টাঙ্গাইলের সদর উপজেলা বিএনপির সাবেক সহসভাপতি ও দাইন্যা ইউনিয়ন পরিষদের তিন বারের সাবেক চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম হত্যা মামলায় তিন আসামির মৃত্যুদণ্ড এবং আরও চার আসামির যাবজ্জীবন কারাদণ্ডাদেশ দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় মামলার এক আসামিকে বেকসুর খালাস দেওয়া হয়েছে।
সোমবার সকালে টাঙ্গাইলের প্রথম অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. ফয়সাল আল মামুন এই দণ্ডাদেশ প্রদান করেন। দুপুরে টাঙ্গাইলের কোর্ট ইনস্পেক্টর রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন— ছাত্রলীগের সাবেক কেন্দ্রীয় সহসভাপতি সানিয়াত খান বাপ্পা, স্থানীয় বাসিন্দা শাজাহান মিয়া এবং আজাদ। অন্যদিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত চার আসামি হলেন— সুজন, সানোয়ার হোসেন, সফিক ও ইমন।
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, বিএনপি নেতা রফিকুল ইসলাম ২০১৩ সালের ২০ ডিসেম্বর সকালে প্রাতঃভ্রমণের উদ্দেশ্যে টাঙ্গাইল শহরের আকুরটাকুর এলাকার ভাড়া বাসা থেকে বের হন। তিনি আকুরটাকুর বটতলা বাজার এলাকায় পৌঁছালে একদল দুর্বৃত্ত ও সন্ত্রাসী তার ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। সেখানে তাকে প্রকাশ্যে গুলি করে ও কুপিয়ে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে তার লাশ উদ্ধার করে।
হত্যাকাণ্ডের পরদিন ২১ ডিসেম্বর রফিকুল ইসলামের ছোট ভাই লাভলু মিয়া টাঙ্গাইল সদর থানায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলাটির দীর্ঘ তদন্ত শেষে ২০১৫ সালের ১৩ আগস্ট আট আসামির বিরুদ্ধে আদালতে প্রথম অভিযোগপত্র (চার্জশিট) জমা দেন তৎকালীন জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) পরিদর্শক ও মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা অশোক কুমার সিংহ। তবে ডিবি পুলিশের দাখিল করা অভিযোগপত্রের বিরুদ্ধে মামলার বাদী লাভলু মিয়া আদালতে নারাজি আবেদন জানান।
পরবর্তীতে আদালতের নির্দেশে সিআইডি মামলাটি পুনরায় তদন্তের দায়িত্ব লাভ করে। দীর্ঘ পুনঃতদন্ত শেষে ২০১৮ সালের ২৯ এপ্রিল টাঙ্গাইল সিআইডির পরিদর্শক রফিক উদ্দিন আহম্মেদ আদালতে দ্বিতীয়বার অভিযোগপত্র জমা দেন। এই অভিযোগপত্রেও আগের আট জন আসামির বিরুদ্ধে হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার সুনির্দিষ্ট অভিযোগ আনা হয়। পরে টাঙ্গাইলের প্রথম অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতে আনুষ্ঠানিকভাবে চার্জ গঠনের মধ্য দিয়ে মামলাটির বিচারিক কার্যক্রম শুরু হয় এবং দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়ার পর আজ এই রায় ঘোষণা করা হলো।


























