উঁচুতে বসে মোবাইল নিয়ে ব্যস্ত থাকে তরুণ ও কিশোরেরা। কেউ মেতে থাকে অনলাইন গেমে, কেউ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে, আবার কেউ জড়িয়ে পড়ছে সর্বনাশা অনলাইন জুয়ায়। স্থানীয়দের মতে, অবসর সময়ের সঙ্গী হিসেবে মাঠের জায়গা পুরোপুরি দখল করে নিয়েছে আধুনিক প্রযুক্তি। খেলার মাঠের সংকট, পড়াশোনার অতিরিক্ত চাপ, অভিভাবকদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ এবং সহজে ইন্টারনেট পাওয়ার সুযোগের কারণেই শিশু-কিশোরেরা আজ ঘরবন্দি। আর এই অলস সময়ের প্রায় পুরোটাই কাটছে মোবাইলের স্ক্রিনে।

উপজেলার মসূয়া ইউনিয়নের পং মসূয়া গ্রামের প্রবীণ বাসিন্দা মোমতাজ উদ্দিন জানান, আগে বিকেলে ছেলেরা দল বেঁধে মাঠে যেত এবং খেলাধুলা শেষে সন্ধ্যায় বাড়ি ফিরত। অথচ এখন মাঠে তাদের উপস্থিতি নামমাত্র, বরং মোবাইল হাতেই তাদের বেশি দেখা যায়। একই গ্রামের কিশোর জিসান বলে, সে মাঝে মাঝে ফুটবল খেলে, তবে গোল্লাছুট বা দাঁড়িয়াবান্দার মতো ঐতিহ্যবাহী খেলার নাম শুনলেও কখনো দেখেনি বা খেলেনি। অভিভাবকদের বড় অভিযোগ, মোবাইলের প্রতি এই মাত্রাতিরিক্ত আসক্তির কারণে শিশুদের পড়াশোনায় মনোযোগ তলানিতে ঠেকেছে। অনেক শিশু তো মোবাইল ছাড়া খেতেই চায় না বা পড়তে বসে না। আবার কৌতূহলী কিশোরেরা গেম ও অনলাইন জুয়ায় টাকা খরচ করায় সংসারে প্রতিনিয়ত অশান্তি ও দুশ্চিন্তা বাড়ছে।