ইউক্রেনকে নিজস্ব আকাশ প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদনের অনুমতি দিতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, এ জন্য ইউক্রেনকে প্রয়োজনীয় উৎপাদন লাইসেন্স দেওয়া হবে, যাতে তারা নিজেদের শিল্প সক্ষমতা ব্যবহার করে এই প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা তৈরি করতে পারে।
উত্তর আটলান্টিক সামরিক জোটের শীর্ষ সম্মেলনের যৌথ সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্প বলেন, ইউক্রেনকে এমন লাইসেন্স দেওয়া হবে যাতে তারা নিজস্বভাবে এই ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করতে পারে। তার ভাষায়, এতে অস্ত্র সরবরাহের ঘাটতি নিয়ে অভিযোগের সুযোগও কমে আসবে।
দীর্ঘদিন ধরেই ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি রাশিয়ার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা মোকাবিলায় আরও উন্নত আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা চেয়ে আসছেন। তবে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্র দেশগুলোর মজুত কমে যাওয়ায় পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়েছে।
জেলেনস্কি বলেছেন, বর্তমান যুদ্ধে ইউক্রেন অনেক ক্ষেত্রেই নিজস্ব সক্ষমতার ওপর নির্ভর করতে পারলেও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধ ব্যবস্থার ক্ষেত্রে এখনও আন্তর্জাতিক সহায়তা অপরিহার্য। তার মতে, বর্তমান বৈশ্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি দেখিয়ে দিয়েছে যে বিদ্যমান উৎপাদন সক্ষমতা ক্রমবর্ধমান চাহিদা পূরণে যথেষ্ট নয়।
ট্রাম্প আরও জানান, ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট মার্কিন প্রতিরক্ষা শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে এ বিষয়ে আলোচনা করা হয়নি। তবে তিনি আশা প্রকাশ করেন, তারা এই উদ্যোগে সহযোগিতা করবে।
তিনি জানান, খুব শিগগিরই একটি মার্কিন বিশেষজ্ঞ দল ইউক্রেনে সফর করবে। সেখানে দেশটির শিল্পখাতকে নিজস্বভাবে এই প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় প্রযুক্তিগত সহায়তা ও নির্দেশনা দেওয়া হবে।
ইতোমধ্যে ইউক্রেন যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় মিত্রদের কাছ থেকে একাধিক আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা পেয়েছে। তবে চলমান যুদ্ধে গোলাবারুদের মজুত দ্রুত কমে আসছে এবং নতুন সরবরাহও আগের তুলনায় সীমিত হয়ে পড়েছে। একই সময়ে রাশিয়ার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার মাত্রা বাড়ায় ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা আরও জোরদারের প্রয়োজনীয়তা সামনে এসেছে।
এদিকে আন্তর্জাতিক বাজারেও এই প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার চাহিদা বৃদ্ধি পাওয়ায় বিভিন্ন দেশের সরবরাহ সময়সূচিতে বিলম্ব দেখা দিয়েছে। ফলে কিছু দেশ বিকল্প প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বিবেচনাও শুরু করেছে।
















