ঘূর্ণিঝড় গেজানির আঘাতে মোজাম্বিকের দক্ষিণ উপকূলীয় প্রদেশ ইনহামবানেতে অন্তত চারজন নিহত হয়েছেন বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
শনিবার মোজাম্বিকে এ প্রাণহানির ঘটনা ঘটে। এর আগের দিন ঝড়টি মাদাগাস্কার অতিক্রম করে অন্তত ৪১ জনের মৃত্যু ঘটায় এবং ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ চালায়।
আবহাওয়াবিদদের বরাতে জানা গেছে, ঝড়ের সময় ঘণ্টায় প্রায় ২১৫ কিলোমিটার বেগে বাতাস বয়ে যায়। এতে বহু গাছ ও বিদ্যুৎ লাইন উপড়ে পড়ে এবং ১৩ হাজারের বেশি মানুষ বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়েন বলে জাতীয় বিদ্যুৎ সংস্থা জানিয়েছে। ইনহামবানেতে বিভিন্ন এলাকায় পানির সরবরাহও বন্ধ হয়ে যায়। শহরটিতে প্রায় এক লাখ মানুষের বসবাস।
মোজাম্বিক সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ঘন ঘন প্রাকৃতিক দুর্যোগের শিকার হচ্ছে, যা জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবের সঙ্গে সম্পর্কিত বলে বিজ্ঞানীরা মনে করেন। সম্প্রতি ভয়াবহ বন্যায় দেশটিতে সাত লাখের বেশি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হন এবং প্রায় এক লাখ সত্তর হাজার ঘরবাড়ি নষ্ট হয়।
মাদাগাস্কারে সরকার জাতীয় জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছে। প্রাথমিক হিসাবে প্রায় ১৪২ মিলিয়ন ডলারের ক্ষতি হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। সেখানে অন্তত ৪২৭ জন আহত এবং প্রায় ১৬ হাজার ৩০০ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন।
মঙ্গলবার ঘূর্ণিঝড়ের কেন্দ্র দেশটির দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর তুয়ামাসিনার ওপর দিয়ে অতিক্রম করে। প্রায় চার লাখ জনসংখ্যার এ শহরের ৭৫ থেকে ৮০ শতাংশ এলাকা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।
বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির মাদাগাস্কার প্রধান তানিয়া গুসেন্স বলেন, তুয়ামাসিনায় ধ্বংসযজ্ঞের মাত্রা অত্যন্ত ভয়াবহ। শহরটিতে মাত্র পাঁচ শতাংশ বিদ্যুৎ সরবরাহ চালু আছে এবং পানির সরবরাহ নেই। সংস্থাটির কার্যালয় ও একটি গুদামও সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়েছে বলে তিনি জানান।
















