মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যে গালফ অঞ্চলে কর্মরত এশিয়ার লাখো অভিবাসী শ্রমিক এখন কঠিন দ্বিধায় পড়েছেন—উচ্চ আয়ের চাকরি ধরে রাখবেন, নাকি প্রাণের ঝুঁকি এড়িয়ে দেশে ফিরে যাবেন।
কাতারে কর্মরত ফিলিপাইনের গৃহকর্মী নরমা টাক্টাকন জানান, প্রতিদিন সাইরেনের শব্দ ও আকাশে ক্ষেপণাস্ত্রের খবর তাকে আতঙ্কিত করে তোলে। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি হিসেবে তিনি বেঁচে থাকার জন্যই প্রার্থনা করছেন।
দীর্ঘ দুই দশক ধরে কাতার, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে কাজ করে তিনি পরিবারের ভবিষ্যৎ গড়ার চেষ্টা করেছেন। গালফ অঞ্চলে তার মাসিক আয় প্রায় ৫০০ ডলার, যা নিজ দেশে একই কাজের তুলনায় কয়েকগুণ বেশি। তবে বর্তমান যুদ্ধ পরিস্থিতি তাকে দেশে ফিরে যাওয়ার কথা ভাবতে বাধ্য করছে।
এই সংঘাতে ইতোমধ্যে কয়েকজন অভিবাসী শ্রমিক নিহত হয়েছেন। নেপালের নিরাপত্তাকর্মী দিবাস শ্রেষ্ঠ আবুধাবিতে ইরানি হামলায় নিহত হন। একইভাবে দুবাইয়ে ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষে প্রাণ হারান বাংলাদেশের আহমদ আলী, যিনি নিয়মিত পরিবারের জন্য অর্থ পাঠাতেন।
আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, মধ্যপ্রাচ্যে প্রায় ২ কোটি ৪০ লাখ অভিবাসী শ্রমিক কাজ করেন, যাদের বড় অংশই এশিয়ার বিভিন্ন দেশ থেকে আসা। এদের অনেকেই কম মজুরি ও ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশে কাজ করেন।
যুদ্ধের কারণে অনেক দেশ তাদের নাগরিকদের ফিরিয়ে নিতে উদ্যোগ নিয়েছে। ইতোমধ্যে হাজারো ফিলিপিনো ও বাংলাদেশি শ্রমিককে দেশে ফেরানো হয়েছে, যদিও বিমান চলাচলে বিঘ্ন ঘটায় অনেককে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে ফিরতে হচ্ছে।
তবে সবার জন্য ফিরে যাওয়া সম্ভব নয়। মিয়ানমারের গৃহযুদ্ধ থেকে বাঁচতে দুবাইয়ে আশ্রয় নেওয়া সু সু নামের এক কর্মী জানান, আতঙ্কের মধ্যেও তিনি কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন এবং জরুরি পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত রয়েছেন।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গালফ অঞ্চলের অর্থনীতি এখনও অভিবাসী শ্রমিকদের ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু যুদ্ধের ঝুঁকি বাড়তে থাকায় অনেকেই এখন জীবন ও জীবিকার মধ্যে কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হচ্ছেন।
















