যুক্তরাজ্যের উচ্চ আদালত ফিলিস্তিন অ্যাকশনকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে ঘোষণার সরকারি সিদ্ধান্তকে বেআইনি বলার পর সংগঠনটির সহপ্রতিষ্ঠাতা হুদা আম্মোরি একে ‘ফিলিস্তিনের জন্য বিজয়’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
শুক্রবার আদালত রায়ে বলেন, ফিলিস্তিন অ্যাকশনকে নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত ছিল অসামঞ্জস্যপূর্ণ। এর আগে গত জুনে ব্রিটিশ সরকার সংগঠনটিকে আইএসআইএল ও আল-কায়েদার মতো গোষ্ঠীর কাতারে রেখে নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছিল, যা নিয়ে মানবাধিকার সংস্থা ও লেখক-সাংবাদিকদের মধ্যে তীব্র সমালোচনা তৈরি হয়।
হুদা আম্মোরি বলেন, সরকারের এই পদক্ষেপ উল্টো ফল দিয়েছে। তার ভাষায়, নিষেধাজ্ঞার ফলে ফিলিস্তিন অ্যাকশন সারা দেশে পরিচিত নাম হয়ে উঠেছে এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে অস্ত্র কারখানা বন্ধের আহ্বান ছড়িয়ে পড়েছে।
২০২০ সালে প্রতিষ্ঠিত সংগঠনটির লক্ষ্য ইসরায়েলি যুদ্ধাপরাধ ও তাতে ব্রিটিশ সম্পৃক্ততার প্রতিবাদ জানানো। তারা বিশেষ করে ইসরায়েলের বৃহত্তম অস্ত্র কোম্পানির যুক্তরাজ্যভিত্তিক স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করে কর্মসূচি পরিচালনা করে আসছে।
আম্মোরি বলেন, সরাসরি পদক্ষেপের মাধ্যমে তারা অস্ত্র উৎপাদন ও সরবরাহ বন্ধ করতে চান। তার মতে, নিরীহ মানুষের প্রাণ বাঁচাতে সম্পদের ক্ষতি হলে তা ন্যায্য।
গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযানের পর থেকে সংগঠনটি সরকারপ্রধান কিয়ার স্টারমারের জন্য রাজনৈতিক চাপের কারণ হয়ে ওঠে। সংগঠন-সংশ্লিষ্ট কর্মীরা বিভিন্ন স্থাপনায় ঢুকে লাল রঙ ছিটিয়ে প্রতিবাদ জানায়।
ফিলটন ২৪ নামে পরিচিত কয়েকজন কর্মী ব্রিস্টলে একটি অস্ত্র কারখানায় অনুপ্রবেশের অভিযোগে আটক রয়েছেন। আরও কয়েকজনের বিরুদ্ধে একটি বিমানঘাঁটিতে প্রবেশ করে বিমান রঙ করার অভিযোগ রয়েছে। তারা সকলেই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। সম্প্রতি ছয়জনকে গুরুতর চুরির অভিযোগ থেকে খালাস দেওয়া হয়েছে।
আদালত মন্তব্য করেছে, সংগঠনটি তাদের রাজনৈতিক উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডকে উৎসাহিত করেছে এবং কিছু পদক্ষেপ সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের পর্যায়ে পড়তে পারে।
নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে হাজারো মানুষ রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ করেছেন। প্রায় তিন হাজার মানুষ প্ল্যাকার্ড বহনের অভিযোগে গ্রেপ্তার হন। আম্মোরি অভিযোগ করেন, সরকার বেআইনি সিদ্ধান্ত নিয়ে নিজেদের নাগরিকদের বিরুদ্ধে ব্যাপক গ্রেপ্তার অভিযান চালিয়েছে।
তবে রায়ের পরও আপিল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকবে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাবানা মাহমুদ রায়ে হতাশা প্রকাশ করে আপিলের ইচ্ছা জানিয়েছেন। এ নিয়ে মানবাধিকার সংগঠন ও কিছু আইনপ্রণেতা সরকারকে রায় মেনে নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
আম্মোরি বলেন, আপিল হলেও তারা আবারও আইনি লড়াই জিতবেন এবং নিষেধাজ্ঞা শেষ পর্যন্ত প্রত্যাহার হবে।
















