ভারতে পেট্রোলে জৈবজ্বালানির ব্যবহার বাড়ানোর সরকারি সিদ্ধান্তকে ঘিরে দেশজুড়ে বিতর্ক ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। সরকার বলছে, আমদানি করা জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমানো, কৃষকদের সহায়তা এবং পরিবেশ রক্ষার লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে বহু গাড়িচালক অভিযোগ করছেন, অধিকাংশ পুরোনো যানবাহন এই নতুন জ্বালানির জন্য উপযোগী নয়, ফলে ইঞ্জিনের কার্যক্ষমতা কমে যাচ্ছে এবং রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় বাড়ছে।
সরকার কয়েক মাস আগে থেকে সব জ্বালানি কেন্দ্রে বিশ শতাংশ জৈবজ্বালানি মিশ্রিত পেট্রোলকে সাধারণ মান হিসেবে চালু করেছে। যদিও জৈবজ্বালানি ছাড়া পেট্রোল এখনও পাওয়া যায়, তবে এর দাম তুলনামূলকভাবে অনেক বেশি হওয়ায় অধিকাংশ চালক বাধ্য হয়ে নতুন মিশ্রণের জ্বালানিই ব্যবহার করছেন।
নতুন ব্যবস্থা চালুর পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইঞ্জিনের ক্ষয়, জ্বালানি দক্ষতা কমে যাওয়া এবং গাড়ির কর্মক্ষমতা হ্রাসের অভিযোগ বাড়তে থাকে। সম্প্রতি রাজধানীতে গাড়িচালকদের অংশগ্রহণে এক বিক্ষোভেও এসব অভিযোগ তুলে ধরা হয়।
সরকার এসব অভিযোগকে বিভ্রান্তিকর বলে উড়িয়ে দিয়েছে। সরকারের দাবি, দীর্ঘ সময় ধরে পরীক্ষার পরই নতুন জ্বালানি চালু করা হয়েছে এবং এতে ইঞ্জিনের কোনো ক্ষতি হয় না। একই সঙ্গে দেশের কয়েকটি বড় মোটরগাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠানও জানিয়েছে, তাদের দীর্ঘমেয়াদি পরীক্ষা ও সেবার অভিজ্ঞতায় ব্যাপক ক্ষতির কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
তবে নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলো স্বীকার করেছে, এই জ্বালানি ব্যবহারে গাড়ির জ্বালানি দক্ষতা কিছুটা কমে যায়। বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, জৈবজ্বালানির শক্তি তুলনামূলক কম হওয়ায় প্রতি লিটার জ্বালানিতে আগের তুলনায় কম দূরত্ব অতিক্রম করা সম্ভব হয়।
সরকারের তথ্য অনুযায়ী, দেশীয়ভাবে উৎপাদিত জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানোর ফলে আমদানি ব্যয় কমবে এবং কৃষিপণ্য থেকে তৈরি জৈবজ্বালানির নতুন বাজার সৃষ্টি হবে। আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারের অস্থিরতার মধ্যেও এই নীতিকে দীর্ঘমেয়াদে লাভজনক বলে মনে করছে সরকার।
তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, বিশ্বের অন্যান্য দেশ ধাপে ধাপে জৈবজ্বালানি উপযোগী যানবাহন তৈরি করার পর উচ্চমাত্রার মিশ্রণ চালু করেছে। কিন্তু ভারতে তুলনামূলক অল্প সময়ের মধ্যেই এই পরিবর্তন আনা হয়েছে, যখন দেশের অধিকাংশ পুরোনো যানবাহন এখনো নতুন জ্বালানির জন্য প্রস্তুত নয়।
বিভিন্ন গাড়ি মেরামতকেন্দ্রের কর্মীরা জানিয়েছেন, কিছু পুরোনো মোটরসাইকেল ও গাড়িতে জ্বালানি ব্যবস্থায় ময়লা জমা, কর্মক্ষমতা কমে যাওয়া এবং অতিরিক্ত পরিষ্কারের প্রয়োজনীয়তা দেখা যাচ্ছে। যদিও সব ক্ষেত্রে একই ধরনের সমস্যা পাওয়া যায়নি।
বিশেষজ্ঞরা আরও বলছেন, দীর্ঘ সময় ব্যবহারের পর জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় ক্ষয় বা মরিচা ধরার ঝুঁকি থাকতে পারে। তবে নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ করা হলে অনেক ক্ষেত্রেই এসব সমস্যা এড়ানো সম্ভব।
এদিকে নতুন জ্বালানি ব্যবহারের কারণে সম্ভাব্য ক্ষতি হলে নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের নিশ্চয়তা বা বিমা সুবিধা কীভাবে কার্যকর হবে, তা নিয়েও এখনো স্পষ্টতা নেই। এই অনিশ্চয়তা সাধারণ গাড়িচালকদের উদ্বেগ আরও বাড়িয়ে তুলেছে।















