মালিতে সাম্প্রতিক সমন্বিত জঙ্গি হামলাকে ঘিরে পশ্চিম আফ্রিকার নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, মালিতে সক্রিয় জঙ্গিগোষ্ঠীর ক্রমবর্ধমান সক্ষমতা শুধু দেশটির জন্য নয়, প্রতিবেশী নাইজেরিয়াসহ পুরো অঞ্চলের জন্যও বড় নিরাপত্তা ঝুঁকির ইঙ্গিত দিচ্ছে।
বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে গ্রামীণ এলাকাভিত্তিক সশস্ত্র গোষ্ঠীটি ধীরে ধীরে আরও সংগঠিত ও শক্তিশালী রূপ নিয়েছে। বর্তমানে তারা বড় পরিসরের সমন্বিত হামলা, নগর এলাকায় অভিযান, বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীর সঙ্গে সমন্বয় এবং আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের সক্ষমতা অর্জন করেছে। একই সঙ্গে পশ্চিম আফ্রিকার উপকূলীয় অঞ্চলের দিকে তাদের প্রভাব বিস্তারের চেষ্টাও বাড়ছে।
নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে, মালির সামরিক সরকারের বিরুদ্ধে এই গোষ্ঠীর তৎপরতা সফল হলে দেশটি জঙ্গিদের নিরাপদ আশ্রয় ও প্রশিক্ষণকেন্দ্রে পরিণত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এমন পরিস্থিতি প্রতিবেশী দেশগুলোর নিরাপত্তাকেও সরাসরি প্রভাবিত করতে পারে। বিশেষ করে নাইজারের অস্থিতিশীলতা বাড়লে তা নাইজেরিয়ার সীমান্ত নিরাপত্তার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে।
বিশ্লেষণে আরও বলা হয়েছে, পশ্চিম আফ্রিকার বিভিন্ন দেশে সক্রিয় সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে সহযোগিতা বাড়ার লক্ষণও দেখা যাচ্ছে। যদি এসব গোষ্ঠীর মধ্যে সমন্বয় আরও শক্তিশালী হয়, তাহলে তাদের মোকাবিলা করা সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর নিরাপত্তা বাহিনীর জন্য আরও কঠিন হয়ে পড়বে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সীমান্তবর্তী ও প্রত্যন্ত এলাকায় সরকারি উপস্থিতি দুর্বল হওয়ায় সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো সহজেই প্রভাব বিস্তার করতে পারছে। ভূমি, সম্পদ এবং স্থানীয় বিরোধকে কাজে লাগিয়ে তারা নিজেদের বিকল্প কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছে। ফলে নিরাপত্তা সংকটের পাশাপাশি সুশাসনের ঘাটতিও জঙ্গিবাদের বিস্তারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
বিশ্লেষকদের মতে, কেবল সামরিক অভিযান দিয়ে এই সংকট মোকাবিলা সম্ভব নয়। নিরাপত্তা ব্যবস্থার পাশাপাশি অর্থনৈতিক উন্নয়ন, স্থানীয় জনগণের আস্থা বৃদ্ধি, কার্যকর প্রশাসনিক উপস্থিতি এবং আঞ্চলিক সহযোগিতা জোরদার করা জরুরি। একই সঙ্গে উপকূলীয় দেশগুলোর মধ্যে সমন্বিত নিরাপত্তা উদ্যোগও আরও শক্তিশালী করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, নাইজেরিয়ার বর্তমান প্রতিরক্ষা কৌশলেও পরিবর্তন আনা প্রয়োজন। তাদের মতে, শুধু হামলার পর প্রতিক্রিয়া জানানো নয়, বরং পরিকল্পিত ও আগাম অভিযান পরিচালনার মাধ্যমে জঙ্গিগোষ্ঠীর সক্ষমতা দুর্বল করার দিকে গুরুত্ব দিতে হবে। তা না হলে পশ্চিম আফ্রিকাজুড়ে সশস্ত্র চরমপন্থী গোষ্ঠীগুলোর বিস্তার আরও বড় আঞ্চলিক নিরাপত্তা সংকটে পরিণত হতে পারে।
















