রুশ বিরোধী নেতা Alexey Navalny-এর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে নতুন করে তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়েছে। যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, জার্মানি, সুইডেন ও নেদারল্যান্ডস দাবি করেছে, পরীক্ষাগারে পাওয়া ফলাফলে প্রমাণ হয়েছে তাকে প্রাণঘাতী বিষ প্রয়োগে হত্যা করা হয়েছে।
পাঁচ দেশের যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়, তার দেহ থেকে নেওয়া নমুনায় ইপিবাটিডিন নামের বিষাক্ত উপাদান পাওয়া গেছে, যা দক্ষিণ আমেরিকার বুনো ডার্ট ব্যাঙে স্বাভাবিকভাবে পাওয়া যায়। তাদের ভাষ্য, রাশিয়ার এ বিষ প্রয়োগের সক্ষমতা, উদ্দেশ্য ও সুযোগ—সবই ছিল।
তবে রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মারিয়া জাখারোভা বলেছেন, পরীক্ষার পূর্ণাঙ্গ ফলাফল প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত এ বিষয়ে মন্তব্য করা হবে না। তিনি এসব অভিযোগকে পশ্চিমা প্রচারণা বলেও ইঙ্গিত দেন।
২০২৪ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি আর্কটিক অঞ্চলের একটি দণ্ডশিবিরে ১৯ বছরের কারাদণ্ড ভোগের সময় নাভালনির মৃত্যু হয়। তিনি প্রেসিডেন্ট Vladimir Putin-এর কট্টর সমালোচক ছিলেন এবং দুর্নীতিবিরোধী আন্দোলনের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন।
ইপিবাটিডিন শ্বাসকষ্ট, খিঁচুনি ও হৃদস্পন্দন ধীর করে দিতে পারে এবং স্পর্শেই প্রাণঘাতী হতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন। ইউরোপীয় দেশগুলো বলছে, রাসায়নিক অস্ত্র নিষিদ্ধকরণ সনদ লঙ্ঘনের অভিযোগে তারা রাশিয়ার বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক সংস্থায় অভিযোগ জানাবে।
মিউনিখে অনুষ্ঠিত নিরাপত্তা সম্মেলনের ফাঁকে ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইভেট কুপার নাভালনির স্ত্রী ইউলিয়া নাভালনয়ার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। নাভালনয়া বলেন, তার স্বামীর হত্যাকাণ্ড এখন বিজ্ঞানসম্মতভাবে প্রমাণিত সত্য।
রুশ কর্তৃপক্ষ বরাবরই হত্যার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছে, নাভালনি অসুস্থ হয়ে স্বাভাবিক কারণে মারা গেছেন।
উল্লেখ্য, ২০২০ সালেও একবার স্নায়ুবিষ প্রয়োগের অভিযোগে অসুস্থ হয়ে জার্মানিতে চিকিৎসা নেন নাভালনি। দেশে ফেরার পরপরই তাকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং জীবনের বাকি সময় কারাগারেই কাটান।
















