চীনের সাম্প্রতিক সাবমেরিন থেকে উৎক্ষেপণযোগ্য দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশগুলোর প্রতি একটি কৌশলগত বার্তা বলে মনে করছেন নিরাপত্তা বিশ্লেষকেরা। তাদের মতে, এই পদক্ষেপের মাধ্যমে বেইজিং তার সামরিক সক্ষমতা ও দীর্ঘপাল্লার হামলার ক্ষমতা প্রদর্শনের পাশাপাশি আঞ্চলিক প্রভাবও তুলে ধরতে চেয়েছে।
চীনের রাষ্ট্রায়ত্ত সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, দেশটির নৌবাহিনীর একটি সাবমেরিন আন্তর্জাতিক জলসীমার দিকে প্রশিক্ষণমূলক একটি ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ করেছে। এতে কোনো প্রকৃত যুদ্ধাস্ত্র ছিল না এবং এটি নিয়মিত সামরিক মহড়ার অংশ বলে দাবি করেছে বেইজিং। একই সঙ্গে চীন জানিয়েছে, এই পরীক্ষা কোনো নির্দিষ্ট দেশকে লক্ষ্য করে পরিচালিত হয়নি।
তবে নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, ক্ষেপণাস্ত্রের উৎক্ষেপণের সময়, গতিপথ এবং সামগ্রিক প্রেক্ষাপট বিবেচনায় এটি ছিল একটি সুস্পষ্ট রাজনৈতিক ও সামরিক বার্তা। তাদের ধারণা, অস্ট্রেলিয়া, প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপরাষ্ট্র এবং যুক্তরাষ্ট্রের আঞ্চলিক অংশীদারদের উদ্দেশেই এই শক্তি প্রদর্শন করা হয়েছে।
সম্প্রতি অস্ট্রেলিয়া ও একটি প্রশান্ত মহাসাগরীয় দেশের মধ্যে পারস্পরিক প্রতিরক্ষা সহযোগিতা চুক্তি স্বাক্ষরের পরপরই এই ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে বৃহৎ সামরিক মহড়াও চলছিল। ফলে ঘটনাটিকে আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির সঙ্গে সম্পৃক্ত বলেই দেখছেন বিশেষজ্ঞরা।
এই ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার সমালোচনা করেছে জাপান, অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড ও তাইওয়ান। কয়েকটি দেশ অভিযোগ করেছে, পরীক্ষার আগে তাদের খুব অল্প সময়ের নোটিশ দেওয়া হয়েছিল।
বিশ্লেষকদের মতে, ক্ষেপণাস্ত্রের সম্ভাব্য গতিপথ এমন একটি সামুদ্রিক করিডর অতিক্রম করেছে, যা আঞ্চলিক সংঘাতের ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই পথটি যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটি ও গুরুত্বপূর্ণ নৌপথের সঙ্গে সম্পর্কিত হওয়ায় ভবিষ্যৎ যেকোনো সংঘাতে এর কৌশলগত গুরুত্ব রয়েছে।
আরও বলা হচ্ছে, এই পরীক্ষা তাইওয়ানকে সরাসরি লক্ষ্য না করলেও ভবিষ্যতে তাইওয়ানকে কেন্দ্র করে কোনো সংঘাত দেখা দিলে যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য সামরিক সহায়তার পথ ঝুঁকির মধ্যে ফেলতে পারে—এমন সক্ষমতার ইঙ্গিত দিয়েছে চীন।
তবে অন্য একদল বিশ্লেষক মনে করছেন, এই পদক্ষেপ শেষ পর্যন্ত চীনের জন্য উল্টো ফল বয়ে আনতে পারে। কারণ ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার পর প্রশান্ত মহাসাগরীয় দেশগুলো নিরাপত্তা সহযোগিতার ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র ও অস্ট্রেলিয়ার আরও ঘনিষ্ঠ হতে পারে।
চীন এর আগেও দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালিয়েছিল। তবে সাম্প্রতিক এই পরীক্ষা দেশটির পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি নিয়ে আন্তর্জাতিক উদ্বেগকে আবারও সামনে নিয়ে এসেছে।
















