বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম নিম্নমুখী প্রবণতা দেখালেও বাংলাদেশে ডিজেল, পেট্রোল, অকটেন ও কেরোসিনের দাম লিটারে রেকর্ড ২০ টাকা করে বৃদ্ধি করেছে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বিএনপি সরকার। এই আকস্মিক মূল্যবৃদ্ধি জনজীবনে ব্যাপক প্রভাব ফেলবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
সোমবার সকালে ব্রেন্ট ক্রুডের ভবিষ্যৎ সরবরাহের দাম ৮১ সেন্ট বা শূন্য দশমিক ৭৮ শতাংশ কমে প্রতি ব্যারেল ১০৩ দশমিক ০৬ ডলারে নেমে আসে। যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের (ডব্লিউটিআই) দামও ৮৯ সেন্ট বা শূন্য দশমিক ৮৯ শতাংশ কমে ৯৯ দশমিক ৪১ ডলারে নামে। সৌদি আরবে ইয়েমেনের হুথিদের হামলা অব্যাহত থাকলেও, রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, হামলার পরও সৌদি আরবের তেল রপ্তানি বাড়ার তথ্যে বিশ্ববাজারে সরবরাহে বড় ধরনের দীর্ঘস্থায়ী ঘাটতি তৈরি হবে না এমন প্রত্যাশা তেলের দামে প্রভাব ফেলেছে।
তবে বাংলাদেশে চিত্র ভিন্ন। রোববার রাতে জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিভাগ থেকে জারি করা প্রজ্ঞাপনে নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়। সোমবার থেকে ডিজেল প্রতি লিটার ১৩৫ টাকা, পেট্রোল ১৬০ টাকা, অকটেন ১৬৫ টাকা এবং কেরোসিন ১৫৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এর আগে দাম ছিল যথাক্রমে ১১৫, ১৪০, ১৪৫ ও ১৩৫ টাকা।
সরকারের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, মার্চ মাস থেকে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম এবং পরিবহন ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। এই সময়ে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) বড় অঙ্কের লোকসানে পড়েছে। সরকারের হিসাব অনুযায়ী, মার্চ থেকে আগস্ট পর্যন্ত বিপিসির লোকসান হয়েছে ২২ হাজার ৮৭৫ কোটি ৬৬ লাখ টাকা। নতুন দাম নির্ধারণের ফলে বিপিসির লোকসান কমবে এবং বৈদেশিক মুদ্রার ওপর চাপও কমবে বলে সরকার জানিয়েছে।
চলতি বছরে এর আগে ১৮ এপ্রিল জ্বালানির দামে বড় ধরনের সমন্বয় করা হয়। তখন ডিজেলের দাম ১০০ থেকে বাড়িয়ে ১১৫ টাকা, অকটেন ১২০ থেকে ১৪০ টাকা, পেট্রোল ১১৬ থেকে ১৩৫ টাকা এবং কেরোসিন ১১২ থেকে ১৩০ টাকা করা হয়েছিল। এরপর ১ জুন থেকে অকটেন, পেট্রোল ও কেরোসিনের দাম আরও ৫ টাকা করে বাড়ানো হয়। ডিজেলের দাম তখন অপরিবর্তিত রাখা হয়। ফলে সেপ্টেম্বরের সর্বশেষ বৃদ্ধির আগে ডিজেলের দাম ছিল ১১৫ টাকা, অকটেন ১৪৫ টাকা, পেট্রোল ১৪০ টাকা এবং কেরোসিন ১৩৫ টাকা।


























