গঠনতন্ত্র অনুযায়ী প্রতি তিন বছর পরপর নির্বাচন হওয়ার নিয়ম থাকলেও বিভিন্ন জটিলতার কারণে দীর্ঘ আট বছর পর অবশেষে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের কেন্দ্রীয়, ভ্যালি ও পঞ্চায়েত পর্যায়ের ত্রিবার্ষিক নির্বাচন। শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) শ্রীমঙ্গল শ্রম অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এই নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হবে এবং অধিদপ্তরের ওয়েবসাইটে তা প্রকাশ করা হবে। নির্ধারিত তফসিল অনুযায়ী আগামী ২৮ নভেম্বর সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত একটানা ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে দেশের ২৩১টি চা বাগান ও পঞ্চায়েত এলাকার প্রায় এক লাখ ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন।
নির্বাচন কমিশন ও শ্রমিক ইউনিয়ন সূত্রে জানা গেছে, এবারের নির্বাচনে বিভিন্ন পদে সাড়ে তিন হাজারের অধিক প্রার্থী এবং ছয় শতাধিক প্যানেল প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে। একই দিনে বাগানের ১৫ সদস্যের পঞ্চায়েত কমিটির সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক নির্বাচনের পাশাপাশি চা শ্রমিক ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক এবং লস্করপুর, বালিশিরা, মনু-ধলাই, লংলা, জুড়ী, সিলেট ও চট্টগ্রাম—এই সাতটি ভ্যালির শীর্ষ নেতৃত্ব নির্বাচনেও ভোট নেওয়া হবে। নির্বাচনে কেন্দ্রীয় সভাপতি পদে রামভাজন কৈরী, রাজু গোয়ালা ও পঙ্কজ কন্দ এবং সাধারণ সম্পাদক পদে নিপেন পাল ও পরেশ কালিন্দির নেতৃত্বাধীন প্যানেলগুলো ইতিমধ্যে প্রস্তুতি শুরু করেছে।
উল্লেখ্য, সর্বশেষ ২০১৮ সালের ২৪ জুন চা শ্রমিক ইউনিয়নের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল এবং ২০২১ সালে নতুন কমিটি আসার কথা থাকলেও দীর্ঘ আট বছর ধরে একই কমিটি দায়িত্ব পালন করে আসায় সাংগঠনিক কার্যক্রমে স্থবিরতা নেমে এসেছিল। সাধারণ চা শ্রমিকেরা আশা প্রকাশ করেছেন যে, দীর্ঘ প্রতীক্ষিত এই নির্বাচনের মাধ্যমে উপযুক্ত ও সৎ নেতৃত্ব নির্বাচিত হবে, যারা দৈনিক মজুরি বৃদ্ধি, সময়মতো বেতন পরিশোধ, সন্তানদের সুশিক্ষা নিশ্চিতকরণ এবং সার্বিক জীবনমান উন্নয়নে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারবে।


























